সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:১৭ পি.এম
চীন তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীর পানিপ্রবাহের বৃদ্ধি ঘটতে পারে, যা চলতি শতাব্দীতে ভারত ও বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে চীনা গবেষকরা সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তসীমান্ত নদীর পানি নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের সোমবারের প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। চীনের বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী চায়না সায়েন্স বুলেটিন-এ গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক গবেষণায় নদীটির অতীত পানিপ্রবাহ এবং ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষক দলটি, যা চীনের বিজ্ঞান একাডেমি ও ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের নিয়ে গঠিত, দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বত মালভূমির গাছের বর্ষবলয়ের তথ্য ব্যবহার করে ১৩২৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে নদীপ্রবাহের পুনর্গঠন করেছে। জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে এসব উপাত্ত মিলিয়ে ভবিষ্যতের বিভিন্ন জলবায়ু পরিস্থিতিতে নদীটির পানিপ্রবাহ কেমন হতে পারে, তা মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ভবিষ্যতে নদীটির পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে। অতিরিক্ত পানিপ্রবাহের ঘটনা, যেমন বন্যা, আরো ঘন ঘন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষকদের মতে, নদীটির পানিপ্রবাহের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন সম্পর্কে এ বিশ্লেষণ ভবিষ্যতের পানিসম্পদসংক্রান্ত ঝুঁকি মূল্যায়নে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করবে।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, ভবিষ্যতের পানিপ্রবাহের সম্ভাব্য পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে পানিসম্পদ উন্নয়ন ও পানি সংরক্ষণের অবকাঠামো পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে একাধিক দেশের মধ্যে অভিন্ন নদীর পানি নিয়ে সৃষ্ট ঝুঁকিও মূল্যায়ন করতে হবে।
তিব্বত মালভূমিতে তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে চীনা গবেষকরা উল্লেখ করেছেন। এর ফলে ওই অঞ্চলের বরফের আচ্ছাদন এবং পানিচক্রে পরিবর্তন ঘটছে। তাদের ভাষ্য, ইয়ারলুং সাংপো নদীর অববাহিকায় জলবায়ু উষ্ণায়নের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পানিপ্রবাহের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
তিব্বতে নদীটি ইয়ারলুং সাংপো নামে পরিচিত। ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের পর এটি প্রথমে অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং নামে এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নামে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটি ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ফলে এর পানিপ্রবাহের পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার বন্যা ও খরার পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
১৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের প্রকল্প
ব্রহ্মপুত্রের ওপর চীনের নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ১৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। প্রকল্পটি তিব্বতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারতের সঙ্গে বিতর্কিত সীমান্তের কাছাকাছি মেডোগ বা চীনা নামের মোটুও জেলায় নির্মাণ করা হচ্ছে।
হিমালয় অঞ্চলে নদীটি একটি গভীর গিরিখাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় তীক্ষ্ণ ইউ-আকৃতির বাঁক নিয়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের দিকে এগিয়েছে। এই ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়েই বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বেইজিং।
প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এর স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৬০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে হিসাবে এটি চীনের থ্রি গর্জেস বাঁধের প্রায় তিন গুণ সক্ষমতার হতে পারে। বর্তমানে স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতার বিচারে থ্রি গর্জেস বাঁধ বিশ্বের বৃহত্তম চালু জলবিদ্যুৎকেন্দ্র।
তবে প্রকল্পটি নিয়ে পরিবেশগত ও ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকির উদ্বেগ রয়েছে। গত জুলাইয়ে চীনা ভূতত্ত্ববিদেরা সতর্ক করেছিলেন, প্রস্তাবিত বাঁধের ঠিক নিচ দিয়ে একটি সক্রিয় ভূ-চ্যুতি রেখা চলে গেছে, যা প্রকল্পটির কাঠামোগত স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেডিমেন্টারি জিওলজি অ্যান্ড টেথিয়ান জিওলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ভূতত্ত্ববিদেরা বাঁধ নির্মাণে ভূমির ঢালের স্থিতিশীলতা জোরদার এবং ভূমিধস ও ধসের ঝুঁকি কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
হিমালয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি
হিমালয় অঞ্চলের ভঙ্গুর ভূপ্রকৃতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও প্রকল্পটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। বরফ ও পাথরের ধসের কারণে অস্থায়ীভাবে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ার পর সেই বাধা ভেঙে বন্যা সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দুর্যোগে নেপাল ও চীনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু এবং ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ ভূত্বকীয় পাতের সংযোগস্থলের কাছে প্রকল্পটির অবস্থান হওয়ায় নির্মাণকাজে বড় ধরনের প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তা সত্ত্বেও চীন প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে প্রকল্পটি নিয়ে উদ্বেগের জবাবে বলেছে, এর ফলে ভাটির দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কয়েক দশকের গবেষণা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ মোকাবিলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে বেইজিং।
তবে নতুন গবেষণায় ব্রহ্মপুত্রের ভবিষ্যৎ পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং বন্যার ঝুঁকি নিয়ে যে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে, তা নদীটির ওপর নির্ভরশীল ভারত ও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন, বাঁধ নির্মাণ এবং আন্তসীমান্ত পানিব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো এ অঞ্চলে ভবিষ্যৎ পানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে ২৩ বছর আগে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের রায়ে মোজাম নামের একজন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. তসরুজ্জামান এই রায় প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোজাম পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা গ্রামের মৃত সোলেমানের পুত্র। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না এবং পলাতক ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা গ্রামের দিলীপ কুমারের স্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিত মোজাম। দিলীপের স্ত্রী বিষয়টি তার স্বামী ও পরিবারকে জানালে মোজাম ক্ষিপ্ত হয়ে দিলীপকে মারধর করেন। ২০০৩ সালের ২০ মে রাতে দিলীপ প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বাইরে গেলে মোজাম পূর্বপরিকল্পিতভাবে এক সহযোগীকে নিয়ে ঘরে ঢুকে তার স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। পরে দিলীপ ঘরে ফিরে আসলে আসামিরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ ঘরের পাশের বাঁশবাগানে ঝুলিয়ে রাখে।
পরদিন সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে হত্যার সত্যতা বেরিয়ে আসে। এ ঘটনায় পাঁচবিবি থানার তৎকালীন এসআই জাহাঙ্গীর আলম পাশা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত সোমবার এ রায় দেন।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেড গৃহস্থালি পণ্যের বাজারে নতুন প্রিমিয়াম টাইগ্রিস সিরিজের ওয়াটার হিটার এবং তাদের প্রথম মাইক্রোওয়েভ ওভেন সিরিজ উন্মোচন করেছে। সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে প্রতিষ্ঠানটির ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্যগুলো প্রদর্শিত হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় গ্রাহকদের চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পণ্যের পরিসর বৃদ্ধি করার পাশাপাশি নিরাপদ, স্মার্ট ও সুবিধাজনক গৃহস্থালি সমাধান প্রদান করাই নতুন পণ্যগুলোর বাজারে আসার উদ্দেশ্য।
টাইগ্রিস সিরিজের ওয়াটার হিটার ‘শকপ্রুফ ওয়াটার হিটার, সেফ অ্যাজ আনপ্লাগড’ ধারণার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এই সিরিজে উন্নত হিটিং প্রযুক্তি এবং সুপার টাইটানিয়াম এনামেল ট্যাংক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রিমিয়াম গোল্ডেন ফিনিশের এই সিরিজে ৩৫ ও ৪৫ লিটারের হরাইজন্টাল এবং ৩০ লিটারের ভার্টিক্যাল মডেল পাওয়া যাচ্ছে।
৩০ লিটারের ভার্টিক্যাল মডেলটিতে ‘নো হ্যাংগিং, নো ড্রিলিং’ সুবিধা রয়েছে। ফলে এটি দেয়ালে ড্রিলিং বা মাউন্টিং ছাড়াই সুবিধামত স্থানে স্থাপন করা সম্ভব।
এছাড়া, হায়ার তিন ধরনের মাইক্রোওয়েভ ওভেন বাজারে এনেছে। এগুলো হলো ২০ লিটারের সোলো, ২৩ লিটারের গ্রিল এবং ৩০ লিটারের কনভেকশন মডেল। ৩০ লিটারের ফ্ল্যাগশিপ মডেলটিতে মাইক্রোওয়েভ, গ্রিল, কনভেকশন ও এয়ার ফ্রাই—চার ধরনের সুবিধা রয়েছে। ফলে একই যন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের খাবার রান্না ও প্রস্তুত করা যাবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নতুন পণ্য উন্মোচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে হোম অ্যাপ্লায়েন্সের পরিসর আরও বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতে বৈশ্বিক প্রযুক্তির সঙ্গে স্থানীয় গ্রাহকদের চাহিদার সমন্বয় করে উন্নত ও ব্যবহারবান্ধব পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, নির্ভরযোগ্য বিক্রয়োত্তর সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের স্মার্ট ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপনে সহায়তা করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। তবে, তিনি এখনো রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ড. আবদুল মঈন খানকে সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তরিত করা হবে।
এর আগে, বুধবার রাতে বুকে ব্যথা ও কাশি নিয়ে মঈন খান এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন।
তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।
এদিকে, ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এ সময়, তিনি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রতিমন্ত্রীকে মঈন খানের বর্তমান শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে অবহিত করেন। মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকারও হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) টোকিওর একটি হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৯০ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তার ছেলে সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত মেয়াদে জাপানের নেতৃত্ব দেওয়া এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ক্ষমতা ছাড়ার পরও বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।
ইয়াসুও ফুকুদার বাবা তাকেও ফুকুদাও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে শিনজো আবের আকস্মিক পদত্যাগের পর দেশটির দায়িত্ব নেন ইয়াসুও। জাপানের ইতিহাসে বাবা ও ছেলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার একমাত্র নজির এই ফুকুদা পরিবারই।
ফুকুদার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, 'জাপানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ফুকুদার অবদান অসামান্য। দেশের জনগণের প্রতি তার দীর্ঘদিনের নিবেদিতসেবার জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।'
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে চীন-জাপান সম্পর্ক সুদৃঢ় করার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন ফুকুদা। ২০০৮ সালের মে মাসে তৎকালীন চীনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওকে টোকিওতে স্বাগত জানান তিনি। সেখানে দুই নেতা 'যৌথ কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে পারস্পরিক সুবিধাজনক সম্পর্ক' গড়ার ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ক্ষমতা ছাড়ার পরও দুই দেশের অঘোষিত দূত হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার গোপন বৈঠকটি পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকের পথ সুগম করেছিল।
ফুকুদার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গো জিয়াকুন। ফুকুদাকে 'চীনা জনগণের পুরানো বন্ধু' হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে তার অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।
২০০৮ সালের জুলাইয়ে হোক্কাইদোতে জি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন ফুকুদা। তার নেতৃত্বেই সদস্য দেশগুলো ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ অন্তত ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রায় সম্মত হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তনকে বিশ্ব রাজনীতির মূল আলোচনায় নিয়ে আসে।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভেষজ রক্তপণ্য ব্যবহারের কারণে হেপাটাইটিস সি-তে আক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আইন পাস করান তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভুক্তভোগীদের কাছে দু'বার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাও চেয়েছিলেন ফুকুদা। এছাড়া খাদ্যে ভেজাল ও কেলেঙ্কারি রুখতে তিনি যে ভোক্তা অধিকার সংস্থা (কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স এজেন্সি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা ২০০৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে ইয়াসুও ফুকুদা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিরো মোরি এবং জুনিচিরো কোইজুমির শাসনামলে চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে গুনমা প্রদেশ থেকে প্রতিনিধি পরিষদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তার মূল রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।
ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং তার স্থলাভিষিক্ত হন তারো আসো। পরবর্তীতে ২০১২ সালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন এই প্রভাবশালী নেতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ