মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৭ পি.এম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) কর্তৃক দুইজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের কাছে প্রায় ৪৭৫ দশমিক ৬ গ্রাম (৪০ দশমিক ৭৮ ভরি) স্বর্ণালংকার ছিল। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৫ লাখ ৬২ হাজার ৪০ টাকা বলে জানা গেছে।
আটককৃতদের মধ্যে একজন হলেন খায়রুল হাসান আকন (২৯) এবং অপরজন শেখ আরিফুল ইসলাম (৪৬)। মঙ্গলবার সকালে বিমানবন্দরের বহুতল কার পার্কিংয়ের নিচতলার বহির্গেট এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় তাদের আটক করা হয়।
এপিবিএন জানিয়েছে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে ৪৭৫ দশমিক ৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সব স্বর্ণালংকার ২১ ক্যারেটের।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে এসব স্বর্ণালংকার বাংলাদেশে আনা হয়েছে। পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আটক দুজন এবং অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে স্বর্ণ এনে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (অপারেশন্স) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালান রোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাট, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মোংলা উপজেলার দিগরাজ বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদককারবারিকে আটক করেছে র্যাব-৬।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, মোংলা উপজেলার কাইনমারী এলাকার শ্যাম সরকারের ছেলে গোপাল সরকার এবং তার এক সহযোগী। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত অপর আটক মাদককারবারির নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।
র্যাব-৬ এর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার দিবাগত মঙ্গলবার রাত ৩ টার দিকে দিগরাজ বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে গোপাল সরকারকে ৫০ কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়, যখন সে পরিবহনযোগে গাঁজা নিয়ে মোংলায় প্রবেশ করছিল।
পরে গোপাল সরকারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরেক মাদককারবারিকে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, গোপাল সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকের বড় চালান এনে মোংলাসহ বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট মাদককারবারিদের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরীতে ১০ ঘণ্টার দীর্ঘ অভিযান শেষে পুলিশ নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের দুই সক্রিয় কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার, নগরের পাঁচলাইশ ও খুলশী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নের সজল কান্তি দাশ (৫১) এবং অপরজন হলেন ফটিকছড়ির সারোয়ার জাহান নুর, যিনি আদিব নামেও পরিচিত (৩৫)। সজল কান্তি দাশ বর্তমানে পাঁচলাইশ থানাধীন সানন্দা আবাসিক এলাকায় বসবাস করছিলেন। অন্যদিকে, সারোয়ার জাহান নুর খুলশী থানাধীন রূপসী হাউজিং এলাকায় অবস্থান করতেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত দুজনই নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে সক্রিয় থেকে ঝটিকা মিছিলসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছিলেন।
পাঁচলাইশ মডেল থানার পুলিশ জানায়, তথ্য এবং কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনার মাধ্যমে তাদের অবস্থান সনাক্ত করা হয়। এরপর পাঁচলাইশ ও খুলশী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত দুইজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আজকের জন্য নির্ধারিত একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের অংশ হিসেবে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, পুতিন এসসিও সম্মেলনের বিভিন্ন মূল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। প্রতিনিধি দলের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেক্সি ওভারচুক, প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের উপ-প্রধান মাকসিম ওরেকশিন, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এবং প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এছাড়া, পরিবহন মন্ত্রী আন্দ্রে নিকিতিন, অর্থনীতি বিষয়কমন্ত্রী মাকসিম রেশেতনিকভ, জ্বালানিমন্ত্রী সের্গেই সিভিলেভ, সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সংক্রান্ত ফেডারেল সার্ভিসের পরিচালক দিমিত্রি শুগায়েভ, রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি ও আরডিআইএফ প্রধান কিরিল দিমিত্রিভ এবং রসাটমের প্রধান আলেক্সি লিখাচেভও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
সূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমেরিকায় মানুষের বসতি স্থাপনের ইতিহাস নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। চিলির দক্ষিণাঞ্চলের মন্টে ভার্দে প্রত্নস্থলটির বয়স প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ বছর পুরনো কি না, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
নতুন এক গবেষণায় স্থাপনাটির বয়স কম বলে দাবি করা হলেও, সাইটটির গবেষকরা পুরনো বয়সের দাবিকে সঠিক বলে জোর দিয়ে আসছেন।
র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্টে ভার্দে প্রত্নস্থলটি ১৯৭০-এর দশকে আবিষ্কৃত হয়। ১৯৯৭ সালে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ভিত্তিতে গবেষকেরা জানিয়েছিলেন, সেখানে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ বছর আগে মানুষের বসতি ছিল।
ওই দাবিটি তখন আমেরিকায় মানুষের আগমন নিয়ে প্রচলিত ধারণায় বড় পরিবর্তন আনে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকার ক্লোভিস সংস্কৃতিকে আমেরিকায় মানুষের প্রাচীনতম বসতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখা হতো। মন্টে ভার্দের বয়স ১৪ হাজার ৫০০ বছর হলে, সেটি ক্লোভিস-সম্পর্কিত প্রাচীন বসতিগুলোর চেয়েও অন্তত ১ হাজার ৫০০ বছর পুরনো হয়ে যায়। ফলে ধারণা করা হয়, মানুষ প্রচলিত সময়ের চেয়েও আগে আমেরিকা মহাদেশে পৌঁছেছিল।
নতুন গবেষণায় বয়স কমে গেল
তবে চলতি বছরের মার্চে জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা পুরনো দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। নতুন গবেষণায় কাঠ, নদীর পলিমাটি ও আগ্নেয় ছাইসহ বিভিন্ন উপাদানের পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, মন্টে ভার্দের বয়স প্রায় ৪ হাজার ২০০ থেকে ৮ হাজার ২০০ বছরের মধ্যে।
গবেষণার প্রধান লেখক ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইওমিংয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ টড সুরোভেল বলেন, প্রত্নস্থলের নিচে প্রায় ১১ হাজার বছর আগের আগ্নেয় ছাইয়ের একটি স্তর পাওয়া গেছে। তাদের মতে, ওই স্তর যদি মানুষের বসতির নিচে থাকে, তাহলে সেখানে মানুষের উপস্থিতি ১১ হাজার বছরের বেশি পুরনো হওয়ার কথা নয়।
তাদের গবেষণায় আরো বলা হয়, আগে যে ১৪ হাজার ৫০০ বছরের পুরনো কাঠ পাওয়া গিয়েছিল, সেটি মানুষের বসতির সময়ের নয়। নদীর স্রোতে পুরনো কাঠ ও অন্যান্য উপাদান পরে এসে সেখানে জমা হতে পারে বলে তারা মনে করেন।
পুরনো দাবির পক্ষে গবেষকদের পাল্টা যুক্তি
নতুন গবেষণার সঙ্গে অবশ্য একমত নন মন্টে ভার্দে নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা গবেষকেরা। ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞানী টম ডিলেহে এবং আরও কয়েকটি গবেষক দল নতুন গবেষণার পদ্ধতি ও তথ্য বিশ্লেষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ডিলেহের নেতৃত্বে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন গবেষকেরা মন্টে ভার্দের মূল প্রত্নস্থলে সরাসরি পাওয়া তথ্যের পরিবর্তে আশপাশের ভূতাত্ত্বিক তথ্যের ওপর বেশি নির্ভর করেছেন। তাঁর দাবি, ১৯৭৭ সাল থেকে যারা মন্টে ভার্দে নিয়ে কাজ করেছেন, তারা মানুষের বসতির নিচে ওই কথিত ১১ হাজার বছরের পুরনো আগ্নেয় ছাইয়ের স্তর দেখতে পাননি।
চিলির অস্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরাও নতুন গবেষণার সমালোচনা করে ১৪ হাজার ৫০০ বছরের বয়সের দাবিকে সমর্থন করেছেন। তাদের নতুন বিশ্লেষণে ভূতাত্ত্বিক ও পরাগরেণু-সংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন প্রমাণ ব্যবহার করা হয়েছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই বিতর্ক?
মন্টে ভার্দের বয়স নিয়ে এই বিতর্ক শুধুমাত্র একটি প্রত্নস্থলের বয়স নির্ধারণের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমেরিকা মহাদেশে মানুষের প্রথম আগমনের ইতিহাস।
যদি ১৪ হাজার ৫০০ বছরের পুরনো তারিখ সঠিক হয়, তাহলে বরফযুগে মানুষ প্রচলিত ধারণার চেয়েও অনেক আগে আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছেছিল। এতে এশিয়া থেকে উত্তর আমেরিকা হয়ে দক্ষিণে মানুষের বিস্তারের সময়কাল সম্পর্কেও নতুন করে ভাবতে হবে।
মন্টে ভার্দের বিশেষত্ব শুধু এর বয়স নয়। সাইটটিতে কাঠের তৈরি সরঞ্জাম, কাঠামোর অংশ, উদ্ভিদ, সামুদ্রিক শৈবাল, প্রাণীর দেহাবশেষ এবং মানুষের পায়ের ছাপসহ নানা ধরনের জৈব উপাদান পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন প্রাচীন মানুষের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও প্রযুক্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।
এখন দুই পক্ষই আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। ফলে চিলির এই প্রাচীন প্রত্নস্থলটি ঠিক কত বছরের এবং আমেরিকায় মানুষের বসতি কত আগে গড়ে উঠেছিল, তার চূড়ান্ত উত্তর পেতে আরও স্বাধীন গবেষণার প্রয়োজন হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ