বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৪ পি.এম
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত সুমন সিকদার (৩৮) কালেরকাঠী গ্রামের মৃত আদম আলী সিকদারের ছেলে এবং পেশায় ভ্যান চালক।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টায় উপজেলার কবাই ইউনিয়নের কালেরকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত রিগ্যান হাওলাদার, সুমন সিকদার ও মনা তালুকদার পলাতক রয়েছেন। রিগ্যান ওই এলাকার রফিক হাওলাদারের পুত্র। সে যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। সুমন সিকদার ওই এলাকার বাবুল সিকদারের পুত্র এবং মনা তালুকদার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ।
নিহত সুমনের মা মনোয়ারা বেগম জানান, স্থানীয় যুবদল নেতা রিগ্যানের সাথে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ীর সামনে তার ছেলের সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তর্কাতর্কি ও মারামারি হয়। একপর্যায়ে রিগ্যান ও তার সমর্থক মনা তালুকদার, সুমন সিকদারসহ ৮-১০ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমন শিকদারের মাথায়, হাতে, পায়েসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারি কোপায়। সুমনের মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে হত্যাকারীরা তাকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুরে ফেলে চলে যায়। থানা পুলিশ খবর পেয়ে সুমনকে পুকুর থেকে তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সত্যজিৎ দত্ত তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা ও নিহত সুমনের ছেলে তানভীর সিকদার জানায়, কিছুদিন পূর্বে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ মনা তালুকদার তার ছোট মা মনি বেগমের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক করে ভাগিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনা নিয়ে তার বাবার সাথে মনার পূর্বশত্রুতা ছিল।
ওসি আদিল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে দেশে দ্বিতীয় দফার বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ক্যাম্পেইনের জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ টিকা ইতোমধ্যে ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাগুলি ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবারের মধ্যে দেশে আসবে।
ঢাকার ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজে ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজঅ্যাবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল।
হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সরকার চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। জরুরি ভিত্তিতে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা প্রদান শুরু হয়। এরপর ১২ এপ্রিল চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় এই কর্মসূচি চালু হয়। ২০ এপ্রিল থেকে দেশের অন্যান্য স্থানে একই বয়সের শিশুদের জন্য টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়ে ২০ মে তা শেষ হয়।
কিন্তু ওই কর্মসূচির সমাপ্তির পরও হামের সংক্রমণ অব্যাহত থাকে। এরপর সরকার মপ-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রমের আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা প্রদান করা হয়েছে।
তবে সংক্রমণ সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে না আসায় আবার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হবে আগের কর্মসূচিতে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের টিকার আওতায় আনা।
এতে আগের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে টিকা না পাওয়া শিশু, কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া বা দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী শিশু এবং যেসব শিশুর নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ থাকবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকাদানের আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার কর্মসূচির জন্য পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাতেও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশে এসেছে এবং অবশিষ্ট টিকা ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পৌঁছাবে।
হামে মৃত্যু নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে কোনো টিকা মজুত ছিল না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। হামে মৃত্যুর জন্য বর্তমান সরকারের কোনো দায় নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারি হিসাবে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই পরিস্থিতির মধ্যেই দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে।
ডেঙ্গু নিয়েও প্রস্তুতির কথা জানালেন মন্ত্রী।
সেমিনারের পর ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকার হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে গুরুতর রোগীদের প্রয়োজন ছাড়া ঢাকার তৃতীয় স্তরের হাসপাতালগুলোতে পাঠানো না হয়।
তিনি জানান, টারশিয়ারি হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার বাইরে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। তার মতে, ঢাকার বাইরে চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক রোগী ঢাকায় চলে আসেন।
অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরাই রোগীদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেন, এমন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের মধ্যেও এক ধরনের ভীতি কাজ করে। সে কারণেই তারা রোগীদের ঢাকার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস শেডে মাসিক কল্যাণ সভা এবং অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী আয়োজিত এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খায়রুল কবীরের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণমূলক বিষয়, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, আবাসন, চিকিৎসা, ছুটি ও রেশন সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় পুলিশ সুপার পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সদস্যদের নিজেদের ও পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। তিনি শৃঙ্খলা, সততা, নিষ্ঠা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে জনগণের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছে দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
অপাভ্রান্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মুকুর চাকমার সঞ্চালনায় পুলিশ অফিস সম্মেলন কক্ষে জেলার মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মামলা তদন্তের অগ্রগতি, অপরাধের ধরন ও প্রবণতা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সার্কেল ও থানার কর্মকর্তাদের আরও বেশি সক্রিয় ও আন্তরিক হওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।
অনুষ্ঠানে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব, সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মিয়াজী আলিফ ইমরানসহ জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১ (জেলা বিশেষ শাখা), ডিবি ও ট্রাফিক পরিদর্শক এবং জেলা পুলিশের অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তা ও ফোর্সরা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রিটিশ আমলের গোড়ার দিকে ডাকাতিয়া নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মাছঘাট ছিল শুধুমাত্র একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, বরং এটি দেশের ইলিশ অর্থনীতির প্রধান হৃৎস্পন্দন হিসেবেও পরিচিত ছিল। এক সময় এই ঘাটের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অনেক রকম জৌলুস ও আভিজাত্যের ইতিহাস। প্রতিদিন ভোরে হাজার হাজার মণ রুপালি ইলিশের পসরা এবং বেচাকেনার হাঁকডাকে মুখরিত থাকত চারপাশ। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখানকার ইলিশ পৌঁছে যেত বিদেশি শৌখিন মানুষের ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত।
তবে সেই সোনালী দিনগুলোর গৌরব আজ শুধুই স্মৃতির পাতা হয়ে গেছে। বর্তমান মৌসুমেও এই ঐতিহ্যবাহী মাছঘাটে নেই চিরচেনা সেই কর্মব্যস্ততা। পদ্মা ও মেঘনার বুক চিরে ফিশিং বোট ভর্তি ইলিশ নিয়ে জেলেদের দল বেঁধে ঘাটে ভেড়ার দৃশ্য এখন আর তেমন একটা দেখা যায় না। সারি সারি ট্রলারের বদলে এখন সড়কপথে ছোট-বড় পিকআপ ভ্যানে করে আসা কিছু ঝুড়িভর্তি ইলিশ দিয়েই খুঁড়িয়ে চলছে এই ঐতিহ্যবাহী মোকামের কার্যক্রম। পাইকারি বিক্রি করার জন্য আড়তের সামনে ইলিশের স্তূপ নেই বললেই চলে।
ইলিশ সহ নদীতে ধরা কিছু মাছ টুরকিতে সাজিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের দখলে এখন পুরো মাছঘাট। আকাশছোঁয়া দাম এবং মধ্যবিত্তের হাহাকার নদী ও সাগরে ইলিশের দুষ্প্রাপ্যতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা ও পাইকারি বাজারে। ভরা মৌসুম চললেও ঘাটে সরবরাহ এতটাই কম যে বাজারের আগুনে পুড়ছে সাধারণ ক্রেতার পকেট। সম্প্রতি সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু এলাকায় দাম সামান্য কমলেও, তা এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে প্রায় তিন হাজার টাকা। দুই কেজি ওজনের বড় আকৃতির ‘রাজা ইলিশ’ কখনো কখনো সাড়ে চার হাজার টাকা কেজি দরেও বিক্রি হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।
ঢাকা কিংবা আশেপাশের জেলা থেকে ঘুরতে আসা শৌখিন ক্রেতা মহসিন পাটওয়ারী আক্ষেপ করে জানান, "নদীর পাড়ের মানুষ আমরা ঘাটে এসেও যদি চড়া দামে খালি হাতে ফিরতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের শখ কীভাবে মিটবে?"
এখনতো এই ঘাটে ভরপুর ইলিশ থাকার কথা, মাছ কৈ? যা আছে ইলিশের দামে আগুন! যে ঘাটে একসময় মৌসুমে কোটি কোটি টাকার ইলিশ বেচাকেনা হতো, আজ সেখানে মন্দার কালো ছায়া। পুঁজি হারিয়ে এবং ক্রমাগত লোকসানের বোঝায় অনেক আড়তদারই আজ প্রায় সর্বস্বান্ত। বরফকল মালিক, পরিবহন শ্রমিক থেকে শুরু করে ঘাটকেন্দ্রিক ছোট-বড় শত শত কর্মজীবী মানুষ আজ বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার জানান, নদীদূষণ, নাব্য সংকট এবং স্থানে স্থানে জেগে ওঠা ডুবোচরের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক গতিপথ ও প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি অসাধু জেলেদের একটি চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে ছোট জাটকা ও মা ইলিশ নিধন করছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক কঠোর অভিযানের কথা বললেও, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রকাশ করেছেন বড় ধরনের উদ্বেগের কথা। তিনি জানান, ইলিশ রক্ষায় পূর্বে ব্যবহৃত বিশেষ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং নতুন বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় রাজস্ব খাত থেকে এর ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত জনবল ও স্পিডবোট চালকের সংকটের কারণে আগামী অক্টোবর মাসের মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল করা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাঙালির প্রাণের খাবার এবং ঐতিহ্যের প্রতীক ইলিশকে বাঁচিয়ে রাখতে এখনই সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নদীর তলদেশের ডুবোচর খনন, শিল্পবর্জ্য দ্বারা নদীদূষণ রোধ, অবৈধ জালের বিস্তার কঠোরহস্তে দমন এবং মৎস্য বিভাগের প্রশাসনিক দুর্বলতা কাটিয়ে না উঠলে চাঁদপুর শুধু তার ইলিশের ঐতিহ্যই হারাবে না, মানচিত্র থেকে ফিকে হয়ে যাবে এই ঐতিহাসিক মাছঘাটের নামও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহাদাত আলী শাহুকে নওগাঁ থেকে আটক করার খবর শোনার পর রাজশাহীতে আনন্দ মিছিল করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মহানগরীর শাহ মখদুম থানার আমচত্বর এলাকায় এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মিছিলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৮০ থেকে ১০০ নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
মিছিলটি আমচত্বর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা শাহাদাত আলী শাহুকে আটক করার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
শাহাদাত আলী শাহু রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলরও ছিলেন। নওগাঁ থেকে তাঁর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ