০৪:২৮ পি.এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে (কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস) আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য নিজেদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (Problem Solving Capacity) বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিডিজব প্ল্যাটফর্মের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রিপেয়ারিং ফর ইউর ক্যারিয়ার: এমপ্লয়ার এক্সপেক্টেশনস অ্যান্ড ক্যারিয়ার ইনসাইটস’ শীর্ষক ক্যারিয়ার গাইডেন্স ও প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মজীবনের প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপাচার্য উল্লেখ করেন, একটি রাষ্ট্রের পক্ষে সব নাগরিককে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত করার সক্ষমতা সীমিত। দেশে যদি ৩০ লাখ বেকার থাকে, তাহলে সরকার হয়তো একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে।
আরও পড়ুন: উচ্চশিক্ষায় বৈষম্য কমাতে স্যাটেলাইট টিভি চালুর পরিকল্পনা ইউজিসির
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মূল বার্তা হলো—নিজেই কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে হবে এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে, বরং কর্মক্ষেত্রই তাদের খুঁজে নেয়। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত এ সক্ষমতা অর্জন।
অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে সুপারিশ বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একাডেমিক ফলাফলই বিবেচ্য নয়। রক্তদান কর্মসূচি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপন করার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে নিজেদের দক্ষতা শাণিত করতে হবে। ভবিষ্যতে সরকার কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করলে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন। কী-নোট স্পিকার ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিডিজবস ডটকম লিমিটেডের ডিজিএম মোহাম্মদ আলী ফিরোজ।
প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, সোসিও ইকোনমিক হেলথ এডুকেশন অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক ড. মেহেদী হাসান, এনজিও সংস্থা ‘সেতু’র মাইক্রোফাইন্যান্স (MF) বা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সমন্বয়ক মো. আলাউল আলম এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির এজিএম ও শাখা প্রধান আবুল কালাম আজাদ।
আরও পড়ুন: ইবিতে ‘সান্ধ্য আইন’ জারির খবর গুজব: উপাচার্য সতর্কতা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন