১১:৫৪ এম
ইরানের প্রভাব কমাতে নতুন জ্বালানি করিডোর গড়ে তুলছে ইরাক, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।
হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য কিরকুক-বানিয়াস তেল পাইপলাইন পুনরায় চালুর পরিকল্পনা বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যা চার দশকের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে।
আসন্ন সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে, এমনই ধারণা বিশ্লেষকদের। তারা মনে করেন, এটি শুধু জ্বালানি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত প্রদান করছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ: জেন-জি আন্দোলনের মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক যুব আন্দোলনে প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ তৈরি করতে যাচ্ছে ইরাক, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।
হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে ইরাকের কিরকুক থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহর বানিয়াস পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মাইল দীর্ঘ ঐতিহাসিক তেল পাইপলাইন পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এই তিন দেশ।
ইরাকের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন অচল থাকা কিরকুক-টু-বানিয়াস পাইপলাইন আবার চালুর আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে এ সংক্রান্ত চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া এবং ইরাকবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা
১৯৫২ সালে নির্মিত এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো। তবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সিরিয়া ইরান-এর পক্ষ নেয়ায়, বিগত আশির দশকে বাগদাদ এটি বন্ধ করে দেয়। পরে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের সময় পাইপলাইনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের প্রভাব আরও জোরালো হওয়ায় বিকল্প রফতানির পথ খুঁজতে তৎপর হয়েছে ইরাক।
যুদ্ধের সময় ট্রাকে করে সীমিত পরিমাণ তেল সিরিয়ায় পাঠানো হলেও, তা চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
বাগদাদ পুরোনো এই পাইপলাইন কার্যকর করার চেষ্টা করছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংস্কারের পর এটি চালু হতে দুই থেকে তিন বছর লাগতে পারে।
আরও পড়ুন: চীনে পাচারের চেষ্টা, ১২ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী উদ্ধার
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্প কেবল জ্বালানি পরিবহন নয়, বরং ইরানের হরমুজ নিয়ন্ত্রণের বিকল্প গড়ে তোলার একটি কৌশলও। সিরিয়াকে নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে।
এই initiative বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও কূটনৈতিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন