০২:২১ পি.এম
রাজশাহী, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : রাজশাহী মহানগরীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি ও আদর্শ রক্ষা এবং বছরের পর বছর সামাজিক-সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করতে ‘নজরুল ভিলেজ’ নির্মাণ করা হচ্ছে।
চলতি বছরের ১৮ জুলাই রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিপরীতের উন্মুক্ত স্থানে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এই পরিবেশবান্ধব ও ব্যতিক্রমী প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘নজরুল ভিলেজে’ একটি উন্মুক্ত ‘নজরুল মঞ্চ’ ও ‘নজরুল কর্নার’ নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে ভারী বা বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে না, যাতে এটি একটি সম্পূর্ণ খোলামেলা ও সর্বসাধারণের জন্য ব্যবহারযোগ্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন: গোদাগাড়ীতে অটোচালক শিহাব হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, এই মঞ্চে বছরজুড়ে নজরুলের সাহিত্য, নাটক, পালাগান ও নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে, যা নজরুল গবেষক ও নজরুল প্রেমীদের জন্য একটি স্থায়ী চর্চাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন উৎস থেকে ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ গঠনে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
শিল্পী ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রাঙ্গণটি ছায়াঘেরা ও নির্মল রাখতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বছরজুড়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে সারা বছর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে।
আরও পড়ুন: ডেভিস কাপ খেলতে ভিয়েতনাম যাচ্ছেন রাজশাহীর রাকীন রহমান
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু উদ্বোধনের সময় বলেছিলেন, ‘রাজশাহীর মাটিতে জাতীয় কবির স্মৃতি ও বিপ্লবী চেতনার বিস্তার ঘটাতে এই ‘নজরুল ভিলেজ’ একটি দূরদর্শী উদ্যোগ। আমাদের নতুন প্রজন্মকে নজরুল সাহিত্যের অসাম্প্রদায়িক ও দ্রোহের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে এই উন্মুক্ত কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে এই উদ্যোগকে ঘিরে বিপুল উদ্দীপনা দেখা গেছে।
স্থানীয় তরুণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, চার দেয়ালের আবদ্ধতা এড়িয়ে উন্মুক্ত স্থানে এমন একটি মঞ্চ তৈরি করায় এখানে যেকোনো সময় কবিতা পাঠ, চর্চা বা নাটকের মহড়া চালানো সম্ভব হবে, যা সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ও তরুণ সমাজকে যুক্ত রাখতে কার্যকর অবদান রাখবে।
সুমাইয়া নামের এক নারী বলেছেন, ‘আমাদের এই এলাকায় একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চের ভীষণ অভাব ছিল। বিশেষ করে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের এই মনোরম পরিবেশে যখন ‘নজরুল ভিলেজ’ ও ‘নজরুল মঞ্চ’ পুরোপুরি চালু হবে, তখন আমাদের তরুণ প্রজন্ম সংস্কৃতির সাথে যুক্ত হওয়ার দারুণ একটি জায়গা পাবে। এটি আমাদের এলাকার জন্য একটি গর্বের বিষয়।’
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবসের বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মী জাহিন বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের দ্রোহ ও প্রেমের কবি। তাঁকে শুধু বইয়ের পাতায় বা বিশেষ দিবসে স্মরণ না করে, বছরব্যাপী চর্চা করার জন্য এমন একটি উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ দরকার ছিল।
তিনি আরও বলেন, কোনো চার দেয়ালের বন্দী দালান না করে এটি উন্মুক্ত রাখায় আমরা যেকোনো সময় এখানে এসে কবিতা পাঠ বা নাটকের মহড়া করতে পারব, যা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন