০৬:৩৮ এম
ঢাকার ধামরাইয়ে পারিবারিক কলহের কারণে পপি রাণী সরকার (২৭) নামের তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী লিটন সরকারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
রোববার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকা থেকে পপি রাণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধামরাইয়ের গোমগ্রাম এলাকার অটোরিকশাচালক লিটন সরকার অনেক দিন ধরে মাদকাসক্ত রয়েছেন। তিনি প্রতিদিন দুই সন্তানের জননী পপি রাণীকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরের দিকে পারিবারিক কলহের জেরে তাদের ৭ বছরের শিশু সন্তানের সামনে লাঠি দিয়ে পপি রাণীকে নির্মমভাবে পেটাতে শুরু করেন লিটন। এ শারীরিক নির্যাতনের একপর্যায়ে পপি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে বাথরুমের সামনে ফেলে রেখে লিটন বাইরে চলে যান।
আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ
পরে পপির অবস্থার অবনতি দেখে সন্ধ্যার দিকে লিটন নিজেই স্থানীয়দের সাহায্যে কালামপুর হলি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পপি রাণীকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা পরিমল সরকার অভিযোগ করেন, “আমার মেয়েকে প্রায়ই মারধর করা হতো। এর আগেও মারধরের ফলে শ্বশুর বাড়ির কাছে একটি ব্রিজের নীচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আমি বহুবার আমার মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। কিন্তু পরে জামাই এসে পা ধরে মাফ চেয়ে নিয়ে গেছে। আজ আমার মেয়েকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। সন্ধ্যা বেলায় খবর পেয়ে জামাইয়ের বাড়ি গেলে দেখলাম, আমার মেয়ে আর নেই।”
ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত স্বামী লিটন সরকারকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বাবা থানায় এসে তার অভিযোগ দাখিল করেছেন, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন