শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১৪ এম
ইন্দোনেশিয়ার বন ও পিটল্যান্ডে ভয়াবহ দাবানল থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়াশায় দেশটির বিস্তৃত এলাকা ঢেকে গেছে। বাতাস পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে এবং ধোঁয়াশা মুক্ত করার জন্য এবার আকাশে পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলকভাবে ‘শুষ্ক বরফ’ (কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইড) ছিটাতে শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছর শক্তিশালী এল নিনো’র প্রভাবে চরম খরার মুখোমুখি হয়ে ইন্দোনেশিয়া এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল মৌসুম পার করছে। আশঙ্কাজনক এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার ধোঁয়াশায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের আকাশে বিমান থেকে ১.৫ টন শুষ্ক বরফ ছিটানো হয়।
এর আগে বৃষ্টি ঘটানোর জন্য মেঘে রাসায়নিক পদার্থ ছিটানোর প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ ধরে চালানো হলেও শুষ্ক বরফের এই ব্যবহার সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয়কারী মন্ত্রী দুদং আব্দুর রহমান বলেন, "মেঘ সৃষ্টি করে বৃষ্টি নামানোর বদলে এই শুষ্ক বরফ নিম্ন বায়ুমণ্ডলের ধোঁয়াশাকে ভেঙে দেবে, যাতে তা ওপরের দিকে উঠে যেতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "যদি এই পরীক্ষা সফল হয়, তবে মধ্য কালিমন্তন ও তার আশপাশের ধোঁয়াশাপূর্ণ অন্যান্য এলাকায় আমরা এ কার্যক্রম চালু রাখব।"
দাবানল নেভানো ও বিষাক্ত ধোঁয়াশার প্রভাব কমাতে সব সংস্থাকে জোর তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোওয়া সুবিয়ান্তো। স্বতন্ত্র বন পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম নুসানতারা অ্যাটলাসের তথ্যানুযায়ী, এ বছর ইন্দোনেশিয়ায় ১০ লাখেরও বেশি দাবানল সৃষ্টি হয়ে প্রায় ৯ লাখ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে।
ধোঁয়াশার কারণে কালিমন্তন ও দক্ষিণ সুমাত্রার আকাশ তামাটে রঙ ধারণ করেছে। পাশাপাশি এই দূষিত বায়ু প্রতিবেশী সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ও জোহর বারুতে ক্লাউড সিডিং করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বৃষ্টির জন্য মালয়েশীয় সংস্থাকে নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতিও দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
কৃষিজমি পরিষ্কার করতে উদ্ভিদে আগুন দেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। দাবানলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ ইতোমধ্যে ২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তি এবং ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাহিদ রানা চোট থেকে সুস্থ হয়ে উঠতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সময় নতুন শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেছেন। এই কারণে, গতকাল রাতে অস্ট্রেলিয়ার পার্থের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বাংলাদেশ দলের এই ফাস্ট বোলার। সেখানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিজের শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন করাবেন।
নাহিদ রানার সব মেডিক্যাল রিপোর্ট পার্থের চিকিৎসক পিটার দি’আলেসান্দ্রোর কাছে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকের অনলাইন পরামর্শ ছিল, নাহিদ যদি চান তবে দেশে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। তবে, সব ধরনের ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পার্থের কোস্টাল অর্থোপেডিক হাসপাতালে, পিটার দি’আলেসান্দ্রো নাহিদকে সশরীর দেখে যেভাবে পরামর্শ দেবেন, সেভাবেই তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। বিসিবি সেখানে নাহিদের ১০ দিনের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এই প্রক্রিয়ায় পিটার দি’আলেসান্দ্রোর সঙ্গে স্থানীয় একজন ট্রেনারও থাকবেন।
বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, ‘নাহিদ রানার নতুন করে কোনো চোট হয়নি। তবে যেহেতু সে আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, তাই তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আরেকটি বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ চলাকালে সাইড স্ট্রেইনের কারণে নাহিদ রানা ছিটকে পড়েন। এরপর থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ, এশিয়ান গেমস এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অংশ নিতে পারেননি।
একই কারণে আবুধাবিতে আসন্ন ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজেও নাহিদকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। নিতম্বে ব্যথার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজেও তার না খেলার সম্ভাবনা বেশি। তবে, নভেম্বরের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুটি টেস্টে তাকে কীভাবে খেলানো যায়, সেটিই এখন বিসিবির প্রধান লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নামিবিয়া। মরু অধ্যুষিত সাব-সাহারান এই দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত। দেশের সরকারি নাম ‘নামিবিয়া প্রজাতন্ত্র’। এটি রাষ্ট্রপতি শাসিত দেশ। নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোক, যা দেশের বৃহত্তম নগরী। প্রধান ধর্ম খ্রিস্ট। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী। নামিবিয়ায় প্রায় ৭০ হাজার মুসলিম বাস করেন, যারা সেখানে একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।
নামিবিয়ার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিচয়
নামিবিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১৯৯০ সালের ২১ মার্চ স্বাধীনতা লাভ করে। জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে ১৯৯০ সালের ২৩ এপ্রিল। নামিবিয়ার অবস্থান আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে। উত্তরে অ্যাঙ্গোলা, উত্তর-পূর্বে জাম্বিয়া, পূর্বে বতসোয়ানা, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত। নামিবিয়ার উত্তরে শুষ্ক এলাকা থেকে উপকূল এবং পূর্বে মরুভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত। মোট আয়তন আট লাখ ২৫ হাজার ৪১৪ বর্গকিলোমিটার। ২০২৫ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটির মোট জনসংখ্যা ৩০ লাখ ২২ হাজার। জনসংখ্যার ৮৭.৯ শতাংশ মানুষ খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী এবং ২.৩ শতাংশ মানুষ মুসলিম।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ইসলামের আগমন ও বিকাশ
নামিবিয়ায় ইসলামের ইতিহাস খুব প্রাচীন নয়। ১৮ শতকে দেশটিতে মুসলিম জনগণের আগমন ঘটে বলে জানা যায়। তবে ইসলামের বিকাশ ঘটে বিশ শতকের দিকে। প্রধানত ভারতীয় মুসলিম ব্যবসায়ীরা নামিবিয়ায় গমন করার মাধ্যমে সেখানে ইসলামের বিকাশ সাধিত হয়। ১৮ শতকে মুসলিম ব্যবসায়ীরা নামিবিয়ার বন্দরনগরী লুডেরিটজে বসতি স্থাপন করেন। এই ব্যবসায়ীরা ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তারা ধর্মীয় অনুশাসন পালন এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়ে শিক্ষার তাগিদে লুডেরিটজে প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। বর্তমানে দেশটির রাজধানী উইন্ডহোকে কয়েকটি মসজিদ বিদ্যমান।
নামিবিয়ার মুসলিমদের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো দেখভাল করার জন্য বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন ও ইসলামিক সেন্টার কাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো সংগঠন ‘নামিবিয়া ইসলামিক কাউন্সিল’। দেশটিতে ‘ইসলামিক হালাল অ্যাসোসিয়েশন’ নামেও একটি সংগঠন রয়েছে, যা হালাল পণ্যের সনদ প্রদান করে। নামিবিয়ার মুসলিম শিক্ষার্থীরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য গমন করেন।
‘উইন্ডহোক ইসলামিক সেন্টার’ নামীয় মুসলমানদের আরেকটি সংগঠন আছে, যা রাজধানী উইন্ডহোকে অবস্থিত। এই সংগঠন ইসলাম প্রচারের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ইসলামিক সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ড. আরমাস আবদুল মালিক সিকঙ্গো নামিবিয়ার মুসলমানদের সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, "নামিবিয়ার বহু মানুষ এখনো খ্রিস্ট ধর্মের সঙ্গে ইসলামের পার্থক্য কোথায় তা জানে না।" তাদের অনেকেই মসজিদকে ইসলামের চার্চ মনে করে। যদিও ইবরাহিমি ধর্ম হিসেবে ইসলাম ও খ্রিস্ট ধর্মের মধ্যে কিছুটা মিল থাকলেও দুটিই আলাদা ধর্ম।
নামিবিয়ায় বসবাসরত বেশির ভাগই সুন্নি ধারার মুসলিম। নামিবিয়ার মুসলিমরা মুক্ত মনের অধিকারী। মুসলিমদের বেশির ভাগ নামিবিয়ান নাগরিক নন, বরং তারা অভিবাসী। তাদের মধ্যে রয়েছে ভারতীয়, পাকিস্তানি, আরব ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত নাগরিক। নামিবিয়ার মুসলমানদের বড় অংশ অভিবাসী হলেও সেখানে ধর্মান্তরিত মানুষের সংখ্যা কম নয়। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, নামিবিয়ায় একজন নারী প্রথমে ১৯৪০ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন।
নামিবিয়ায় মসজিদ ও ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
নামিবিয়ায় ২০০৯ সালে ১২টি মসজিদ ছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে দেশটিতে ৫০টিরও বেশি মসজিদ বিদ্যমান। তা ছাড়া রয়েছে কয়েকটি বিখ্যাত ইসলামিক সেন্টার। এসব মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার মুসলিমদের মধ্যে ইসলামী শিক্ষা প্রসারের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সাধারণত মসজিদগুলোতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও জ্ঞান দান করা হয়।
নামিবিয়ায় মুসলিমের সংখ্যা বাড়ছে
উইন্ডহোক ইসলামিক সেন্টারের প্রধান ড. আরমাস আবদুল মালিক বলেন, "মুসলিমরা নামিবিয়ায় ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী হলেও সমাজে তাদের প্রভাব ও পরিচিতি বাড়ছে।" উল্লেখ্য যে নামিবিয়ার সাধারণ মানুষ মুক্ত মনের অধিকারী এবং ইসলামের ব্যাপারে তারা উদার ও সহনশীল। ফলে মুসলমানদের সেখানে স্বাধীনভাবে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে কাজ করতে বাধা নেই। বর্তমানে যেভাবে ইসলামের কাজ চলছে, তাতে শিগগিরই মুসলমানরা আরো এগিয়ে যাবে এবং মুসলিম জনসংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। মহান আল্লাহ নামিবিয়ার মুসলমানদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমিন।
লেখক : শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও সিনিয়র ইসলামী ব্যাংকার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সপ্তমবারের মতো বসছে ‘সুপার সেল কার বাজারের’ আসর। টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের সাড়া পাওয়ার পর, এ নিয়ে সপ্তম সপ্তাহের জন্য গাড়ি কেনা-বেচার এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ক্রেতারা এখানে নিজের পছন্দের গাড়িটি কিনতে পারছেন। একইসাথে, তারা নিজেদের ব্যবহৃত গাড়ি উপযুক্ত দামে বিক্রি করার সুযোগও পাচ্ছেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই গাড়ি কেনা-বেচার আসর এখন থেকে নিয়মিতভাবে প্রতি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। ক্রেতারা এখানে কোনো রকম ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই পছন্দের বাইক কিংবা গাড়ি কিনতে সক্ষম হচ্ছেন।
প্রয়োজনে, নিজের ব্যবহৃত বাইক কিংবা চার চাকার গাড়িও বিক্রি করা সম্ভব। ‘সুপার সেল কার বাজার’ উদ্বোধনী দিনেই অনেক ক্রেতার নজর আকর্ষণ করেছে। অনেক ক্রেতা মনে করছেন, ব্যস্ততার এই শহরে এমন আয়োজন নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক।
তাহলে ক্রেতাদের নিয়মিত স্বস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ‘সুপার সেল কার বাজার’ বসছে।
নতুন, পুরাতন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, মোটরবাইক এবং ইউটিলিটি ভেহিকেলের বিশাল সমাহার এই কার বাজারে থাকবে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নিয়মিত ও আধুনিক মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। ‘সুপার সেল কার বাজার’ সেই চাহিদা পূরণে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ক্রেতারা এক জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের যানবাহন সম্পর্কে জানার এবং তুলনা করার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি বিক্রেতারাও সরাসরি সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন।
‘সুপার সেল কার বাজার’ আয়োজন করছে উইজার্ড শোবিজ এবং ভেন্যু পার্টনার হিসেবে রয়েছে আইসিসিবি। এই আয়োজনে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ডিলারশিপ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অটোমোবাইল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল বিশেষ ছাড়ে কেনাবেচার সুযোগও রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহান আল্লাহর রহস্যময় সৃষ্টির মধ্যে একটি হলো কালি। যদিও শব্দটি শুনতে বা পড়তে সাধারণ তরল পদার্থের মতো মনে হয়, মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে অসাধারণ ক্ষমতাবান করে গড়েছেন। কালি বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে এবং এর ব্যবহারও বহুবিধ। উদাহরণ হিসেবে কলমের ডগা থেকে বের হওয়া কালির কথা উল্লেখ করা যায়। এটি কখনো জ্ঞান সংরক্ষণের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়, কখনো ইতিহাসের সাক্ষী, কখনো মুক্তির পরোয়ানা, আবার কখনো বিচারকের কলমের ডগা বেয়ে কারো জীবন-মৃত্যুর ফয়সালা নির্ধারণ করে।
রাষ্ট্র বা বিশ্বনেতাদের কলমের ডগা থেকে বের হওয়া এক ফোঁটা কালি কোটি কোটি মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে, আবার একটি কলমের খোঁচায় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। এটি সভ্যতার সংরক্ষণের অন্যতম হাতিয়ারও হতে পারে। কারণ কলমের কালিতে লিপিবদ্ধ হয় মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস, আবিষ্কার ও সভ্যতার অগ্রযাত্রা। মানুষের স্মৃতি সীমিত এবং আয়ু ক্ষণস্থায়ী।
তবে কালিতে লেখা জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আলো ছড়াতে সক্ষম। যেমন—প্রাচীনকালের বহু গুণী লেখক পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাঁদের কলমের কালিতে সঞ্চিত জ্ঞান আজও বেঁচে আছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের মধ্যে তাঁদের চিন্তা ও মেধার ফসল বণ্টন করে যাচ্ছে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ জ্ঞানচর্চার অন্যতম মাধ্যম কলমের কথা উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘পড়ুন, আর আপনার রব মহামহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।’ (সুরা : আলাক, আয়াত : ৩-৫)
সুরা আলাকের এই আয়াতগুলো মানবজাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়, জ্ঞান অর্জন আল্লাহর এক মহান নিয়ামত এবং কলম সেই জ্ঞান সংরক্ষণের অন্যতম মাধ্যম। আর কলমের অন্যতম উপাদান হলো কালি। মহান আল্লাহর সৃষ্ট এই শক্তিশালী ও অতিপ্রয়োজনীয় পদার্থের কথাও পবিত্র কোরআনে এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন, “বলুন, ‘আমার রবের কথা লেখার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়ে যায় তবে সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে আমার রবের কথা শেষ হওয়ার আগেই। যদিও এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র নিয়ে আসি।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ২৭)
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘আর জমিনে যত গাছ আছে তা যদি কলম হয়, আর সমুদ্র (হয় কালি), তার সঙ্গে কালিতে পরিণত হয় আরো সাত সমুদ্র, তবু আল্লাহর বাণীসমূহ শেষ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ২৭)
এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, কলমের কালি জ্ঞান সংরক্ষণের অন্যতম মাধ্যম।
কখনো কখনো আবার কলমের কালি হক-বাতিলে পার্থক্যকারী হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে কালির সঙ্গে ন্যায়-অন্যায় সম্পৃক্ত হয়ে যায়। যেমন—বিচারকের কলম থেকে বের হওয়া কিছু শব্দ কারো কারাবাস কিংবা মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আবার একই কালিতে লেখা হতে পারে নিরপরাধ মানুষের বেকসুর খালাসের রায়। শুধু আদালতের বিচারকের হাতে নয়, অফিস-আদালত, সংবাদমাধ্যম ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রকদের হাতে থাকা কলমের কালিও ন্যায়-অন্যায়ের মাধ্যম হয়ে থাকে। প্রতিটি দায়িত্বশীলের উচিত ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে তা ব্যবহার করা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল, প্রত্যেকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৪০৯)
এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, প্রত্যেকের দায়িত্বের পরিধিতে প্রত্যেকের সৎ থাকা উচিত। হাতে দায়িত্বের কলম পেয়ে তার কালির সঙ্গে নিজের অন্তরের কালি গুলিয়ে আমানতের খিয়ানত করলে, তার জন্য পরকালে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর সামনে উত্থাপিত হওয়া তাদের আমলনামায় দেখা যাবে, আল্লাহর নিয়োজিত ফেরেশতাদের কলম তাদের বিরুদ্ধে লিখে রাখবে।
তাহলে কলমের কালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্তরের কালির দ্বারা প্রভাবিত হওয়া যাবে না। অন্তরের কালির প্রভাবে করা অপরাধকে আইনসিদ্ধ করতে মিথ্যা অপবাদের মাধ্যমে অন্যের চরিত্রে কালি মেখে তাকে সমাজের সামনে হেয় করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে এ ব্যাপারে সতর্ক করে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর কেউ কোনো দোষ বা পাপ করে পরে সেটা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির প্রতি আরোপ করলে সে তো মিথ্যা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১১২)
মনে রাখতে হবে, মানুষের গায়ের রং কালো হওয়া নিন্দনীয় নয়, কিন্তু অন্তর কালো হওয়া নিন্দনীয়। উল্লিখিত আলোচনা দ্বারা বোঝা যায়, মহান আল্লাহর সৃষ্ট এই তরল পদার্থ প্রকৃত অর্থ ও রূপক অর্থের সমন্বয়ে আমাদের বহু বিষয়ে শিক্ষা দেয়। এটি কখনো তা জ্ঞানের আলো, কখনো ন্যায়বিচারের দলিল, কখনো অপবাদের অন্ধকার, আবার কখনো মানুষের দায়িত্ববোধের পরীক্ষা। একই কালি দিয়ে সত্য লেখা যায়, মিথ্যাও লেখা যায়; মানুষের সম্মান রক্ষা করা যায়, ধ্বংসও করা যায়। পার্থক্যটা কালিতে নয়, বরং কলমধারীর বিবেক ও নিয়তে। মহান আল্লাহ সবার নিয়ত বিশুদ্ধ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ