মোঃ ফারুক শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
১১:৫৩ পি.এম
সুনামগঞ্জের শাল্লায় মা, নবজাতক, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, টিকাদান এবং কিশোর-কিশোরীদের সুস্থতা নিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করার লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১৬ জুন (মঙ্গলবার) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩য় তলার কনফারেন্স রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। কানাডা সরকারের অংশীদারিত্বে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF)-এর সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'সুশীলন' এই পরামর্শ সভার আয়োজন করে।
সভাটি দেবব্রত আইচ মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং মো: আলমগীর মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, সময়মতো টিকাদান এবং কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সামাজিক সচেতনতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সভায় জানানো হয়, তৃণমূল পর্যায়ে এই সেবাগুলো সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে সুশীলন ও সহযোগী সংস্থাসমূহ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উক্ত পরামর্শ সভায় অতিথিদের মধ্যে ছিলেন: শুভজিৎ রায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা; বিশ্বপতী চক্রবর্তী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা; আতাউর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা; মোঃ আব্দুস সাত্তার, চেয়ারম্যান, ৪নং শাল্লা ইউপি; সুবল চন্দ্র দাস, চেয়ারম্যান, ২নং হবিবপুর ইউপি; ফুলন চন্দ্র দেব, এস আই, শাল্লা থানা; মাওলানা আবুল কাশেম, খতিব, শাল্লা থানা জামে মসজিদ; আরিফ কান দুলাল, প্রধান শিক্ষক, শাহিদ আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়; এম এ রাজ্জাক, আহবায়ক, উপজেলা যুবদল (বিএনপি)।
এছাড়াও সভায় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিয়ের দাবিতে এক যুবকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন একটি গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের বারইহুদা গ্রামে। গৃহবধূর পরিবারে রয়েছে দুই সন্তান।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের বারইহুদা গ্রামের আসমত বিশ্বাসের ছেলে প্লাবন বিশ্বাসের সঙ্গে গৃহবধূ জান্নাতুল মাওয়ার মধ্যে একটি অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় জনতা তাদের দুইজনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।
আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আসার পর, জান্নাতুল মাওয়া সোমবার দিবাগত রাতে প্লাবন বিশ্বাসের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন। তিনি জানান, প্রায় ৯ মাস ধরে প্লাবনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল এবং তিনি গর্ভবতী, এই সন্তান প্লাবনের। এ ঘটনার কারণে তার স্বামী শাহিদুল ইসলাম তালাক দিয়েছেন। ফলে এখন তিনি প্লাবনের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের স্বীকৃতি চান।
অনশনে বসা গৃহবধূ জান্নাতুল মাওয়া বলেন, "প্লাবনের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের কারণেই আমার সংসার ভেঙে গেছে। এখন আমি চাই প্লাবন আমাকে বিয়ে করে সামাজিক স্বীকৃতি দিক।" এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি ঘিরে একটি তরুণীকে মারধর, আটকে রাখা এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী (২৭) রবিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেন, প্রায় দেড় বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আল আমিনের (২৬) সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে আল আমিন তাকে বিয়ের আশ্বাসে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন সম্পর্ক চলার পর সম্প্রতি বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে আল আমিন বিষয়টি এড়িয়ে যেতে শুরু করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা চলছিল। এরই মধ্যে গত ৬ জুন, সন্ধ্যায় আল আমিনের বাড়িতে গেলে তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন ফাতেমা।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন আল আমিন। বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে তার বাড়িতে গেলে আমাকে একটি ঘরে আটকে রেখে মারধর করা হয়। আমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও নগদ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
অভিযোগে আরো বলা হয়, ঘটনার সময় আল আমিনের পরিবারের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করেন।
ওই নারী দাবি করেন, গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন, আল আমিন আমার সব শেষ করে দিয়েছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে একাধিকবার গভীর সম্পর্কে জড়িয়েছে। এখন সে আমাকে অস্বীকার করছে। আমি একবার ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম। তখন আল আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সুরাহা করা হবে বলে আমাকে বলা হয়। কিন্তু তার পরও তারা নানাভাবে আমার সঙ্গে তালবাহানা করছে। আল আমিনকে না পেলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার কোনো পথ থাকবে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আল আমিন বলেন, মেয়েটির সঙ্গে আমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয়। এরপর কথাবার্তা ও দেখা সাক্ষাৎ হতো। আমি তাকে বিয়ে করার কোনো প্রতিশ্রুতি দেই নাই। কোনো শারীরিক সম্পর্ক আমাদের হয় নাই। তাকে মারধর, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, অভিযোগের পর থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি আবাসিক হোটলে অভিযান চালায় পুলিশ এবং অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকে আটক করেছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে টেঙগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেফতারকৃত দুজন হলেন, পুষ্প আক্তার (২২) এবং রোকেয়া আক্তার (২৩) যাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়।
এই ঘটনায় জানা গেছে যে, ভাটেরচর এলাকায় আবাসিক ব্যবসার আড়ালে অনেক দিন ধরেই নারী দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে, সোমবার দুপুরের দিকে উপজেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের ফলে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকে আটক করা হয়। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি হাসান আলী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আদাবরে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ হামলার মুখে পড়েছে। এই ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম এবং এক উপপরিদর্শক (এসআই) আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে আদাবরের বেড়িবাঁধ এলাকার ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সকালে আদাবরের ৭ নম্বর সড়কে একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে চাপাতির মুখে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা দোকানদারকে কুপিয়ে নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাদেরকে ধরতে অভিযানে নামে আদাবর থানা পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে ছিনতাইকারীদের একটি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। সেখানে অভিযান চালাতে গেলে পুলিশ উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে ওসি জাহিদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ আহত হন।
আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সকালের ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ছিনতাইকারীদের চাপাতির আঘাতে আমি ও এসআই তরুণ আহত হই।”
হামলার মুখে পুলিশের আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে রুবেল এবং আমির নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, গুলিবিদ্ধ দুজন ছাড়াও কাশেম ও জয় নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা বলেন, “আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থল থেকে মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে।”
পুলিশের দাবি, অভিযানে ধরা পড়া ব্যক্তিরা আদাবর এবং আশপাশের এলাকায় সক্রিয় একটি ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। বিভিন্ন সূত্রে এই চক্রকে ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপ বলেও বলা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আদাবর, শ্যামলী হাউজিং, তুরাগ হাউজিং, ঢাকা উদ্যান এবং আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এই চক্র।
ঘটনার পর ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ