বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৩ পি.এম
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উল্লেখ করেছেন যে, দেশের সঙ্গীত ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মানের সঙ্গে উপস্থাপন করার জন্য একটি সুসংগঠিত ও পেশাদার জাতীয় অর্কেস্ট্রা গঠনের প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।
আজ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় অর্কেস্ট্রা গঠনে খসড়া নীতিমালা পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এই ‘জাতীয় অর্কেস্ট্রা সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালা’ পর্যালোচনা সভাটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আন্তর্জাতিক মানের অর্কেস্ট্রার বিকাশ, পেশাদার অর্কেস্ট্রা শিল্পী তৈরি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়।
বক্তৃতায় সংস্কৃতি মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকল বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী, কার্যকর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং সংস্কৃতি সচিব মিজ ইয়াসমিন বেগমও উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অর্কেস্ট্রা টিমের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জাতীয় অর্কেস্ট্রার সাংগঠনিক কাঠামো, শিল্পী নির্বাচন, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশনা নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বিত অংশগ্রহণের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিগণ খসড়া নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে গঠনমূলক মতামত ও সুপারিশ প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুর, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চলতি বছর অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার করে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের ফলন অর্জিত হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল বুধবার এই তথ্য বাসসকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি বিভাগ চলতি বছর জেলায় ৯ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে আউস ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। অনুকূল আবহাওয়া এবং মাঠ কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শ, পাশাপাশি নিবিড় পরিচর্যায় কৃষকরা অতিরিক্ত ১২ হেক্টর জমিতে আউস ধান চাষ করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে, জেলার ১৩টি উপজেলায় মোট ৯ হাজার ৯১২ হেক্টর জমিতে আউস ধান চাষ সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিগত সময়ে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া আউশ ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে কৃষি বিভাগের উদ্যোগ সফল হয়েছে।
উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত দু’বছর আগে কৃষি বিভাগের গবেষণায় উদ্ভাবিত উন্নত জাত ও উচ্চ ফলনশীল ব্রি-৯৮ আউশ ধান চাষে জেলায় অধিক ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১৩টি উপজেলায় ৯ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে আউস ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মৌসুমের শুরুতে, গত মে মাসে, ১৩টি উপজেলায় ৭ হাজার ৩৫০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ব্রি-৯৮ জাতের বীজ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বিতরণ করা হয়েছিল।
আউশ ধান চাষে সফলতা অর্জনের জন্য জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তাগণ কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন, যার ফলে আউশ ধান চাষে সফলতা এসেছে বলে কৃষি বিভাগ জানায়।
জেলার সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কর্ণাই ও নশিপুর দু'টি গ্রামে সমবায় ভিত্তিতে কৃষকরা এবার আউশ ধানের ব্রি ধান-৯৮ জাতের চাষ করেছেন। আউশ ধান চাষের সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পেরে খুব খুশি।
তিনি জানান, এক একর জমিতে ৭৫ থেকে ৮০ মণ ধানের ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের বিনামূল্যে দেয়া বীজ, সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে অনাবাদি জমি অধিক উৎপাদনশীল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বাজারে কাঁচা ধান এক হাজার ৫০ থেকে ১১শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আউস ধানের খড় বিক্রি করে বাড়তি টাকা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে, ধান বিক্রির পাশাপাশি খড় বিক্রিতেও কৃষকরা তাদের খরচের একটি অংশ উঠাতে পারছেন।
জেলার বিরল উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের আদর্শ কৃষক মো. খাদেমুল ইসলাম (৪৫) জানান, ‘চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে জমিতে বীজতলা তৈরি করে ব্রি-৯৮ জাতের আউশ ধান চারা রোপণ করেছি। কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শে সেচ, সার ও কীটনাশক ব্যবহারে বেশ ভাল ফলন হয়েছে। ভাদ্র-আশ্বিনের এই সময়ে মাঠজুড়ে আউশ ধানের সোনালি শোভা কৃষকদের মন ভরে তুলেছে। কৃষকেরা তাদের অর্জিত ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছেন।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ধান কাটা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধান কাটার পর কৃষকরা আবার ওই জমিতে আগাম জাতের আলু চাষের প্রস্তুতি শুরু করবেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কৃষকেরা আউশ ধান ঘরে তুলে, একই জমিতে আলু চাষ করার পরিকল্পনা করেছেন।
জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি ও ভিয়াইল গ্রামের কৃষকরা বলছেন, নতুন জাতের উন্নত ফলনশীল আউশ ধান চাষে তাদের সাফলতা এসেছে।
বিন্যাকুড়ি গ্রামের কৃষক মো. আব্দুর রহমান (৪৮) জানান, এ বছর তিনি ৭৮ শতক জমিতে আউশ ধান চাষ করেছেন। তার অর্জিত জমি থেকে ৬৭ মণ আউশ ধান পেয়েছেন। ওই ধান বিক্রি করে তিনি আগাম জাতের আলুর চাষ করবেন। আগামী বছর এ জাতের আউশ ধান বেশি করে আবাদ করার আশা করছেন প্রায় এলাকার সব কৃষকরা।
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বাসস’কে বলেন, এ অঞ্চলের জমি একটু উচুঁ এবং লালমাটি হওয়ায় আগে শুধু রবি শস্যে চাষ করা হতো। এখানে আমন বা ইরি-বোরো ধান চাষ করা হতো না। সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে উন্নত জাতের আউশ ধান চাষ শুরু করা হয়েছে। এখন সেই জমিতেই ৩টি করে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করে কৃষকদের ফসল উৎপাদনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায়, কৃষকেরা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলা ৯৭২ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের অধিক উৎপাদন হয়েছে। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া উন্নত জাতের আউশ ধান চাষে কৃষকরা স্বল্প সময়ে ভালো ফলন পেয়েছেন। আগামীতে আরো অধিক কৃষক আউশ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবেন, সে বিষয় কৃষি বিভাগ কাজ করছে বলে তিনি ব্যক্ত করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে জানান, তিনি গত কয়েক দিন জেলার প্রায় প্রত্যেকটি উপজেলায় উন্নত জাতের ব্রি-৯৮ আউস ধানের অর্জিত ধান ক্ষেত সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। কৃষকের অর্জিত ধান ক্ষেতের অধিক ফলন দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। সেই সাথে কৃষি বিভাগের উদ্ভাবন করা উন্নত জাতের আউস ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে, এটি একটি ভালো লক্ষণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, গত বছর এ জেলায় কৃষি বিভাগ থেকে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর সরকারি ভাবে কৃষকদের কৃষি প্রণোদনা দিয়ে ৫ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ অর্জিত হয়েছিল। চলতি বছর গত বছরের তুলনায় ৪ হাজার ৫৪২ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত আউস ধান চাষ অর্জিত করা সম্ভব হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ দাবি করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে বিশ্ববাজারে আধুনিক, উদ্ভাবননির্ভর ও টেকসই শিল্প হিসেবে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আগামী নভেম্বরে ‘বাটেক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি বিরতির পর অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে জাপানসহ বিভিন্ন বাজারে কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
আজ বৃহস্পতিবার, বিজিএমইএ সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি জানান, আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাটেক্সপোর রজতজয়ন্তী সংস্করণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য হলো পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের পোশাক খাতের রূপান্তর, কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর আধুনিক শিল্পব্যবস্থা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা।
বাটেক্সপোতে গ্লোবাল অ্যাপারেল এক্সপো, গ্লোবাল অ্যাপারেল সামিট, এআই ও ইনোভেশন হাব, সাস্টেইনেবিলিটি ও সার্কুলারিটি এক্সপোজিশন, সাস্টেইনেবিলিটি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং ফ্যাশন রানওয়ের আয়োজন থাকবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, ব্র্যান্ড প্রতিনিধি ও ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সাররা অংশগ্রহণ করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর হংকংয়ে বিজিএমইএ ও এইচএসবিসি বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো, হংকং ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং উচ্চমূল্যের পণ্য ও টেকসই অংশীদারত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে জাপানের বাজারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিএমইএ। এ লক্ষ্যে সংগঠনটির কার্যালয়ে ‘বিজিএমইএ-জাপান ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে ডেস্কটি উদ্বোধন করবেন।
সংগঠনটির সভাপতি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৬৭টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। এখন শুধু রপ্তানির পরিমাণ নয়, বরং ভ্যালু অ্যাডেড বা উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, পলিয়েস্টার, নাইলন ও অন্যান্য কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পণ্য, ক্রীড়াবিষয়ক পোশাক এবং উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, টেক্সটাইল-টু-টেক্সটাইল পুনর্ব্যবহার এবং সার্কুলার অর্থনীতি প্রসারেও কাজ চলছে।
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতকে ‘উদ্ভাবননির্ভর’ ও আধুনিক শিল্প হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সঙ্গে কৌশলগত চুক্তি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন টেকসইতা-সংক্রান্ত শর্ত মোকাবেলায় ওপেন সাপ্লাই হাব ও জিআইজেডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথাও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী ও টেকসই অবস্থানে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়া যাবে। সিরিজের প্রেক্ষাপটে আট বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি দুঃসহ স্মৃতি এখনও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথকে তাড়া করে। স্মিথ এই সিরিজের আগে সেই পুরোনো স্মৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০১৮ সালের বল-টেম্পারিং কেলেঙ্কারি, যা স্যান্ডপেপারগেট নামে পরিচিত, এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলী আজও তার মনে দাগ কাটে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্য সফরের পূর্বে তিনি এই মানসিক চাপের কথা প্রকাশ করেন।
কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্ট চলাকালীন স্যান্ডপেপার ব্যবহার করে বল বিকৃত করার পরিকল্পনার জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া স্মিথকে অধিনায়কত্ব থেকে বরখাস্ত করে এবং এক বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করে।
আরো পড়ুন
‘আমরা এটা মেনে নিতে পারি না’— কাপ বিপর্যয়ের পর ম্যানইউ কোচ
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিডনির ডেইলি টেলিগ্রাফ এবং কোড স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টিভ স্মিথ জানান, ‘জোহানেসবার্গ বিমানবন্দর দিয়ে বিদায় নেওয়ার সময় নিরাপত্তা বা সমর্থন না নিয়ে তাকে যেন নেকড়েদের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আজও ক্যামেরার ক্লিকের শব্দ শুনলে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিদায় নেওয়ার সেই দুঃসহ মুহূর্তের স্মৃতি মনে পড়ে।’
সেই ঘটনার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নারকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে এবং ক্যামেরন ব্যানক্রফ্টকে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। স্মিথ জানান, সে সময় শাস্তির মাত্রা কঠোর মনে হলেও তিনি তা মেনে নিয়েছিলেন।
আরো পড়ুন
আইসিসি র্যাংকিংয়ে বড় লাফ মিরাজ-শান্তর
২০১৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজে জোড়া সেঞ্চুরি করে ক্রিকেটে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটানোর সময় আবেগে তার চোখে জল আসার উপক্রম হয়েছিল। কারণ তিনি নিজেই সন্দিহান ছিলেন যে তিনি আবার আগের ফর্মে ফিরতে পারবেন কি না।
আরো পড়ুন
এমবাপ্পে-ইয়ামাল নয়, ব্যালন ডি’অর জিতবে মেসি—দাবি আর্জেন্টাইন কোচের
বর্তমানে ৩৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ব্যাটার অতীতের সেই কঠিন সময়কে পেছনে ফেলে নতুন করে জীবনযাপন করছেন। তবে আগামী ৯ অক্টোবর ডারবানে শুরু হতে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই সিরিজটি তার জন্য কেবল একটি ক্রিকেটীয় লড়াই নয়, বরং নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের মুখোমুখি হওয়ার একটি বড় পরীক্ষা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মোদিকে কৃতিত্ব দিয়ে তিনি দিল্লি ও মস্কোর মধ্যে ‘বিশেষ এবং সুবিধাপ্রাপ্ত’ কৌশলগত অংশীদারিকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে রুশ নেতা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানান, যেখানে তাকে এবং রুশ প্রতিনিধিদলকে আতিথেয়তা দেওয়া হয়েছিল। ভারতে অবস্থিত রুশ দূতাবাস ইনস্টাগ্রামে প্রধানমন্ত্রী মোদির উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট পুতিনের শুভেচ্ছা বার্তাটি ‘দ্রুঝবা-দোস্তি’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে শেয়ার করেছে, যা রুশ ও হিন্দি শব্দের সমন্বয়ে বন্ধুত্ব বোঝায়।
পুতিনের বার্তার অনুবাদ প্রকাশ করে রুশ দূতাবাস জানায়, ‘আপনি আপনার দেশবাসীর কাছ থেকে গভীর সম্মান এবং বিশ্বমঞ্চে দারুণ কর্তৃত্ব যথাযথভাবেই উপভোগ করছেন। ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার বিশেষ ও সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিগত অবদানকে কোনোভাবেই কম করে দেখার সুযোগ নেই।’
বিবৃতিতে রুশ নেতা প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাকে বস্তুনিষ্ঠ, খোলামেলা এবং ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত বলে জানান।
পুতিন আরও বলেন, ‘যথারীতি আপনার সঙ্গে কথা বলাটা ছিল এক পরম আনন্দের অভিজ্ঞতা এবং আমাদের আলোচনা আরো একবার আপনার অসাধারণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতাকে প্রমাণ করেছে। আমরা অবশ্যই আমাদের বন্ধুভাবাপন্ন জাতিগুলোর কল্যাণে জরুরি দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলোতে আমাদের গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’
গত ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পুতিন ভারতে এসেছিলেন। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে তারা মূল খাতগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্য ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে চলমান সংঘাতগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষ হওয়ার পরপরই দুই নেতা একই গাড়িতে চড়ে একটি প্রদর্শনী পরিদর্শনে যান।
মোদি ও পুতিনের এই হৃদ্যতা নতুন কিছু নয়। গত ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে ‘ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময়ও তাঁদের একই গাড়িতে ভ্রমণ করতে দেখা গিয়েছিল। এমনকি গত বছরও চীনের তিয়ানজিনে এসসিও নেতা সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের ভেন্যুতে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রেসিডেন্ট পুতিন একই গাড়ি ব্যবহার করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ