ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বালু বিক্রির দায়ে কুলাউড়ায় ইউপি সদস্যকে জরিমানা, কারাদণ্ড ১ জনের


বালু বিক্রির দায়ে কুলাউড়ায় ইউপি সদস্যকে জরিমানা, কারাদণ্ড ১ জনের

 

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মনু নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু বিক্রি, মজুদ ও পরিবহনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন একটি অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে একটি ইউপি সদস্য ও তার ছেলেকে অর্থদণ্ড এবং অপর এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সীমানা নির্ধারণও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: পাবনার জয়কালী বাড়ি মন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণ

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর এলাকায় মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় বিশ্বাস।

অভিযানে শরীফপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লাল মিয়া ও তার ছেলেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং নিজ বাড়িতে বালু মজুদ রাখার দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া অবৈধ বালু পরিবহনের দায়ে মো. মাসুম মিয়া নামের একজন চালককে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযান চলাকালে আগে জব্দ করা বালুর সঙ্গে নতুন করে জব্দ করা বালুও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়। একই অভিযানে শরীফপুর ইউনিয়নের একটি সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সড়কের সীমানা (ডিমার্কেশন) নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: সন্দ্বীপে রোকেয়া মুজিবুল স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা ও পুরস্কার বিতরণ

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস বলেছেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চলতে থাকবে। পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষার জন্য কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, জব্দ করা বালু জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী নিলামের ব্যবস্থা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এসি ল্যান্ডের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে কেরানীগঞ্জে গ্রেপ্তার ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


এসি ল্যান্ডের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে কেরানীগঞ্জে গ্রেপ্তার ১

কেরাণীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশ মো. সুমন (৪০) নামক একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরের দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সুমনের বাসস্থান কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিনজিরা ইউনিয়নের রহমতপুর এলাকায় অবস্থিত। কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ভূমি অফিসের সূত্রে জানা যায়, মান্দাইল মৌজার ৫২ শতাংশ জমিসংক্রান্ত একটি মিসকেসের আবেদন ফাইলে কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল মাওয়ার স্বাক্ষর জাল করে সুমন সোমবার দুপুরে সেটি তার অফিসে জমা দেন।

শুনানির সময় ফাইলটি যাচাই করতে গিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া দেখতে পান, ফাইলে তার একটি স্বাক্ষর রয়েছে যা তিনি কখনও করেননি। পরে তিনি নিশ্চিত হন যে, স্বাক্ষরটি সম্পূর্ণ নকল।

এ ঘটনায় তিনি তৎক্ষণাৎ কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ খবর পেয়ে আটিবাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে একটি দল ভূমি অফিসে গিয়ে মো. সুমনকে আটক করে।

কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া এ বিষয়ে বলেন, ‘এরা একটি প্রতারকচক্র। এরা আমার সই এবং তার প্রতিপক্ষের সই জালিয়াতি করে প্রায় ১৫ কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছিল। তার আগেই আমার কাছে ধরা পড়েছে।’

গ্রেপ্তার সুমনের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিয়মিত মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮ পুলিশ কর্মকর্তার কর্মস্থল বদল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


৮ পুলিশ কর্মকর্তার কর্মস্থল বদল

বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত আট কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, তারা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)। সোমবার (৩ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনেট ম্যানেজমেন্ট-১ বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান সই করা একটি প্রজ্ঞাপনে এই বদলি করা হয়।

বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন– পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিম, যিনি বর্তমানে নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তাকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানকে নরসিংদী এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) মোহাম্মদ রবিউল ইসলামকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে পেহাচান করা হয়েছে।

এছাড়া র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) স্বপ্না বেগমকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (অপস) বিমল চন্দ্র বর্মনকে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ সার্কেলে এবং ফরিদপুর মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খানকে খুলনা রেঞ্জে ডিআইজির কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরীকে কক্সবাজার মহেশখালী সার্কেল এবং শিল্পাঞ্চল পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম মাসুদুজ্জামানকে ফরিদপুর মধুখালী সার্কেলে বদলি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে। অন্যথায় ১৮ আগস্টের মধ্যে তাদের তাৎক্ষণিক অবমুক্ত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পকে চাপে ফেলতে ইরানের নতুন ছক: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ পি.এম


ট্রাম্পকে চাপে ফেলতে ইরানের নতুন ছক: রয়টার্স

ইরান সামরিক সংঘর্ষের পরিবর্তে ধাপে ধাপে চাপ বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের শর্তে সমঝোতায় নিয়ে আসা যায়। উপসাগরের কর্মকর্তারা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের লক্ষ্য সরাসরি যুদ্ধ জেতার ব্যাপারে নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথগুলো, নৌপথ এবং জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের জন্য সংঘাতের খরচ ক্রমেই বাড়িয়ে দেওয়া।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান 'পরিমিত উত্তেজনা বৃদ্ধি' কৌশল অনুসরণ করছে, যার ফলে সংঘাত ধীরে ধীরে বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; তবে এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেবে না। তাদের ভাষ্যমতে, তেহরানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তাৎপর্যপূর্ণ মিত্রদের বোঝানো যে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের দাবিগুলো মেনে নেওয়া সংকট জোর করে নিয়ন্ত্রণে রাখার তুলনায় অনেক কম ব্যয়বহুল।

ইরান আরও ইঙ্গিত দিচ্ছে, ওয়াশিংটন যদি হরমুজে তেহরানের বৃহত্তর ভূমিকাকে স্বীকার না করে, তবে সংঘাত পারস্য উপসাগরের বাইরেও ছড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী, যেখানে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। এই রুটে নৌ চলাচল ব্যাহত করার ক্ষমতা প্রদর্শনের পরে, ইরান বলেছেন যে, শুধু হরমুজ নয়, অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথও তাদের কৌশলের আওতায় পড়তে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লোহিত সাগর এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর প্রতি ইরানের উত্তেজনা প্রবণতা প্রমাণিত করে যে, বৈশ্বিক বাণিজ্য সুরক্ষার খরচ বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্র কতোটা অস্থিরতা সহ্য করতে পারে, তা যাচাই করাই এখন তেহরানের লক্ষ্য।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল নাইটস জানান, ইরান শুরু থেকেই উত্তেজনা এভাবে বাড়িয়েছে যাতে প্রতি সপ্তাহে নতুন কোনও কৌশল সামনে আনা সম্ভব হয়। কখনও নতুন ভৌগোলিক এলাকা, কখনও নতুন অস্ত্র, আবার কখনও নতুন লক্ষ্যবস্তু। তার ভাষ্য, “ইরানের সবচেয়ে বড় সুবিধা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়; বরং উপসাগরীয় দেশগুলো এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপের মুখে ফেলা।”

একজন উপসাগরীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডাররা বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াতে চাইবেন না। সূত্রটি জানাচ্ছে যে, ইরানের বিশ্বাস হলো, যুদ্ধ যত বেশি বিস্তৃত হবে এবং চাপ যত বেশি বাড়বে, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প একটি সমঝোতায় বাধ্য হতে হবে। উল্টো ট্রাম্প মনে করেন, কঠোর সামরিক চাপ প্রয়োগ করলে ইরান আলোচনায় ফিরে আসবে। তবে, তাদের ধারণা হলো, তেহরান এই চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

এই মূল্যায়ন বর্তমানে ইরানের আলোচনার কৌশলের ভিত্তি বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছেই না।

ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে, অতীতে নমনীয় অবস্থান নেওয়ার পরও ওয়াশিংটনের চাপ বেড়ে গেছে। এজন্য তেহরান এখন শক্ত অবস্থানে থেকে কার্যকর আলোচনা শুরুর জন্য নিজেদের দর-কষাকষির শক্তি স্থাপন করতে চায়। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল সিং বলেন, ইরান এখনও মনে করছে যে, কৌশলগত উদ্যোগ তাদের হাতেই রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কতদূর পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, সেই বিষয়ে অনিশ্চয়তা আছে।

ইরানের লক্ষ্য শুধুমাত্র হরমুজ প্রণালীর ওপর সার্বভৌম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা নয়, বরং ওই জলপথে পরিচালনাভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাও। সংকটের এই মূল প্রশ্ন এখন হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসন। আঞ্চলিক সূত্রগুলো দাবি করছে, ওমান উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে ইরানের কাছে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যাতে স্বেচ্ছাভিত্তিক ব্যবহার ফি আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে, ইরান চাইছে হরমুজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং ওই পথ ব্যবহারকারী জাহাজসমূহ থেকে সেবা ফি আদায় করার ক্ষমতা। যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের অবস্থান হচ্ছে, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং এটি কোনওভাবেই ইরানের নিয়ন্ত্রণে যেতে পারে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের কৌশলের একটি বড় প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। বর্তমানে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের উপর চাপ বাড়ানোর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এবং জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগ মূলত বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এই জোটের উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে জড়ানো না হওয়া। মাইকেল নাইটস এই উদ্যোগের তুলনা করেছেন লোহিত সাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'অ্যাসপিডেস' মিশনের সঙ্গে, যার প্রধান উদ্দেশ্যও ছিল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক শক্তিতে পাল্লা দেওয়ার সক্ষমতা ইরানের নেই। তবে প্রতিবার নতুন একটি নৌপথ বা জ্বালানি স্থাপনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিপুল সম্পদব্যয় করতে বাধ্য করতে পারে। যদি হরমুজ, বাব আল-মান্দেব বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তাহলে বৈশ্বিক বাণিজ্য সচল রাখতে আরও অনেক নৌবাহিনী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অর্থ ব্যয় করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটিই হচ্ছে ইরানের প্রকৃত কৌশল- একটি দীর্ঘস্থায়ী চাপের লড়াই, যেখানে তেহরান বিশ্বাস করে যে, তারা অর্থনৈতিক চাপ যতদিন সহ্য করতে পারবে, তার থেকে কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জোটকে বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মোকাবেলা করতে হবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক এবং ইরান বিশেষজ্ঞ অ্যালান আইয়ার বলছেন, ইরানের বর্তমান কৌশলের উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং সামরিক হামলা বন্ধ করতে বাধ্য করা। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের জ্যেষ্ঠ ফেলো রে তাকেইহ মনে করেন, ইরান আলোচনায় বসলে নিজেদের শর্ত প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে। তিনি বলেছেন, “যদি আলোচনা হয়, তাহলে শর্ত নির্ধারণে উভয় পক্ষই চাইবে। এখন উভয়েই পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা বাড়ানোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।” বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, ওয়াশিংটন এবং তেহরান কেউই আপাতত পিছু হটার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। এর ফলে চাপের এই কৌশল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে এমন এক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষেরও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সাক্ষাৎটি সোমবার বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত হয়।

এই সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও কথা হয়। তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

একটি বিষয় উঠেছিল, সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে পারেন, বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া খবর হিসেবে আলোচনা করা হয়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তিনি হাইকমিশনারকে জানান যে পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করতে না পারেন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে যেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করা হয়, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

তিনি এ বিষয়ে উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের কার্যক্রম যদি চলতে থাকে, তাহলে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিকর প্রভাবিত করতে পারে।

ভারতের হাইকমিশনার এই বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করবেন বলে এবং প্রয়োজনীয় খোঁজ-খবর নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তারা আশাবাদী যে পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমে সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান অর্জন সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%