শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৬ পি.এম
মাদারীপুর সদর উপজেলার সদর থেকে মস্তফাপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার সড়কের পূর্ণ পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই মেটেরিয়াল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সড়কটির সংস্কারকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী জাহান।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের খাগদি এলাকায় গিয়ে সড়কের চলমান সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় সড়কের কাজে ব্যবহৃত পাথরের মেটেরিয়ালসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই করেন সংসদ সদস্য।
পরিদর্শনকালে ব্যবহৃত পাথরের মেটেরিয়ালে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে মেটেরিয়াল পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গুণগত মান নিশ্চিত করার পর কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরেজমিনে আরও অভিযোগ ওঠে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন না করেই সড়কের সংস্কারকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই ও প্রকৌশলগত তদারকিতে অনিয়ম হয়ে থাকলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজল খান বলেন, সরকারি অর্থে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করা হচ্ছে। তাই কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়। ব্যবহৃত মেটেরিয়াল যথাযথভাবে পরীক্ষা, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ এবং নির্মাণকাজে নিয়মিত প্রকৌশলগত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধুলা-ময়লা ও বালুর ওপর কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়েছে।
সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অভি ইসলাম বলেন, “আমরা সুন্দরভাবেই কাজ করছি। আমাদের কাজের মান আগে থেকেই ভালো। ওটিবিএল সব সময় ভালো কাজ করে।”
এদিকে সড়কের সংস্কারকাজ ও ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে জানতে চাইলে মাদারীপুর সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক ও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২৫ কোটি ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে মাদারীপুর সদর থেকে মস্তফাপুর পর্যন্ত সড়কটির পূর্ণ পুনর্নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির আওতায় সড়কটির উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। টেন্ডার আইডি ১১৭৬২৯১-এর আওতায় কাজটি করছে অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড (ওটিবিএল)।
চলতি বছরের মার্চ মাসে পূর্ণ নির্মাণকাজ শুরু হলেও এরই মধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত, ফাটল ও দেবে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত প্রতিটি মেটেরিয়াল যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কাজের প্রতিটি ধাপে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীদের নিয়মিত তদারকি এবং নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পরিদর্শনকালে সড়ক বিভাগের প্রতিনিধি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন জনপ্রিয় উপস্থাপিকা, মডেল ও উদ্যোক্তা ইসরাত পায়েল। পরিবারের সম্মতিতে এবং স্বজনদের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ী আল-আমিন চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সুখবরটি জানান ইসরাত পায়েল। ছবিতে লাল রঙের জমকালো শাড়িতে স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায় তাকে।
পায়েলের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তার জীবনসঙ্গীকে নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। জানা গেছে, তার স্বামী আল-আমিন চৌধুরী পেশায় একজন ব্যবসায়ী। যুক্তরাজ্যে তার একাধিক ব্যবসা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিয়ের ছবি প্রকাশ করে পায়েল লিখেছেন, আসসালামু আলাইকুম। আলহামদুলিল্লাহ, পরিবারের সম্মতিতে আল-আমিন চৌধুরীর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে। এখনকার সময়ে বিয়ে করে সুখে থাকার চেয়ে শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে টিকে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে টিকে থাকতে পারি।
বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও জল্পনা শুরু হলে কমেন্ট বক্সে বিষয়টি পরিষ্কার করেন পায়েল। তিনি জানান, তাদের বিয়ে বেশ কিছুদিন আগেই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
এদিকে ব্যক্তিজীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনার পাশাপাশি ইসরাত পায়েলের ক্যারিয়ারও বেশ সমৃদ্ধ। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মিস হেরিটেজ ইন্টারন্যাশনাল’-এ সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। একই বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপের বিভিন্ন আয়োজন উপস্থাপনা করে দর্শকদের নজর কাড়েন।
পরবর্তীতে ছোটপর্দার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, বড় পরিসরের স্টেজ শো, মডেলিং এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন ইসরাত পায়েল।
ক্যারিয়ারের ব্যস্ততার মাঝেই এবার ব্যক্তিজীবনে নতুন পথচলা শুরু করলেন এই তারকা। নতুন জীবনের সুখ, শান্তি ও স্থায়িত্বের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ এর অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামেও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারা দেশের সঙ্গে কুড়িগ্রামেও এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, আমরা নিজেকে সুস্থ রাখি, নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি, নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি ও নিজের দেশকে সুস্থ রাখতে সহযোগিতা করি। আমরা যদি সপ্তাহে একদিন নিজের থাকার জায়গা ও তার চারপাশ পরিষ্কার করি তাহলে দ্রুততার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ হতে পারবো। যারা আবর্জনা তৈরি করবে, ময়লা ফেলবে আমরা তাদের নিরুৎসাহিত করি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে দেশকে কীভাবে পরিবর্তন করতে হবে। একটি পরিচ্ছন্ন পরিবার, পরিচ্ছন্ন দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল সহ একটি সুস্থ জাতি গঠন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান৷
এ উপলক্ষে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, সিভিল সার্জন ডাঃ স্বপন কুমার বিশ্বাস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি এর উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসাদুজ্জামান, জেলা বিএনপির আহবায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হাবিবুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী, সেনাবাহিনীর কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজ বিএনসিসি ইউনিটের প্লাটুন কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ সহ বিএনসিসি সদস্য, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
কর্মসূচির আওতায় এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস, জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দেয়া হয়।
সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী এ অভিযান চলবে। প্রতি শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসময় সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নিজ নিজ বাড়িঘর, আঙিনা এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়া শনিবার (১২ আগস্ট) শুরু হয়ে চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি, ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা এবং আইনানুগ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ব্যবহার করে ভোট দিতে পারবেন।
আজ সকালে ইসির ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম আহমেদ খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঠাকুরগাঁও- ১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দিতে ইচ্ছুক প্রবাসী ভোটাররা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১২ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধিতরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।
ইসির তথ্যমতে, দেশের ভেতর ও বাইরের ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি পোস্টাল ব্যালট বিতরণ করা হবে।
ইসি ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর। ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করা যাবে। ৬ অক্টোবর ইসি সেই আপিলগুলোর নিষ্পত্তি করবে। প্রার্থীরা ৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
ইসির তথ্যমতে, ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এই উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
মোট ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জন ভোটার ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন পরিচালনায় ৩ হাজার ১৫২ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন; যার মধ্যে রয়েছেন ১৮৫ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৯৮৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৯৭৮ জন পোলিং অফিসার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ