ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে যান মান্নান, ২ দিন পর উদ্ধার লাশ


মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে যান মান্নান, ২ দিন পর উদ্ধার লাশ

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার বিষখালী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর জেলে আব্দুল মান্নান হাওলাদারের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বিষখালী নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ এবং স্বজনদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত মঙ্গলবার বিকালে ট্রলার নিয়ে বিষখালী নদীতে ইলিশ মাছ ধরতে যান আব্দুল মান্নান। অসাবধানতাবশত ট্রলার থেকে নদীতে পড়ে তিনি তলিয়ে যান। পরে রাজাপুর ফায়ার সার্ভিস এবং বরিশাল নদী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে, কিন্তু তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে বিষখালী নদীতে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান জানিয়েছেন, বিষখালী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জেলে আব্দুল মান্নান হাওলাদারের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কথা বলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন হারুন সিকদারের, বিএনপির তৃণমূলে ক্ষোভের গুঞ্জন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আটঘরিয়ায় গবাদিপশুর পিপিআর রোগ নির্মূলে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


আটঘরিয়ায় গবাদিপশুর পিপিআর রোগ নির্মূলে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু

পাবনার আটঘরিয়ায় গবাদিপশুর পিপিআর রোগ নির্মূলে সপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে আটঘরিয়া পৌর এলাকার রাধাকান্তপুর গ্রামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনের পরপরই ওই এলাকার গবাদিপশুকে বিনামূল্যে পিপিআর টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।

‘পিপিআর রোগ নির্মূল প্রজেক্ট’-এর আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ, ঢাকা-এর অর্থায়নে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, আটঘরিয়ার উদ্যোগে এই টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গবাদিপশুকে বিনামূল্যে পিপিআর টিকার আওতায় আনা হবে।

উদ্বোধনী কার্যক্রমের পর প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা রাধাকান্তপুর গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি ও খামারে গিয়ে গবাদিপশুকে টিকা প্রদান করেন।

এ সময় পশুর মালিকদের পিপিআর রোগের সংক্রমণ, রোগ প্রতিরোধে টিকাদানের প্রয়োজনীয়তা এবং গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ে সচেতন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পিপিআর গবাদিপশুর একটি সংক্রামক রোগ। বিশেষ করে ছাগল ও ভেড়ার মধ্যে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত পশুর স্বাস্থ্যহানি ও মৃত্যুর কারণে খামারি এবং পশুপালনকারীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

এ কারণে রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তারা বলেন, পিপিআর রোগ প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায় হলো সময়মতো গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া। নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

এ লক্ষ্যেই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন বলেন, পিপিআর গবাদিপশুর জন্য অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এ রোগের বিস্তার রোধে নিয়মিত টিকাদান জরুরি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পিপিআর রোগ নির্মূল কর্মসূচির আওতায় আটঘরিয়ায় বিনামূল্যে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গবাদিপশুকে পর্যায়ক্রমে পিপিআর টিকার আওতায় আনা হবে। খামারি ও গবাদিপশুর মালিকদের নিজ নিজ পশুকে টিকা দেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

পাশাপাশি পশুর পরিচর্যা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

নাজমুল হোসাইন আরও বলেন, পিপিআর রোগের লক্ষণ দেখা দিলে অসুস্থ পশুকে অন্য পশু থেকে আলাদা রাখা জরুরি। কোনো পশু অসুস্থ হলে নিজে থেকে ওষুধ প্রয়োগ না করে দ্রুত প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

এ সময় ভি.এফ.এ আজহার আলী, সাকিব, রুবেলসহ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নেওয়া পশুর মালিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দেন এবং পিপিআর রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গবাদিপশুকে বিনামূল্যে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে অধিকসংখ্যক গবাদি পশুকে পিপিআর রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি খামারি ও পশুপালনকারীদের আর্থিক ক্ষতি কমানোও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

পিপিআর রোগের সংক্রমণ ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে গবাদিপশু পালনকারীদের ক্ষতির ঝুঁকি কমবে এবং প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।

স্থানীয় পশুপালনকারীরা এ ধরনের বিনামূল্যের টিকাদান কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা জানান, সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে টিকা পাওয়ায় গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে তারা উপকৃত হবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পিপিআর রোগ নির্মূলে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি পশুপালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, পিপিআর রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি পশুর মালিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

নিয়মিত টিকা প্রদান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু পালন এবং অসুস্থ পশুর বিষয়ে দ্রুত প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে রোগের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেখার সঙ্গে ‘সিলসিলা’ সিনেমায় কাজ করতে শর্তে রাজি জয়া বচ্চন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


রেখার সঙ্গে ‘সিলসিলা’ সিনেমায় কাজ করতে শর্তে রাজি জয়া বচ্চন

যশ চোপড়ার কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘সিলসিলা’ হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত নাম। ছবিটির পেছনের বাস্তব জীবনের কাস্টিং নাটকীয়তা এবং পর্দার ভেতরের ত্রিভুজ প্রেমের গল্প ছাড়িয়ে দর্শকদের কৌতূহলকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। একসঙ্গে অমিতাভ বচ্চন, রেখা ও জয়া বচ্চনকে পর্দায় হাজির করা মোটেই সহজ ছিল না। একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, রেখার উপস্থিতি মেনে নিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়া বচ্চন ছবিটিতে অভিনয়ে সম্মত হলেও, তার সম্মতির পেছনে ছিল একটি বিশেষ শর্ত।

‘সিলসিলা’র শুরুতে স্মিতা পাতিল ও পারভীন বাবিকে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় পরিচালক যশ চোপড়া রেখা ও জয়া বচ্চনের কাছে যান। রেখা রাজি হলেও, জয়া শুরুতেই অভিনয়ে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। জয়াকে রাজি করাতে যশ চোপড়া বর্ষীয়ান অভিনেতা সঞ্জীব কুমারের সাহায্য নেন, যাকে জয়া ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করতেন।

সঞ্জীব কুমারের অনুরোধে জয়া অবশেষে রাজি হন, তবে তিনি একটি চাঞ্চল্যকর শর্ত রেখে দেন। চলচ্চিত্র সাংবাদিক হানিফ জাভেরি জানান, জয়ার শর্ত ছিল—শুটিংয়ের সময় তার নিজের শট না থাকলেও বা সেটে প্রয়োজন না হলেও, তিনি সবসময় সেখানে উপস্থিত থাকবেন।

সেটে সব সময় উপস্থিত থাকার মূল কারণ যে রেখা, তা নিয়ে সাংবাদিক হানিফ জাভেরি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। সেই সময়ে অমিতাভ বচ্চন ও রেখার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুঞ্জন বিনোদন জগতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। জয়া বচ্চন অমিতাভের স্ত্রী হিসেবে এবং রেখার উপস্থিতিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য কঠোর নজরদারির কৌশল হিসেবে এই শর্ত রেখেছিলেন বলে মনে করা হয়।

যশ চোপড়াও পরে স্বীকার করেন যে, অমিতাভ বচ্চন মূল কাস্ট নিয়ে একমত হলেও, দুই অভিনেত্রীকে রাজি করানোর চ্যালেঞ্জ তার ওপরেই ছিল। সব নাটকীয়তা পেরিয়ে ছবিটি আলোর মুখ দেখে। পর্দার বাইরে এই কাস্টিং বিতর্ক ও গুঞ্জন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করলেও, মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে খুব বেশি সাফল্য পায়নি। তবে অমিতাভ, জয়া ও রেখার উপস্থিতি ‘সিলসিলা’কে চিরকালীনভাবে হিন্দি সিনেমার একটি আলোচিত অধ্যায় বানিয়ে রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চলনবিলে নির্মাণাধীন ব্রিজের উচ্চতা নিয়ে নৌপথে প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


চলনবিলে নির্মাণাধীন ব্রিজের উচ্চতা নিয়ে নৌপথে প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা

দেশের সর্ববৃহৎ বিলাঞ্চল হিসেবে পরিচিত চলনবিল। বর্ষাকালে এই বিলটি নদী, খাল ও জলপথের বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। কৃষিপণ্য পরিবহন, মাছ ধরা, মানুষের যাতায়াত এবং পর্যটন—এখানকার নৌপথের গুরুত্ব সব ক্ষেত্রেই অপরিসীম।

তবে পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের উচ্চতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটির উচ্চতা কম হওয়ায় বর্ষায় বড় নৌকা ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

তারা দাবি করছেন, ব্রিজ নির্মাণ হতে হবে এমন উচ্চতায় যাতে সারা বছর নৌযান চলাচল করতে পারে। তাদের মতে, নৌপথ বন্ধ করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। এদিকে, ব্রিজের নির্মাণকাজ স্থগিত রেখে নকশা পর্যালোচনা ও উচ্চতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ৮ জন কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আব্দুল লতিফ।

গত ১০ আগস্ট তিনি স্থানীয় সরকার সচিব, পানি সম্পদ সচিব, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, পাবনা জেলা প্রশাসক ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ প্রদান করেন।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বৃহত্তর পাবনা ও বগুড়া জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ছাইকোলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হান্ডিয়াল ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সড়কের মুনিয়াদিঘী কৃষি কলেজের কাছে কাটা নদীর ওপর ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ৮৮ দশমিক ১০ মিটার দীর্ঘ পিএসবি গার্ডার ব্রিজটির নির্মাণ ব্যয় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি। কাজটি বাস্তবায়ন করছে আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড ওসি (জেভি)।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের নিচ দিয়ে পর্যাপ্ত উচ্চতার নৌপথ রাখা হচ্ছে না। বর্ষায় পানি বাড়লে ছৈওয়ালা নৌকা, খড় বোঝাই নৌকা, বাল্কহেড, পণ্যবাহী ট্রলার এবং পর্যটকবাহী বড় নৌযান ব্রিজের নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। চলনবিল শুধু একটি জলাভূমি নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ জলরাশি। বর্ষাকালে বিলের বিস্তৃীর্ণ এলাকা পানিতে প্লাবিত হলে অনেক গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে নৌকা।

কৃষকরা ধান, খড়সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য নৌপথে হাট-বাজারে নিয়ে যান। একইভাবে বালু-পাথর, গবাদিপশুর খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যও নৌযানে পরিবহন করা হয়। এ ছাড়া চলনবিলের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ষাকালে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। বড় নৌকা ও ট্রলারে করে পর্যটকেরা বিলের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। ফলে এখানকার নৌপথ শুধু স্থানীয় যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং পর্যটন অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, কাটা নদীর ওপর নিচু ব্রিজ নির্মাণ করা হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। এর প্রভাব শুধু নৌযান চলাচলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ইলিয়াস উদ্দিন বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকরা মাঠের ধান ও গবাদিপশুর খাবার খড় নৌকায় করে বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়ে যান। বিশেষ করে খড় বোঝাই নৌকা তুলনামূলক উঁচু হয়। ব্রিজের উচ্চতা কম হলে এসব নৌকা আর চলাচল করতে পারবে না। তখন সড়কপথে পণ্য পরিবহন করতে হবে, এতে কৃষকদের খরচ বেড়ে যাবে।

নৌকার মাঝি নবীর উদ্দিন বলেন, বর্ষায় কাটা নদী দিয়ে নাটোরের সিংড়া, সিরাজগঞ্জের তাড়াশসহ চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় নৌকায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা হয়। নৌপথে চলাচল করলে সময় ও খরচ দুটোই কম লাগে। কিন্তু ব্রিজটি নিচু হলে পানির উচ্চতা বাড়ার পর বড় নৌকা চলাচল করতে পারবে না।

হান্ডিয়ালের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, তারা ব্রিজ নির্মাণের বিপক্ষে নন। বরং দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় একটি ব্রিজের প্রয়োজন ছিল। নদীর ওপারে থাকা ফসলি জমি থেকে উৎপাদিত পণ্য আনা-নেওয়া এবং আশপাশের গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ব্রিজটি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে তিনি বলেন, বর্ষায় নৌকায় চলাচল করা গেলেও পানি নেমে গেলে কাদা মাটির রাস্তা দিয়ে রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ হয়। তাই সড়ক যোগাযোগের জন্য ব্রিজটি প্রয়োজন। কিন্তু সেই ব্রিজ নির্মাণ করতে গিয়ে নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হলে তা হবে এক ধরনের নতুন সংকট।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, চলনবিলের গুমানী, আত্রাই, বড়ালসহ বিভিন্ন নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজগুলো নৌযান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে উঁচু করা হয়েছে। কাটা নদীর ব্রিজটিও একইভাবে নৌযান চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

নোটিশদাতা আইনজীবী মো. আব্দুল লতিফ বলেন, এলাকার সন্তান হিসেবে নাগরিক দায়িত্ব থেকেই তিনি নোটিশটি দিয়েছেন। তার মতে, ব্রিজটি এমনভাবে নির্মাণ করা উচিত যাতে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌ যোগাযোগও বজায় থাকে। দ্রুত নকশা সংশোধন না হলে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি চলনবিলের জলপথ, কৃষি, জীবিকা ও পর্যটনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তাদের দাবি, ব্রিজ নির্মাণ হোক তবে চলনবিলের নৌপথ সচল রেখেই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইড ইঞ্জিনিয়ার হৃদয় হোসেন বলেন, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ীই ব্রিজের কাজ চলছে। নির্মাণের পর দুই বছর ব্রিজটি নজরদারির মধ্যে থাকবে। ভবিষ্যতে নৌযান চলাচলে সমস্যা হলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্রিজের উচ্চতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, এলজিইডির উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে আমিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এরপরও প্রয়োজন হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করতে পুনরায় সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এ বিষয়ে পাবনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কাটা নদীর এ অংশটি বিআইডব্লিউটিএর স্বীকৃত কোনো নৌ চ্যানেল নয়। এলজিইডির নির্ধারিত পরিমাপ ও নীতিমালা অনুসরণ করেই ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবির বিষয়টি আমরা বিবেচনায় রেখেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি আইনে মামলা দায়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি আইনে মামলা দায়ের

নাশকতার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে, পাসপোর্ট, এনআইডি ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্ম তারিখের ভিন্নতা এবং অসংলগ্ন তথ্য দেওয়ার কারণে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিউল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার আওতায় গ্রেপ্তার রবিউলকে দুই দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি আইনের বিভিন্ন ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত এ আইনের ভিত্তিতে রবিউলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

এর আগে গত বুধবার, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয় এবং সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। ওইদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাকে দ্বিতীয় দফায় আরো চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রবিউল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়িভোজ গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, রবিউল গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পাসপোর্ট দেখালেও পরে তার কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডিতে থাকা জন্ম তারিখ পাসপোর্টের জন্ম তারিখের সাথে মেলে না।

রবিউল এর আগে একাধিকবার বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করলেও এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে পারেননি। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়ে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রবিউল বাংলাদেশে কোনো ধর্তব্য অপরাধ বা সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন বলে প্রবলভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%