ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটির বেশি ভোক্তার বাজারে প্রবেশের সুযোগ: ববি হাজ্জাজ


বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটির বেশি ভোক্তার বাজারে প্রবেশের সুযোগ: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে জাপান প্রায় ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার একটি বৃহৎ আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশাধিকার অর্জন করতে পারে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ কেবল একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানের মধ্যকার একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন।

জাপানের ওসাকায় জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (JETRO), জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'Bangladesh Investment Promotion Seminar' (বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন সেমিনার)-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) এর অগ্রগতির ফলে এবং জাপানের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। এ ধরনের উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে এবং জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

আরও পড়ুন: বিআরটি প্রকল্প বাতিলের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান ধর্মঘট

ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেছেন, জাপানের মেইজি পুনর্গঠন (Meiji Restoration) শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি জাতির রূপান্তরের উদাহরণ। বাংলাদেশও জাপানের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি ছিল এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য স্থির করেছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ৭ কোটিরও বেশি তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক শক্তি। মাথাপিছু আয় ৩ হাজার মার্কিন ডলার অতিক্রম করায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের যৌথ লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক বছরে এই বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা।

আরও পড়ুন: ডিএমপির উদ্ধারকৃত ১১৭টি মোবাইল ফোনের মালিকানা শনাক্তের আহ্বান

জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যন্ত্রপাতি ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, শিল্প উপাদান, অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যালস, এপিআই এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন, রোবটিক্স, শিক্ষা প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন। তিনি Artec (আর্কটেক) এর মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষা প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে অংশীদারিত্বের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও মেডিকেল ট্যুরিজম খাতে বাংলাদেশ ও জাপানের সহযোগিতার অপার সম্ভাবনা বিদ্যমান। বাংলাদেশের তরুণ, শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি জাপানের ক্রমবর্ধমান শ্রমঘাটতি এবং বয়স্ক জনগণের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে জাপান সরকারের প্রতি, জাপানে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, জেট্রো এবং ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে সেমিনার আয়োজন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে তাদের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, জাইকাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে জাপান কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে চলেছে।

আরও পড়ুন: ‘ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই’ স্পিকারের সমর্থনে ডা. তাসনিম জারা

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ ও জাপান এখন বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তিনি জাপানি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানে শুধুমাত্র একটি দেশের বাজারে প্রবেশ নয়, বরং ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার বিশাল আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের কৌশলগত সুযোগ।

সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, জেট্রো ও ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জাপানের হাউস অব কাউন্সিলরসের সদস্য ফুতোশি ওকাজাকি, সাইফার-কোর কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোটোইউকি ওদাচি এবং জাপানের শতাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর তিন নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৪ পি.এম


জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর তিন নির্দেশনা

জ্বালানিসঙ্কট মোকাবিলার উদ্দেশ্যে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন, সোলার ইনভার্টার উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে সহায়তা এবং সৌরবিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎসংক্রান্ত এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনার তথ্য জানান তাঁর উপপ্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু)।

তিনি জানালেন, জ্বালানিসঙ্কট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য সৌরবিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

উপপ্রেসবিশেষ সচিব বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। তাই তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এবং ওয়ালটন গ্রুপ পৃথক উপস্থাপনায় আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

তাদের উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। ভোক্তাদের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যাবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার এবং এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানোর সম্ভাবনার বিষয় উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং গ্রুপের সোলার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম তওহিদুল আহাদ, ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

‘আসুন সবাই মিলে দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখি’ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে। যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামী দিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ, সুস্থ পরিবেশ।’

গতকাল সকালে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৪০ বা ৩০ বছর আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরসহ জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট এবং বাজার এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যুসহ নানাবিধ আবর্জনা যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।’

ময়লা-আবর্জনা সঠিক উপায়ে ধ্বংস করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যত্রতত্র আমাদের ব্যবহার করা আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যদি জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে, ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেজার বৈঠক : দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং সব ইপিজেডে পরিবেশ সুরক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ড। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বেজার গভর্নিং বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের নবম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহবান : দক্ষিণ কোরিয়ান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কুর সাক্ষাতে এই আহ্বান জানানো হয় বলে জানান উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

তিনি বলেন, ‘বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ, খেলনা, ইলেকট্রনিকস, টেলিযোগাযোগ, অটোমোবাইল এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।’

উপপ্রেস সচিব বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার কম্পানিগুলো যদি বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগ করে, তবে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

সাক্ষাতের সময় বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫ বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি খালেদা জিয়ার অনুদানে গড়া চাতলপাড় কলেজের ডিগ্রি শাখা, বেতনহীন ১০ শিক্ষক মানবেতর জীবনযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৬ পি.এম


১৫ বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি খালেদা জিয়ার অনুদানে গড়া চাতলপাড় কলেজের ডিগ্রি শাখা, বেতনহীন ১০ শিক্ষক মানবেতর জীবনযাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি শাখা চালু হওয়ার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়াই পাঠদান করছেন ১০ জন শিক্ষক। এতে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুদানে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজ। পরবর্তীতে ২০১১ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি (পাস) শাখা চালু হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত ডিগ্রি বিভাগের শিক্ষকরা সরকারি বেতন-ভাতার আওতায় আসতে পারেননি।
বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রায় ৩৫০ জন এবং ডিগ্রি শাখায় প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন মোট ২৭ জন। এর মধ্যে ডিগ্রি বিভাগের ১০ জন শিক্ষক টানা ১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করে যাচ্ছেন।
ডিগ্রি বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, "শিক্ষকতায় যোগ দেওয়ার সময় সরকারি চাকরিতে আবেদন করার বয়স ছিল। এখন সেই সুযোগও নেই। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।"
কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওমর আলী বলেন,
"২০১১ সালে ডিগ্রি বিভাগ চালু হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ডিগ্রি বিভাগের কোনো শিক্ষক সরকারি বেতন-ভাতা পান না। আমরা তিনবার এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছি। যা পাই, তা দিয়ে কোনো রকম টেনেটুনে সংসার চলে।"
তিনি আরও জানান, ডিগ্রি বিভাগ এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিভাগের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, হাওরাঞ্চলের শিক্ষার স্বার্থে চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি শাখা দ্রুত এমপিওভুক্ত করা হোক এবং দীর্ঘদিন ধরে বেতনবঞ্চিত শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবারের অমতে বিয়ে করায় মেয়েকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করলেন পিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ পি.এম


পরিবারের অমতে বিয়ে করায় মেয়েকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করলেন পিতা

পরিবারের অমতে বিয়ে করায় ২৪ বছর বয়সী একজন তরুণীকে পিটিয়ে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে।

ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় এই ভয়াবহ মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে। অভিযুক্ত পিতা, বিমল শর্মাকে, পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, পুলিশ জানিয়েছে যে, তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত তরুণীর নাম অঙ্কিতা। পুলিশের তথ্য মতে, প্রায় চার মাস আগে, তিনি পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) সদস্য অমিত পাচৌরির সঙ্গে আদালতে বিয়ে করেন।

বিয়ের পর, অমিত কর্মস্থলে ফিরলেও, অঙ্কিতা তার বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকতে থাকেন। এসময়, বিয়ে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে, সোমবার রাতে, বিমল শর্মা তার মেয়েকে মারধর করেন। পরে, একটি ওড়না দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে, তিনি শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

ঘটনার সময়, অভিযুক্তের স্ত্রী ও ছেলে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। হত্যার পর, তিনি তাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং নিজে মরদেহের পাশে বসে ছিলেন বলে পুলিশের দাবি।

প্রতিবেশীরা জানান, রাতের দিকে বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে তারা দরজায় কড়া নাড়েন। কিন্তু, কোনো সাড়া না পেয়ে এবং ঘরের আলো নিভে যেতে দেখে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এবং অঙ্কিতাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, তার গলায় শক্ত করে ওড়না পেঁচানো ছিল এবং মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে, বিমল শর্মা পুলিশকে জানান যে, মেয়ের আদালতে গিয়ে বিয়ে করায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। বারবার বোঝানোর পরও, অঙ্কিতা সম্পর্ক থেকে সরে আসতে রাজি না হওয়ায়, ক্ষোভের বশে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।

এই ঘটনার পর, পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় একদিনে নিহত ২২ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪০ পি.এম


রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় একদিনে নিহত ২২ জন

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে একদিনে অন্তত ২২ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রাশিয়ায় ১৫ জন এবং ইউক্রেনে ১১ জনের মৃত্যুর তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকডজন মানুষ। উভয় দেশ একে অপরের বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ তুললেও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রুশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৩ আগস্ট) ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে ক্রাসনোদার, বেলগোরোদ ও ক্রিমিয়ায়। রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন, গেলেন্দঝিক জেলার পর্যটন এলাকা আরখিপো-ওসিপোভকায় একটি ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হন। একই দিনে কৃষ্ণ সাগরের উপদ্বীপ ক্রিমিয়ায় একক হামলায় নিহত হন চারজন এবং আহত হন দুজন। এছাড়া, ইউক্রেন সীমান্তঘেঁষা বেলগোরোদ অঞ্চলে ড্রোন হামলায় হত্যার শিকার হন আরও চারজন এবং আহত হন ১৭ জন।

অন্যদিকে, সোমবার ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কৃভি রিহ জেলায় একটি পেট্রোল স্টেশনে রুশ বিস্ফোরকবাহী ড্রোন আঘাত হানে। এতে একজন জরুরি পরিষেবাকর্মী এবং তার আট বছর বয়সী ছেলেসহ মোট তিনজন নিহত হন। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা টেলিগ্রামে জানান, হামলার পর পেট্রোল স্টেশনে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সোমবার রাতেই জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলে রুশ বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে দুই শিশুসহ আরও আটজন নিহত হয়েছেন।

২০২২ সালে যুদ্ধের শুরুর দিকে বেসামরিক প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে কম ছিল; তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। যদিও মস্কো ও কিয়েভ দুই পক্ষই দাবি করে থাকে যে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। এদিকে, একটি পৃথক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের বিলিই কোলোদিয়াজ ও উস্পেনিভকা নামে দুটি বসতি রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার এবং ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর, ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। আড়াই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%