ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নিয়ন্ত্রণে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার


যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নিয়ন্ত্রণে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ রাজ্যে ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলার সময় একটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ দুজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন হেলিকপ্টারটির আরও দুই ক্রু সদস্য।

রোববার (৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের চুক্তির অধীনে পরিচালিত সিকোরস্কি এস-৬৪ ‘স্কাইক্রেন’ মডেলের হেলিকপ্টারটি শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে রিচফিল্ডের কাছে একটি জলাধার এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ওই স্থানে ওয়াইডমাউথ ২ নামক দাবানলের আগুন নেভানোর কাজ চলছিল।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে ভারতে ৫.৮৪ কোটি রুপির স্বর্ণ চোরাচালান জব্দ

জাতীয় আন্তসংস্থা অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্র (এনআইএফসি) শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে। সংস্থাটি জানায়, দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ি পথ এবং চারপাশের আগুনের তীব্রতার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোর ধ্বংসস্তূপে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়। পরে শনিবার মৃতদেহ দুটি উদ্ধারের পর হলেও নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ডেপুটি ইনসিডেন্ট কমান্ডার টাইলার হেক্ট জানান, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য কিছুক্ষণ কাজ স্থগিত রাখা হলেও আকাশ ও স্থলপথে দাবানল নিয়ন্ত্রণের অভিযান পুনরায় শুরু করা হয়েছে। উটাহর গভর্নর স্পেন্সার কক্স এই ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে হতাহতদের পরিবারের জন্য সবার প্রার্থনা চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্টে বজ্রপাত থেকে সৃষ্ট এই দাবানলে ইতিমধ্যেই ১ লাখ ১১ হাজার একরের বেশি বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে উটাহ রাজ্যের বৃহত্তম দাবানলে পরিণত হওয়া এই আগুন বর্তমানে ২৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

চলতি গ্রীষ্মে উটাহর বনাঞ্চলে দাবানল মোকাবিলা করতে গিয়ে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এর আগে গত জুনে কলোরাডো সীমান্তের কাছে দাবানল নেভাতে গিয়ে মারা যান চারজন দমকলকর্মী।

আরও পড়ুন: মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪%

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৪ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৪ জন

রাজধানী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫০৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৩৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (৯ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এই তথ্য জানিয়েছেন।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছে রমনা বিভাগে ৩৪ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৯ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৫ জন, মতিঝিল বিভাগে ৭২ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬৬ জন, মিরপুর বিভাগে ১৪৪ জন, গুলশান বিভাগে ৪৭ জন, উত্তরা বিভাগে ৪০ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে সাতজন।

অভিযানে গ্রেপ্তারদের হেফাজতে পাওয়া গেছে একটি পানির মোটর, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি মানিব্যাগ, তিনটি ফয়েল পেপার, একটি গ্যাস লাইট, ১০ টাকার একটি নোট, মাদক বিক্রির ৮ হাজার ৭৫০ টাকা, ২২ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ, একটি কেঁচি, একটি ইলেকট্রিক শর্ট দেওয়ার যন্ত্র, একটি চাকু, একটি সুইচ গিয়ার এবং একটি হ্যাক্সো ব্লেড।

এছাড়া অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে ২৯ কেজি ৯৫০ গ্রাম গাঁজা, ২২৫ পিস ইয়াবা, ৩৫ গ্রাম হেরোইন এবং ৪৮ বোতল এস্কাফ সিরাপ।

ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কেটে আগুন, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় রক্ষা হাসপাতাল-ব্যাংকসহ বহু দোকান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৫ এম


মার্কেটে আগুন, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় রক্ষা হাসপাতাল-ব্যাংকসহ বহু দোকান

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে একটি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও দক্ষ তৎপরতা অবলম্বন করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় একই ভবনে অবস্থিত হাসপাতাল, ব্যাংক ও আশপাশের বহু দোকান বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ৬টা ৫ মিনিটে লৌহজং ফায়ার স্টেশনে খবর আসে, উপজেলার মালির অঙ্ক বাজারের একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার মার্কেটে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে লৌহজং ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার পর ভবনটিতে প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির নিচতলায় মার্কেট ছিল, দ্বিতীয় তলায় ইসলামি জেনারেল হাসপাতাল এবং যমুনা ব্যাংকের কার্যক্রম চলছিল। তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা চারজন মহিলা সিজারিয়ান রোগীসহ আবাসিক অংশে থাকা লোকজনকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আগুন নিচতলার একটি কাপড়ের দোকানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়। এতে একই ভবনে অবস্থিত হাসপাতাল ও ব্যাংকসহ আশপাশের বহু দোকান বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে রক্ষা পায়। অগ্নিকাণ্ডে আমির হোসেন বস্ত্রালয়ের কাপড় ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানটির মালিক হচ্ছেন আমির হোসেন। ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নদীবন্দরের জন্য সতর্কসংকেত নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৭ এম


নদীবন্দরের জন্য সতর্কসংকেত নেই

দেশের নদীবন্দরের জন্য বর্তমান সময়ে কোনো সতর্কসংকেত নেই। এমন অবস্থায় নৌপথে চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।

রবিবার সকালে আবহাওয়া অফিস নিশ্চিত করেছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য কোনো সতর্কবাণী নেই। এছাড়া কোনও সংকেত দেখাতে হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়া কেন স্বর্ণ বিক্রি করছে, যুদ্ধের খরচেই কি যাচ্ছে অর্থ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩২ এম


রাশিয়া কেন স্বর্ণ বিক্রি করছে, যুদ্ধের খরচেই কি যাচ্ছে অর্থ?

গত ১২ মাসের মধ্যে, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বর্ণ বিক্রেতা দেশে পরিণত হয়েছে রাশিয়া। রাশিয়া বাজেটের ওপর বাড়তে থাকা চাপ সামাল দিতে নগদ অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে। দেশটি ২০২৬ সালে তার স্বর্ণ রিজার্ভের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিক্রি করেছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এই বিক্রি অগত্যা রাশিয়ার আসন্ন আর্থিক সংকটের লক্ষণ নয়।

বাড়তি বাজেট ঘাটতি মেটাতে নগদ অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে ক্রেমলিন চলতি বছর স্বর্ণ রিজার্ভের একটি বড় অংশ বিক্রি করেছে। জুলাইয়ের শুরুতে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, স্বর্ণ রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৩৪ লাখ ট্রয় আউন্স বা ২ হাজার ২৮২ মেট্রিক টন। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এই পরিমাণ প্রায় ৪৩ দশমিক ৫ মেট্রিক টন কমেছে। বর্তমানে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়ার স্বর্ণ রিজার্ভ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল। বছরের প্রথম চার মাসে গড় দাম প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৮০০ ডলার (৪ হাজার ২১০ ইউরো) ছিল। পরে, দাম কমে এখন প্রায় ৪ হাজার ডলারে নেমেছে। মস্কোর এই বিক্রি থেকে সম্ভবত ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হয়েছে।

পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ এলিনা রিবাকোভা ডিডব্লিউকে জানান, রাশিয়া স্বর্ণ বিক্রি করছে কারণ দেশটির অন্যান্য সহজে নগদে রূপান্তরযোগ্য সম্পদ কমে আসছে। বাজেট ঘাটতির পাশাপাশি সেই ঘাটতি মেটানোর উৎসগুলোর ওপরেও চাপ তৈরি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ইউক্রেনের যুদ্ধে এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে, যার ফলে দেশটির বাজেটের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছিল, রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভাকে একটি চিঠিতে সতর্ক করেছে যে, ২০২৬ সালে যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় কমপক্ষে ২৮ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। ২০২৭ ও ২০২৮ সালেও অতিরিক্ত ব্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

২০২১ সাল থেকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় চারগুণের বেশি বেড়েছে। ২০২৫ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ ট্রিলিয়ন রুবল বা ২০৪ বিলিয়ন ডলার। মস্কোভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্রো-অ্যাডভাইজরির আর্থিক বিশ্লেষক ক্রিস উইফার ডিডব্লিউকে জানান, রাশিয়ার স্বর্ণ বিক্রি উল্লেখযোগ্য হলেও এটিকে আতঙ্কিত হয়ে সম্পদ বিক্রি বলা যাবে না।

তিনি বলেন, পরিস্থিতিটি অসাধারণ হলেও এটি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক একটি প্রবণতা। রাশিয়া যে স্বর্ণ বিক্রি করেছে, তার বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিবর্তে দেশের অর্থ মন্ত্রণালয় জাতীয় কল্যাণ তহবিলের (এনডব্লিউএফ) মাধ্যমে বিক্রি করেছে।

২০২২ সালের শুরু থেকে স্বর্ণ জাতীয় কল্যাণ তহবিলের কেনার যোগ্য সম্পদগুলোর একটি। ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্কিন ট্রেজারি ও বন্ড তাদের জন্য সহজলভ্য ছিল না। উইফার বলেন, স্বর্ণ তহবিলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরল সম্পদে পরিণত হয়েছে।

জাতীয় কল্যাণ তহবিলের স্বর্ণ বিক্রির মূল উদ্দেশ্য হলো এর তথাকথিত তরল সম্পদ পুনরায় পূরণ করা। উইফারের অনুমান, তহবিলটির মোট মূল্য প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারকে ‘তরল’ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তিনি বলেন, ক্রেমলিন চায় না এই নিরাপত্তা বলয় আরও কমে যাক। কারণ এতে রাশিয়ার আর্থিক সংকট বা অর্থনৈতিক দুর্বলতা নিয়ে জল্পনা বাড়তে পারে আর দেশটির ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানও দুর্বল হতে পারে। নিজেকে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে তুলে ধরতে চায়। সম্ভবত ৫০ বিলিয়ন ডলারের তরল সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছে।

আরেকটি বিষয়ও রাশিয়াকে সুবিধা দিচ্ছে। রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় স্বর্ণ উৎপাদক। ফলে দেশীয় উৎপাদকদের কাছ থেকে কিনে তুলনামূলকভাবে দ্রুত বিক্রি করা স্বর্ণের মজুত পুনরায় পূরণ করতে পারে। বিশ্বে রাশিয়ার কাছে পঞ্চম বৃহত্তম স্বর্ণের মজুত রয়েছে।

দেশটির মজুতের পরিমাণ চীন, ফ্রান্স ও ইতালির প্রায় সমান। তবে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তুলনায় তা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। রিবাকোভা মনে করেন, নিজস্ব স্বর্ণ উৎপাদন রাশিয়াকে বড় সুবিধা দিচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের সময় বিনিয়োগের অংশ স্বর্ণ কেনায় ব্যয় করা হয়েছিল।

বিশ্বের অন্যতম বড় স্বর্ণ বিক্রেতা হয়ে উঠতে রাশিয়ার বাজেট ঘাটতি ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রাশিয়ার ফেডারেল বাজেট ব্যয় ও ঘাটতি সরকারি পরিকল্পনার চেয়ে ১ ট্রিলিয়ন রুবলের বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। খরচ বাড়তে থাকলে রাশিয়ার বাজেটের চাপ বাড়বে।

তবে ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায়, তেল ও গ্যাস থেকে রাজস্ব বেড়েছে। ফলে ২০২৬ সালে বাজেটের চাপ সামাল দিতে মস্কো সক্ষম হয়েছে। রিবাকোভা মনে করছেন, তেল ও গ্যাস থেকে পাওয়া মূল্য ও রাজস্বই রাশিয়ার অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি বলেন, সবকিছুই তেলের দামের ওপর নির্ভর করছে। তেলের দাম বেশি থাকলে রাশিয়া বেশি রাজস্ব পায়, ঋণ নেওয়া সহজ হয় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থা শক্তিশালী থাকে। কিন্তু তেলের দাম ৬০ বা ৪০ ডলারে নেমে আসলে দ্রুত সংকট তৈরি হতে পারে।

রিবাকোভা ও উইফার দুজনেই সতর্ক করেছেন, রুশ অর্থনীতিতে স্পষ্ট কিছু সমস্যা দেখা দিলেও যুদ্ধের অর্থায়ন চালিয়ে যেতে পারবে।

বর্তমানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বছর বছর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম হতে পারেন। সামনের সারিতে হয়তো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নাও হতে পারে, কিন্তু ইউক্রেনের যুদ্ধে সম্পদ ঢালার সক্ষমতা মস্কোর থাকবে।

উইফার বলেন, বাজেট ঘাটতি চলতে থাকলেও রাশিয়া অর্থের জোগান দিতে পারবে। আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে দেশটি কোনো বড় ধরনের আর্থিক সংকট বা দুর্বল ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানে পড়বে না।

তবে রাশিয়ার অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন উইফার। তার মতে, যুদ্ধের ব্যয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিকৃতি তৈরি করছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

এতে সরকারের মধ্যেও মতবিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে ক্রেমলিনের মধ্যে বিভেদ তৈরি হচ্ছে। তাদের বক্তব্য হলো, বর্তমান অর্থনৈতিক পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।

স্বর্ণ বিক্রি এখন রাশিয়ার আর্থিক সংকটের চূড়ান্ত সংকেত নয়। তবে এটি দেশটির বাজেটের ওপর বাড়তে থাকা চাপ এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য ক্রমেই বাড়ছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%