ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হামাস ও হিজবুল্লাহ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক


হামাস ও হিজবুল্লাহ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

হত্যাকাণ্ডের শিকার ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আগে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পৃথক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, হামাসের শুরা কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ দারবিশের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে আরাগচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে প্রতিনিধিদলটি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করে।

বৈঠকে মোহাম্মদ দারবিশ গাজার পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে একে ‘বিপর্যয়কর’ বলে অভিহিত করেন। তিনি ইসরায়েলকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি ইরানের দীর্ঘদিনের সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে তেহরানের সামরিক ও কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য ইরানকে অভিনন্দন জানান।

আরও পড়ুন: একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগিনার প্রেমের জেরে ব্যবসায়ী হত্যা

জবাবে আব্বাস আরাগচি শোকবার্তার জন্য হামাস প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি ইরানের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, একই দিনে আরাগচি হিজবুল্লাহর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও বৈঠক করেন। প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা ও লেবাননের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ফনেইশ।

বৈঠকে ফনেইশ হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেমের পক্ষ থেকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে সমবেদনা জানান। পাশাপাশি লেবাননের প্রতি ইরানের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে তেহরানের সামরিক ও কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন।

জবাবে আরাগচি হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রশংসা করেন এবং সংগঠনটির নিহত সাবেক মহাসচিব হাসান নাসরুল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আলোকে লেবাননে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

আরও পড়ুন: জামায়াত-এনসিপির ৯০ এমপির মেধা-যোগ্যতা বনাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাশেদ খান

সূত্র: আল-জাজিরা, ইরনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন সময়োপযোগী করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ পি.এম


তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন সময়োপযোগী করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিস্তারের কারণে উদ্ভূত নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা সময়োপযোগী করা হবে। প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন যে, বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা করে বাস্তবতার নিরিখে যুগোপযোগী সুপারিশ প্রণয়নের কাজ করতে হবে। আজ (রোববার) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আইন সময়োপযোগীকরণ এবং নতুন আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা, যোগাযোগ ও সামাজিক আচরণের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি খুব গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। প্রযুক্তি মানুষের জন্য যেমন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে, তেমনি এর সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সেগুলোকে একটি কার্যকর আইনি কাঠামোর আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।’

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদ্যমান সব আইন, বিধি, প্রবিধান ও নীতিমালা পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কোন আইন আধুনিকায়ন প্রার্থনীয়, কোথায় নতুন আইন প্রয়োজন, এবং কোন ক্ষেত্রে আইনি ঘাটতি রয়েছে সেসব উপাদান পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সুপারিশ দেবেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি মূলত প্রিন্ট মিডিয়া ও সম্প্রচারমাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিকাশের ফলে অসংখ্য নতুন মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই প্রচলিত আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। তাই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের আইনি কাঠামো আধুনিকায়ন করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এসব দেশের আধুনিক আইন ও অভিজ্ঞতার অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তোলা যায়।

তিনি যোগ করেন, সাইবার জগৎ, ডিজিটাল ট্রান্সমিশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভিন্ন ভিন্ন সেবাকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনতে হলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, টেলিযোগাযোগ ও অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মতামত গ্রহণেরও প্রয়োজন রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত শনাক্ত করতে, অংশীজন নির্ধারণ করতে, দায়িত্ব বণ্টন ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন।

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী প্যানেলের সদস্যবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৮ পি.এম


নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপত্তা কৌশলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে বলেছেন যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। এই লক্ষ্যে পিজিআরের সকল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই আহ্বান উপস্থিত সকলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তিনি বলেন, 'একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি যাতে জনগণ নিজেদেরকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহবান জানাই।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃংঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরে'র দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।'

পিজিআরের কাজটি চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।'

সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ 'পিজিআর' চলতি বছর 'ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড' পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।'

সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।

তিনি বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।'

পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি আশা করব, পিজিআরে'র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি 'চেইন অব কমান্ড' অনুসরণ- এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।'

একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যে কোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরী হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।'

তিনি বলেন, 'এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি।'

তারেক রহমান বলেন, 'সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফের মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।'

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১৯৭৫ সালের এইদিনে প্রথমে 'রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তীকালে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর 'রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট'কে 'প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট' হিসেবে নামকরণ করেন। নতুন এ নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরো দৃঢ় ও গতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব রাখে।'

পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে নিজের জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ এবং হৃদয় বিদারক ঘটনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের কথা মনে পড়ছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের সময় কর্তব্য পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও শহীদ হয়েছিল। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি পিজিআরের সেই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আল্লাহর দরবারে তাঁদের মাগফিরাত কামনা করছি।'

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং জীবন উৎসর্গের যে চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে এটি অবশ্যই পিজিআরের সদস্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।'

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। তিনি পিজিআর সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

উল্লেখ্য প্রতি বছর ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত এই বাহিনী গঠিত হয়। ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে বার্ষিক দরবার ও সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করা হয়।

পিজিআর মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এটি বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও অন্যান্য সামরিক দায়িত্ব পালন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে : চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে : চিফ প্রসিকিউটর

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে, এই কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ (রোববার) তিনি নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথাগুলো বলেন।

তিনি আরও জানান, একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। আমরা সেটি যথাযথভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্ত সংস্থায় পাঠিয়েছি। বর্তমানে তদন্তকারীরা সেই অভিযোগের ওপর তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তদন্তে যদি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে প্রাথমিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকবে।

একটি অন্য প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনেক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। বহু মামলা রয়েছে যার জন্য তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন। বিশেষ করে শাপলা চত্বরসহ একাধিক মামলায় তিনি বিচারের সম্মুখীন হতে পারেন। একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। আমাদের তার কাছে পরামর্শ, দেশে ফিরে তিনি বিচার মোকাবিলা করুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ও ইস্কাপ সিরাপ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ পি.এম


লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ও ইস্কাপ সিরাপ উদ্ধার

জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে ২ হাজার ৫০০টি ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট, ২৭ বোতল ইস্কাপ সিরাপ এবং দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আজ রোববার দুপুরে ১৫ বিজিবির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গোপন সংবাদ পেয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী বিওপির আওতাধীন মাছানকুড়া এলাকায় বিশেষ একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন সন্দেহভাজনকে থামার সংকেত দিলে তারা এসে মোটরসাইকেল ও মাদক ফেলে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ২ হাজার ৫০০টি ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট, ২৭ বোতল ইস্কাপ সিরাপ এবং দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানায়, জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকা। এই ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বাসস’কে বলেছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%