ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই


ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) তাদের প্রায় ২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপ খরচ কমানো এবং মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারভিত্তিক পুনর্গঠন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লাকি স্ট্রাইক ও ডানহিল সিগারেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা প্রায় পাঁচ হাজার ৫০০ কর্মী ছাঁটাই করবে। এছাড়া প্রায় তিন হাজার ৫০০টি পদ অ্যাকসেঞ্চারসহ বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হবে।

অ্যাকসেঞ্চার হল আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন-ভিত্তিক একটি বহুজাতিক প্রযুক্তি পরামর্শক ও পেশাদার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে মোট প্রায় নয় হাজার কর্মী ছাঁটাই হবে। তবে কোম্পানির সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনার বাইরে থাকবে।

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ট্রাম্প

বিএটি জানিয়েছে, তাদের প্রধান আয়ের উৎস প্রচলিত তামাকপণ্যের ব্যবসা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সুতরাং প্রতিষ্ঠানটি ধূমপানের বিকল্প নতুন পণ্যের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে কোন দেশ বা অঞ্চলে কর্মী ছাঁটাই করা হবে সেই বিষয়ে বিস্তৃত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিএটি জানিয়েছে, এই পুনর্গঠন কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে বছরে অতিরিক্ত ৬০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে ৫০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। লেনদেন চলাকালে কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে যায়। যা একই সময়ে এফটিএসই ১০০ সূচকের তুলনায় দুর্বল পারফরম্যান্স।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই বিএটি ইঙ্গিত দিয়েছিল, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। তবে ছাঁটাইয়ের পরিমাণ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান কুইল্টার শেভিয়টের বিশ্লেষক ক্রিস বেকেট বলেন, শেয়ারের দামের পতন থেকে বোঝা যায় যে বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, মধ্যমেয়াদী ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিএটিকে ভবিষ্যতে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

আরও পড়ুন: পুতিনের মুখে ইলন মাস্কের ‘রিয়েল জিনিয়াস’ প্রশংসা

বিএটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাদেউ মারোকো বলেছেন, এই পুনর্গঠন কর্মসূচি কোম্পানিটিকে আরো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম, ব্যয়-সাশ্রয়ী এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের ফলে আমাদের অনেক সহকর্মী প্রভাবিত হবেন। আমরা তাদের প্রতি যত্ন ও সম্মান বজায় রেখে এই পরিবর্তনের সময় সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোম্পানিটির বিক্রি ও মুনাফা বৃদ্ধির গতি ধীর ছিল। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে অথবা অল্প ব্যবধানে তা অর্জন করেছে। যা কিছু বিনিয়োগকারীকে হতাশ করেছে। মাঝারি মেয়াদে প্রতি বছর ৩ থেকে ৫ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএটি।

বিশ্লেষক ক্রিস বেকেটের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু তামাক ব্যবসার পুনর্গঠনের প্রতিফলন নয় বরং বিএটির নতুন ধরনের ধূমপান-সংক্রান্ত পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়ারও ইঙ্গিত। এর মধ্যে রয়েছে ভিউজ ই-সিগারেট (ভেপ) এবং ভেলো নিকোটিন পাউচ, যেগুলো উৎপাদনে তুলনামূলক কম শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। কোম্পানিটি জানিয়েছে, গত ১৮ থেকে ২৪ মাস ধরে তারা উৎপাদন কার্যক্রম আরো দক্ষ করার উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্তও আগেই ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান সরকার ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে: সুলাইমান খান

বিএটির ধারণা, এ বছর প্রচলিত তামাকপণ্যের বিক্রি প্রায় ২.৫ শতাংশ কমবে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি ভিউজ ভেপ ও ভেলো নিকোটিন পাউচের মতো নতুন পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। তবে এই বাজারে তারা এখনো প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনালের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ভেপজাতীয় পণ্যের অনুমোদন পেতে কঠোর নিয়মের কারণে বাজারে পণ্য আনতে দেরি হচ্ছে। বিএটির মতে, এর সুযোগ নিয়ে অবৈধ চীনা পণ্যের বিক্রি বেড়েছে। যা তাদের বিক্রি ও বাজার দখলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক ধূমপায়ী সস্তা ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকছেন।

অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে বাড়তি কর, কঠোর নিয়ম এবং অবৈধ তামাক ব্যবসার কারণে কোম্পানিটি চাপে রয়েছে। বিএটি জানিয়েছে, কর্মীদের বেশিরভাগ পদ পরিবর্তনের বিষয়টি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী আলোচনা করে ঠিক করা হচ্ছে।

বিএটি জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা পদগুলোর মধ্যে রয়েছে কোস্টারিকা, মেক্সিকো, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও মালয়েশিয়ায় অবস্থিত তাদের গ্লোবাল সার্ভিস হাবের বিভিন্ন চাকরি। এ ছাড়া পাকিস্তানের কিছু পদ এবং পোল্যান্ড ও রোমানিয়ার কিছু ডিজিটাল ও প্রযুক্তি-সংক্রান্ত পদও অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কোম্পানিটির মতে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং কার্যক্রম দক্ষ করা হবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় তিন বছর পেছাল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ পি.এম


বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই করার জন্য দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য আনা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সম্প্রতি তিনি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত এক টক শোতে অংশ নিয়ে এই কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি, নতুন উড়োজাহাজ কেনা এবং প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্যনীতির মূল ভিত্তি হলো— বাণিজ্য হতে হবে মুক্ত, ন্যায্য ও পারস্পরিক। বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর পরিমাণে তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেও, সে তুলনায় সেখান থেকে পণ্য আমদানি করে খুবই কম। একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের জন্য নিয়ম হলো, যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করবে, তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও পণ্য কিনতে হবে।

রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন, বিশ্বের সব দেশ যদি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করে; কিন্তু নিজেদের কিছু না কেনে, তবে তা দীর্ঘ মেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই টেকসই হবে না। এই বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফিরে আনতে এবং সম্পর্ক আরো জোরদার করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’তে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ যেমন আকর্ষণীয় শুল্ক সুবিধা পাবে, তেমনই এর শর্ত মেনে দেশের কাস্টমসব্যবস্থা, শ্রম খাত ও সামগ্রিক বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে। এই সংস্কারগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত জরুরি এবং ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত আরো জানান, দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য ঠিক করতে বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে মানসম্মত গম ও কৃষিপণ্য কিনছে। তিনি বলেন, মার্কিন গমে অপচয় মাত্র ২%, যেখানে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা গমের ২০% নষ্ট হতো। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ভবিষ্যতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। মার্কিন কোম্পানিগুলো তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী, তবে সরকার প্রদত্ত শর্তগুলো ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক হতে হবে।

রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেকেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে যান বা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা নেন। জাল কাগজপত্র এবং অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করার জন্য কাজ চলছে। বাংলাদেশ যেন বিশ্বের সেরা সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায়, বিশেষ করে যক্ষ্মা ও হামের মতো রোগ মোকাবেলায় মার্কিন সহায়তা চলছে। খুব শিগগিরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ বছরের একটি নতুন স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

রাষ্ট্রদূত জানান, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে ২৫০টি রিকশাকে লাল, সাদা ও নীল রঙে সাজানো হয়েছে, যা মার্কিন পতাকার রঙের সাদৃশ্য। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও স্বাধীনতার কাহিনী তুলে ধরার জন্য ‘ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ নামক প্রদর্শনী আয়োজিত হবে।

সবশেষে, বর্তমানে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দল নকআউট পর্বে ওঠায় বাংলাদেশের মানুষকে মার্কিন দলকে সমর্থন করার জন্য রাষ্ট্রদূত অনুরোধ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা

মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল চালু, একাডেমিক কার্যক্রম যথাযথভাবে নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টায় শিক্ষার্থীরা প্রথমে ক্লাস বর্জন করেন। পরে তারা মেডিকেল কলেজের সামনে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই সময় তারা সড়কে বাঁশ, চেয়ার ও বেঞ্চ ফেলে দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেন। এর ফলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং অনেক যানবাহন আটকা পড়ে। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দুপুর ১২টায় তারা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

বিক্ষোভের সময় বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম সাকিব, পিয়াস চন্দ্র দাস, আজহারুল ইসলাম, ফয়সাল বাদশা, তানভীর আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শীর্ষেন্দু বিশ্বাস রোহান এবং কে এম সাজিদ।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে ২০২৪ সালের ২৪ জুন এবং পরে দ্বিতীয় দফায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৬ সালে এসেও বিভিন্ন অজুহাতে হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে না। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ তিন মাসের মধ্যে চালু করতে পারলে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এত বছরেও কেন চালু করা যাচ্ছে না, সেটির উত্তর দিতে হবে।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, তারা বারবার আশ্বাস পেলেও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি, যাহা তাদের হতাশ করেছে। তাই তারা সরকারের কাছ থেকে হাসপাতাল চালুর বিষয়ে একটি লিখিত রোডম্যাপ চান। লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না বলেও ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, হাসপাতাল চালুসহ বিভিন্ন দাবির বাস্তবায়ন আদায়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা গত ২১ জুন থেকে লাগাতার ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাতের মেহেদির রঙ শুকানোর আগেই ঝরে গেল মজনুর প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


হাতের মেহেদির রঙ শুকানোর আগেই ঝরে গেল মজনুর প্রাণ

বিয়ের মাত্র এক মাস পূর্ণ, হাতের মেহেদির রঙ এখনও পুরোপুরি ওঠেনি। এর মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মজনু (২৭) নামে একজন যুবক।

এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৯ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার আনন্দধাম ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে।

নিহত মজনু ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের নিজাম উদ্দীনের ছেলে, তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট ভাই পলাশকে ঢাকাগামী বাসে তুলে দিতে সোমবার রাতে আলমডাঙ্গা বাস টার্মিনালে যান মজনু। ভাইকে বাসে তুলে দেওয়ার পর মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় আনন্দধাম ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে পৌঁছানোর পর সড়কে পড়ে থাকা পাথরের ওপর মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছলে যায়। এ সময় তিনি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা নিজাম উদ্দীন বলেন, প্রায় এক মাস আগে কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানার ধুলি শ্রীপুর গ্রামে পারিবারিকভাবে মজনুর বিয়ে হয়েছে। ওই বিয়েতে ছোট ছেলে পলাশ ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলেন। সোমবার রাতে পলাশকে ঢাকাগামী বাসে তুলে দিতে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন মজনু।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার ড্রেন নির্মাণকাজের জন্য সড়কে ফেলে রাখা পাথরের কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তারা এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা’র অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মরদেহটি পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুব কর্মসংস্থানে ১০ প্রকল্প চলমান, যুক্ত হচ্ছে নতুন ৬টি: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ পি.এম


যুব কর্মসংস্থানে ১০ প্রকল্প চলমান, যুক্ত হচ্ছে নতুন ৬টি: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সংসদ ভবন, ৩০ জুন, ২০২৬ : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, দেশের বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের (ডিওয়াইডি) আওতায় বর্তমানে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ে দৃশ্যমান ফল অর্জনের লক্ষ্যে আরও ছয়টি নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের (জামালপুর-৩) টেবিলে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের বেকার যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা।

তিনি জানান, বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য 'টেকনোলজি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার অন হুইলস' (দ্বিতীয় পর্যায়), 'দারিদ্র্য বিমোচনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা' (তৃতীয় পর্যায়), যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও জাতীয় যুব প্ল্যাটর্ফম শক্তিশালীকরণ (লাইফ স্কিলস প্রকল্প), শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা (এনইইটি) যুবকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ইএআরএন প্রকল্প, কক্সবাজারে নারী ও যুবকদের দক্ষতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি করার আইএসইসি প্রকল্প, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নতুন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, ৬৪ জেলায় আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি (দ্বিতীয় পর্যায়), ৬৪ জেলায় শিক্ষিত চাকরিপ্রত্যাশী যুবকদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ এবং আইসিটি-দক্ষ যুবকদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্পের পাশাপাশি বেকার যুবকদের দ্রুত কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আরও ছয়টি অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারকরণ (দ্বিতীয় পর্যায়), যানবাহন চালনা প্রশিক্ষণ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়), শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সেবাদানে কেয়ারগিভার উন্নয়ন প্রকল্প, সব মহানগরে বেকার যুবকদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ এবং দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে মহানগর এলাকার বেকার যুবকদের জন্য মোবাইল সার্ভিসিং ও ভাষা প্রশিক্ষণ প্রকল্প।

তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেকার যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%