ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অগ্নিকাণ্ডে গরুসহ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব বিধবা মঞ্জু বেগম


অগ্নিকাণ্ডে গরুসহ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব বিধবা মঞ্জু বেগম

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের ২৪ ঘর এলাকায় গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডে দুটি ঘর ও দুটি গরু পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। আগুনে পুড়ে মারা গেছে মঞ্জু বেগমের প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের দুটি গরু। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন স্বামীহারা এই নারী।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ওই এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ঘরের মধ্যে একটি ছিল কাঠ-লাকড়ি রাখার ঘর এবং অপরটি ছিল গরুর ঘর। অগ্নিকাণ্ডে ঘর দুটির আনুমানিক ৩ লাখ টাকা এবং গরু দুটির প্রায় ৫ লাখ টাকা—সব মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী মঞ্জু বেগমের স্বামী মনির হাওলাদার প্রায় তিন বছর আগে মারা যান। এরপর এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে চরম কষ্টে জীবনযাপন করছিলেন তিনি। বর্তমানে বাবার বাড়িতে বসবাস করা মঞ্জু বেগমের পরিবারের নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস ছিল না। মানুষের সহায়তা এবং ওই দুটি গরু লালন-পালন করেই সংসারের খরচ চলত।

আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে লালন সাঁইজির ১৩৬তম তিরোধান দিবসে সাধুসঙ্গ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কষ্ট করে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন মঞ্জু বেগম। ছোট ছেলে এখনও পড়াশোনা করছে। তার পড়াশোনার খরচসহ সংসারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ওই দুটি গরুই ছিল তার প্রধান অবলম্বন। আগুনে সব হারিয়ে এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সম্ভাবনাও নেই বলে দাবি করেছেন তারা। এছাড়া সেখানে কোনো রান্নাঘরও ছিল না। এসব কারণে স্থানীয়দের কেউ কেউ ঘটনাটি নাশকতা বা দুর্বৃত্তদের আগুন দেওয়ার ঘটনা হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রমজানপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক স্বপন মোল্লা। তিনি বলেন, “আমি কয়েকবার ঘটনাস্থলে এসেছি এবং পরিস্থিতি দেখেছি। বোবা প্রাণীগুলোকে যারা এভাবে পুড়িয়ে মেরেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত। অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। ঘটনাটি দেখলে চোখে পানি চলে আসে। আমরা অসহায় পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

রমজানপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলী আকবর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “সরকারিভাবে যত ধরনের সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করার চেষ্টা করব। পাশাপাশি আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নেও পরিবারটির পাশে দাঁড়াব। সমাজের বিত্তবানদেরও এই অসহায় পরিবারের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”

আরও পড়ুন: জামায়াতকে দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে: জুবায়ের

রমজানপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিক খান বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা আমাদের নেই। তাদের কান্না দেখে আমাদেরও খুব খারাপ লাগছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কালকিনি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারটি উপজেলা সমাজকল্যাণ পরিষদে আবেদন করলে নিয়ম অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।”

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্তের পাশাপাশি অসহায় মঞ্জু বেগমের পরিবারকে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেত্রীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেরোবি উপাচার্যের সঙ্গে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাক্ষাৎ, কনভোকেশনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


বেরোবি উপাচার্যের সঙ্গে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাক্ষাৎ, কনভোকেশনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বেরোবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।

গত রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপাচার্য দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম, সাবেক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ, কনভোকেশন, ক্যারিয়ার গাইডলাইন, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।


বৈঠকে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের গত ছয় মাসের কার্যক্রম উপাচার্যের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী দিনের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তারা।

জানা যায়, আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর রিডিংরুমে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বই দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর মধ্যে চাকরির প্রস্তুতির বই ও মৌলিক বিষয়ের প্রয়োজনীয় বই দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৫০০টি ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। সাবেক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ সহজ করতে অ্যালামনাই আইডি কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা জানানো হয়। উপাচার্য জানান, অ্যালামনাই কার্ডধারী সাবেক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে যেন কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এছাড়া বৈঠকে ক্যারিয়ার গাইডলাইন বিষয়ক সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা, সরকারি ও বেসরকারি চাকরি এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে আগ্রহীদের ক্যারিয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এ সেমিনার আয়োজন, রংপুরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করার পরিকল্পনা, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নিবন্ধন, অফিস বরাদ্দ এবং কনভোকেশন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়।


উপাচার্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নিবন্ধন দ্রুত অনুমোদন ও অফিস বরাদ্দ এবং কনভোকেশন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।


অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে উপাচার্য বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।’

বৈঠকে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি সুলতানুল মোসলেমিন অনিক (লাকিম), সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইফ, দপ্তর সম্পাদক আসাদ হোসেন, ক্যারিয়ার ও গাইডলাইন সম্পাদক মো. মোহসিন আলী, মানবসম্পদ সম্পাদক আল আমিন হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল রানা ও কার্যনির্বাহী সদস্য মোন সাজ্জাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেহরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অচলাবস্থা কাটবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ পি.এম


তেহরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অচলাবস্থা কাটবে?

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আজ সোমবার (২৪ আগষ্ট) ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করবেন। এই সফরের তথ্য গত রবিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুসারে প্রকাশ করা হয়েছে।

এটি আসিম মুনিরের চলতি বছরে ইরান সফরের জন্য তৃতীয় বিজ্ঞপ্তি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের অবসানে কাজ করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা আল জাজিরাকে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে সফরের বিস্তারিত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তারা কিছু জানাননি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, "এই সফর আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে আরো এগিয়ে নেবে।" তিনি আরও জানান যে তেহরানে অবস্থানকালে মুনির ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের আগে মুনির ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে ফোনে দুইবার কথা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে উদাহৃত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোনালাপগুলোতে আঞ্চলিক পরিস্থিতিসহ পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এটি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরানে তৃতীয় সফর। তার আগে এপ্রিলে প্রথমবার তিনি ইরান সফর করেন। এর কয়েক দিন আগে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে, চার দশক পর দুই দেশের মধ্যে এই প্রথম সরাসরি আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেনি।

তারপর মে মাসে মুনির আবার তেহরান সফর করেন। ওই সময় মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের আলোচনায় ‘সামান্য অগ্রগতি’ হয়েছে। মুনিরের এবারের সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারককেন্দ্রিক কূটনৈতিক উদ্যোগ থমকে গেছে। বিভিন্ন কারণে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ সফরে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে চলতি মাসে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আলোচনা সূচিতে স্থান পেতে পারে। মুনির ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যা মক্কায় অনুষ্ঠিত হয়।

ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধাদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পেতে পারে, কারণ এই যোদ্ধাদের হামলা বারবার জাহাজ চলাচলের পথে উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। হুতিদের ইরানের সমর্থনের পেছনে ব্যাপক ধারণা বিদ্যমান।

মুনিরের তেহরান সফরে হুতি হামলা ও নতুন সামরিক নেতৃত্বের স্থান পাওয়ার আশঙ্কা যাচ্ছে। ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর হামলার বিষয়টি পাকিস্তানের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১১ আগস্ট বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতি বাহিনী তানজানিয়ার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়, এতে তিন পাকিস্তানি নাবিক নিহত ও আরো কয়েকজন আহত হন।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার হামলাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে কঠোর নিন্দা জানান।

ইরানবিষয়ক সাংবাদিক রেজা আফজাল সামিরের মতে, মুনিরের এবারের সফরের সময় ইরানের নতুন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক ঘটতে পারে। এই নতুন কর্মকর্তাদের নামের মধ্যে রয়েছে নতুন আইআরজিসি প্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ এবং সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন সচিব। এই সব পদে চলতি মাসের শুরুতে নতুন নিয়োগ হয়েছে।

ইসলামাবাদের হাতে কতটা ক্ষমতা রয়েছে?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তান কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। বিশেষ করে যদি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কোনো সমঝোতা হয়, তবে সেটি বাস্তবায়নের ক্ষমতা ইসলামাবাদের সীমিত।

ইসলামাবাদভিত্তিক সানোবার ইনস্টিটিউটের প্রধান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কামার চিমা ব্যাখ্যা করেছেন, "ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষই পাকিস্তানকে এমন একটি দেশ হিসেবে দেখছে, যার আলোচনায় কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।" এ কারণে পাকিস্তান দু'পক্ষের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

তবে তেহরানের পারস্য উপসাগরীয় অধ্যয়ন গোষ্ঠীর পরিচালক জাভেদ হেইরান-নিয়ার জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতার পেছনে নিজেদের স্বার্থও ঝুঁকিতে রয়েছে। বলেন, "ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে পুরো অঞ্চল আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।"

তিনি আরও জানান, পাকিস্তান উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। একই সাথে, ওই অঞ্চলে কর্মরত পাকিস্তানি শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সও গুরুত্বপূর্ণ। তাই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বাড়লে পাকিস্তান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি দুই-তারকা জেনারেল ও প্রতিরক্ষা কৌশলবিদ জাহিদ মেহমুদ বলেন, "মুনির এখনো তেহরানের কাছে ওয়াশিংটনের প্রস্তাব পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।" তিনি পরামর্শ করেন, পাকিস্তান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যোগাযোগের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।

ব্যতিক্রমী সংখ্যক বিশ্লেষকদের মধ্যে কেউ কেউ পাকিস্তানকে সঠিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী মনে করছেন না। কিংস কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষা অধ্যয়নের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেছেন, "এ ক্ষেত্রে কাতার এখনও প্রধান মধ্যস্থতাকারী।" তিনি নিষ্কর্ষভাবে বলছেন, কাতার রাজনৈতিক মধ্যস্থতার নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগের সেতু রূপে কাজ করছে।

ক্রিগ আরও জানিয়েছেন, মুনিরের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে সীমিত। তিনি মূলত ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সাথে যোগাযোগের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছেন। যেহেতু ইরানের যুদ্ধ ও শান্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইআরজিসি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, এই সামরিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মুনির কী করতে পারেন, আর কী করতে পারবেন না

ইরানি সাংবাদিক রেজা আফজাল সামিরের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ, দুই পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ফলে পাকিস্তান আলোচনার একটি কার্যকর পথ তৈরি করতে পারে।

সামির জানান, "ইরান পাকিস্তানের কথা শুনতে পারে, কারণ পাকিস্তানের এখনো শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাস্তব ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।" তার মতে, মুনিরের সফরের পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা দ্রুত অগ্রগতি করতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন, "ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার সময়ও ঘনিয়ে আসতে পারে।" যদি মুনির ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারেন, তবে এরপর হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান ও ইরানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো ঘোষণা আসতে পারে।

তবে মুনিরের সফর থেকে বড় ধরনের ফল পাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন কিংস কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ। তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হবে ইরানের নিরাপত্তা সংস্থার কাছ থেকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো সমঝোতা মেনে চলার নিশ্চয়তা পাওয়া। পাশাপাশি ইয়েমেন কিংবা ইরাকের মাধ্যমে নতুন করে উত্তেজনা না বাড়ানোর বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিগ বলেন, "এমন কোনো সমঝোতা না হলে যোগাযোগের পথ খোলা থাকলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আবারো পাল্টাপাল্টি চাপ ও সংঘাতের দিকে চলমান হবে।"

অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি জেনারেল জাহিদ মেহমুদের মতে, এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পাকিস্তানের ভূমিকা অভিনব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পথ তৈরিতে পাকিস্তানি ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় সংকট

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তবে, মুনিরের এবারের সফর এমন সময়ে ঘটছে, যখন কূটনৈতিক উদ্যোগ বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

গত ১৭ জুন পাকিস্তান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতার ৬০ দিনের সময়সীমা আগস্টের মাঝামাঝি শেষ হয়েছে, কিন্তু কোনো পক্ষই এর মেয়াদ বাড়াতে রাজি হয়নি।

বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে এবং তাদের দাবি হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রকে শর্তাসমূহ পূরণ করতে হবে। দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথমে নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে, বিদেশে থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে এবং সামরিক হুমকি বন্ধ করতে হবে। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন এই শর্তগুলো এখনো পূরণ করেনি। এ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছেন এবং মার্কিন কর্মকর্তারা তথ্য দিচ্ছেন যে, এ নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, চলমান নৌ অবরোধের পাশাপাশি নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হলো ইরানের সরকারের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা এবং শেষ পর্যন্ত সরকারকে পতনের দিকে ঠেলে দেওয়া।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেছে। মুনিরের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আঞ্চলিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তির অংশ হিসেবে, তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

স্থবির হয়ে পড়া মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা আবার কার্যকর করতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি চলতি মাসের শুরুতে তেহরান সফর করেছিলেন, কিন্তু তিনি কোনও সুনির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই দেশে ফিরেছেন।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য অঞ্চলেও উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের ভূখণ্ড থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলার শিকার হওয়ার খবর দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই দাবি অস্বীকার করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গঙ্গার পানি বাড়ায় ফারাক্কার সব গেট খুলে দিতে বললেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


গঙ্গার পানি বাড়ায় ফারাক্কার সব গেট খুলে দিতে বললেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী

ফারাক্কা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেয়ার জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার, শুভেন্দুর সঙ্গে টেলিফোন আলাপের মাধ্যমে তিনি এ আহ্বান জানান।

সম্রাট চৌধুরী সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘গঙ্গার পানি বাড়তে থাকায় এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতিগুলো বিবেচনায় নিয়ে আমি আজ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। তাকে ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেয়ার অনুরোধ করেছি।’

সম্রাট চৌধুরী আরও বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আরো জানিয়ে দেন, ‘ফারাক্কা ব্যারাজের গেট খুলে দিলে গঙ্গার পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিহারের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

এদিকে, জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় ঝা ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বিহারের স্বার্থ বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ৩০ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে ডিসেম্বরের মধ্যে, সুতরাং বিহারের স্বার্থ সুরক্ষিত না করে চুক্তি নবায়ন করা উচিত নয়।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, যার মধ্যে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মাধ্যমে ফারাক্কা ব্যারাজে শুষ্ক মৌসুমে পানিবণ্টনের বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

২০১১ সালে প্রস্তাবিত একটি চুক্তিতে তিস্তার পানির ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ ভারত এবং ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাংলাদেশকে দেয়ার কথা ছিল। বাকি পানি অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় ভাগ করার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিরোধিতার কারণে এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হতে পারেনি।

সূত্র: এএনআই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজ উদদৌলা-শাহাদাতের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন; খালাস ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


সিরাজ উদদৌলা-শাহাদাতের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন; খালাস ১০

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আসামি সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাতের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বহাল রেখেছে।

একইসঙ্গে, চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে, এবং ১০ জনের খালাস ঘটেছে।

গত সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেছেন।

রায়ে, মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে দুজনের। এরা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা এবং ওই একই মাদরাসার ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীম।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া ৪ জন হলেন সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, নুর উদ্দিন এবং উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন।

এদিকে, খালাস পাওয়া ১০ জনের মধ্যে আছেন কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।

এর পূর্বে, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিবসটি নির্ধারিত করা হয়েছিল। গত ২৮ জুলাই, মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল, আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যাওয়ার সময় পরিকল্পিতভাবে নুসরাত জাহান রাফিকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল। গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে পূর্বে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল, নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষ করে ওই বছরের ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার নৃশংস এই ঘটনায় পুরো দেশ ফুঁসে উঠেছিল। ঘটনার মাত্র সাত মাসের মধ্যে, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর, ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

নিম্ন আদালতের সেই সাজার পর, আইনের পুনরাবৃত্তি অনুসরণ করে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলা নথি হাইকোর্টে আসে। দীর্ঘ আইনি লড়াই, রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে, সোমবার উচ্চ আদালত মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও একই মাদরাসার ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। একদিকে, মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে চার জনকে যাবজ্জীবন দেয় এবং খালাস দেয় ১০ আসামিকে। রায় প্রণয়ন কালে, নিম্ন আদালতে ঢালাও ফাঁসি দেয়ার বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন হাইকোর্ট।

নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। যাবজ্জীবন প্রাপ্ত চার আসামিকে কনডেম সেল থেকে সাধারণ জেলখানায় স্থানান্তর করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%