০১:১৯ পি.এম
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব স্থানে পানির সংকট মোকাবিলার জন্য সিরিয়ার প্রথম জাতীয় প্রকল্পে ২ কোটি ৭৭ লাখ ডলার অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিভাগ জানাচ্ছে, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের ৪৫তম পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই অর্থায়নের বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। দুশানবেতে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ২৯ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত হয়। সিরিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন পরিবেশবিষয়ক উপমন্ত্রী ইউসুফ শরাফ। মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিচালনা পর্ষদের কাছে পাঠানোর আগে প্রায় ছয় মাস ধরে কারিগরি পর্যায়ে কাজ করা হয়।
এই সময়ে, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদার প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করে। এ ঘটনাটি গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে সিরিয়ার প্রথম অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক এই জলবায়ু তহবিল থেকে এতদিন অর্থায়ন না পাওয়ার পরিস্থিতি অবসান হলো। পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সিরিয়ার ভবিষ্যৎ জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক আরও জলবায়ু প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সীমিত পানিসম্পদের আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, শহর ও গ্রামে নিরাপদ পানির সরবরাহ জোরদার করা, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষি ও মানুষের জীবনধারা রক্ষা করা এবং ভবিষ্যতে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থায়ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে সিরিয়ার অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করার একটি বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। এর সাথে পরিবেশ পুনরুদ্ধার, জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে।
গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা এবং ক্ষতি কমাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে, সংস্থাটি ১৩০টিরও বেশি দেশের জন্য ২০০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের তত্ত্বাবধানে এই তহবিল পরিচালিত হয়।
এর আগে, ২০২১ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের যৌথ সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নেয় সিরিয়া। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটির জাতীয় মনোনীত কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল এবং জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে একটি জাতীয় প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালের জুনে প্রকাশিত গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের জন্য সিরিয়ার কান্ট্রি প্রোগ্রামে কৃষি, জলবায়ু সহনশীল শহর গড়ে তোলা এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে দেশটিতে এখনও পানির সংকট গুরুতর অবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন