১০:৩৬ পি.এম
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গ্রাম্য বিরোধের ফলে বাড়ি থেকে চলাচলের একমাত্র রাস্তায় বেড়া দিয়ে দুটি পরিবারের নারী-শিশুসহ ১১ সদস্যকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের মো. শাহিন সরকার নামের এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৯ জুলাই) উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায়।
একই সঙ্গে চলাচলের একমাত্র রাস্তায় বেড়া দেওয়ার কারণে সকাল থেকেই ভুক্তভোগী দুটি পরিবারের সদস্যরা এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এবং তারা বাড়ির বাইরে বের হতে পারেননি। ফলে স্কুলে যেতে পারেনি ওই পরিবারের শিক্ষার্থীরা। এমনকি প্রয়োজনীয় সাংসারিক জিনিসপত্র কিনতেও বের হতে পারছেন না পরিবারের কোনো সদস্য।
আরও পড়ুন: বেগমগঞ্জে তরুণ কামরুল হাসানকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই
এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার প্রধান মো. জমশেদ আলী মোল্লা জানান, তারা প্রতিকার পেতে সরকারের দপ্তরে অভিযোগ দিতে পারছেন না। পাশাপাশি তাদের অবরুদ্ধকারী প্রভাবশালী হওয়ায় তারা পরিবারের সব সদস্য নিয়ে চিন্তিত।
জানা গেছে, উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ঈদগাহ মাঠে প্রাচীর নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ নিয়ে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। এক পক্ষের সমর্থক অবরুদ্ধ হওয়া জমশেদ আলী এবং অপর পক্ষের প্রভাবশালী শাহিন সরকার গ্রামের নিকটতম প্রতিবেশী। ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর নির্মাণ সম্পর্কে শাহিন সরকারের মতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন আরেক প্রতিবেশী জমশেদ আলী মোল্লার পরিবার। এ নিয়ে সর্বস্ব বিরোধ দেখা দেয়।
এই বিরোধের প্রেক্ষিতে প্রভাবশালী শাহিন সরকারের বিরুদ্ধে জমশেদ আলীর পরিবার অবস্থান নেওয়ার পর সকাল ৮টার দিকে শাহিন সরকার দলবল নিয়ে জমশেদ আলীর পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন। তাই সকাল থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী দুটি পরিবারের নারী-শিশুসহ ১১ সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে আছেন।
দুটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করার বিষয়ে প্রভাবশালী শাহিন সরকার জানান, "আমার জায়গা আমি বেড়া দিয়েছি। কারণ জমশেদ আলীর চলাচলের পথে আমার জমির ফসল-আদি নষ্ট হয়। যেজন্য এক পাশে বেড়া দিলেও অন্য পাশে চলাচলের আরেকটি রাস্তা রয়েছে। তারা সেখান দিয়ে চলাচল করুক।"
আরও পড়ুন: সকালে যুবদল নেতা, সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ খুলনায়
কিন্তু ভুক্তভোগী জমশেদ আলী মোল্লা জানান, "মূলত বেড়া দেওয়া রাস্তাটি কিছু অংশ আমারও আছে। সে রাস্তা দিয়েই বহু বছর ধরে চলাচল করে আসছি। কিন্তু আজকে শাহিন সরকার প্রভাবশালী হওয়ার কারণে জোর করে বেড়া দিয়ে আমাদের দুটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। যা অন্যায়।"
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, "এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন