১১:২৫ এম
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, কংগ্রেসের উচিত নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে আত্মবিশ্লেষণ করা, কারণ ভোটের রাজনীতিতে তারা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
অমিত শাহ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও কংগ্রেস চতুর্বারের মতো শোচনীয় পরাজয়ের সম্মুখীন হবে। তিনি দিল্লিতে সাংবাদিকদের সামনে এই মন্তব্য করেন।
গুজরাটের গান্ধীনগর মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির বিশাল জয়ের পর এই রাজনৈতিক সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ জোট প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মোদির আত্মবিশ্বাসী ভাবমূর্তিতে চিড় ধরাচ্ছে তরুণদের বিক্ষোভ
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে চাপ দিয়ে এবং তাদের সুরক্ষা দিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হচ্ছে। এর জবাবে অমিত শাহ দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়াটি ২০২৪ সালের পর কার্যকর হয়েছে। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী দলের নেতৃত্বে আসার পর থেকেই কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে।
অমিত শাহ প্রশ্ন তোলেন, “রাহুলজিকে আমি জিজ্ঞেস করতে চাই—বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা কি এই এসআইআর-এর ফলেই তৈরি? আপনাদের আত্মবিশ্লেষণ করা দরকার।”
তিনি ইভিএম বা ভোটার তালিকাকে পরাজয়ের জন্য দায়ী করার সংস্কৃতিকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন। অমিত শাহ বলেন, শুধু গুজরাট বা দিল্লি নয় বরং ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং তামিলনাড়ুর বিভিন্ন উপনির্বাচন বা স্থানীয় নির্বাচনেও কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে।
ত্রিপুরার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট হওয়ার পরেও বিজেপির জয় পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, বিজেপির জয় কোনো বিশেষ পদ্ধতি বা ইভিএমের ওপর নির্ভরশীল নয়। রাহুল গান্ধীর ছাত্র কর্মসূচি ‘ছাত্রোঁ কি গূঞ্জ’ এবং দিল্লিভিত্তিক আন্দোলনকে ‘মিডিয়া ইভেন্ট’ ও ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ৭৩ বছর পর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক বোর্ডের চেয়ারপারসন নির্বাচিত
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামগঞ্জ থেকে কংগ্রেস সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, “দেশের প্রকৃত কণ্ঠস্বর লুকিয়ে রয়েছে খেতখামার, গ্রাম, পাহাড়ি অঞ্চল ও নদীতীরবর্তী জনপদে; কিন্তু সেখানে কংগ্রেসের কোনো পৌঁছানোর ক্ষমতা বা জনভিত্তি নেই।”
সবশেষে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে অমিত শাহ বলেন, ইন্ডিয়া জোট আবারও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করবে এবং কংগ্রেস হ্যাটট্রিকের পর চতুর্থ বারের মতো বড় পরাজয়ের স্বাদ পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন