আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৮ পি.এম
সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কেঞ্জাতলি বাজার থেকে বশিরিয়া মাদ্রাসা গেইট পর্যন্ত মিছিল
দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে মশাল মিছিল করেছে রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কেঞ্জাতলি বাজার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বশিরিয়া মাদ্রাসা গেইটে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান মামুন। এতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সফিকুর রহমান, সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন, আব্দুর রহিম মেম্বার ও জামসেদ মেম্বার, ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি কাজল এবং ছাত্রদল সভাপতি রিফাতসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীদের হাতে জ্বলন্ত মশাল দেখা যায় এবং তারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বশিরিয়া মাদ্রাসা গেইটে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
মিছিলে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই–শাল্লা অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাস বহু পুরোনো ও ঘটনাবহুল। সেই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে করুণা সিন্ধু রায়ের নাম।
করুণা সিন্ধু রায় ছিলেন কৃষকবান্ধব রাজনীতির একজন পরিচিত নেতা। অবিভক্ত ভারতের সময় তিনি দিরাই–শাল্লা এলাকা থেকে আসাম প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হন। ঐতিহাসিক সূত্রে তাঁকে কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার একজন নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষ করে প্রজাস্বত্ব ও কৃষকের অধিকার নিয়ে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। নিজে জমিদার পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি কৃষকদের স্বার্থের প্রশ্নে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কৃষকদের অধিকার আদায়ের দাবিতে তিনি আইনসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং কৃষক আন্দোলনকে রাজনৈতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
১৯৪৪ সালের আসাম প্রাদেশিক পরিষদের কার্যবিবরণীতেও করুণা সিন্ধু রায়ের নাম পাওয়া যায়। সেখানে তিনি সুনামগঞ্জ ও হাবিগঞ্জের বোরো অঞ্চলের উদ্বৃত্ত ধান সরকার কেনার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়া নিয়ে জরুরি আলোচনার দাবি তুলেছিলেন। একই সময়ে কৃষকদের ওপর সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ নীতির প্রভাব নিয়েও তিনি পরিষদে বিষয় উত্থাপন করেন।
করুণা সিন্ধু রায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর পুত্র বরুণ রায় পরবর্তীতে দিরাই–শাল্লার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে এই এলাকা থেকে নির্বাচিত হন।
দিরাই–শাল্লার রাজনীতির অতীত অনুসন্ধান করলে তাই করুণা সিন্ধু রায়ের নাম শুধু একজন পুরোনো রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, কৃষকের অধিকার ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতির একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে সামনে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয় ও ভাণ্ডারিয়া ওভারব্রিজ সংলগ্ন হাইওয়ে সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশাগত অসদাচরণসহ গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান তদন্ত কমিটি গঠন করেন। পরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষককে ২৪টি অভিযোগ উল্লেখ করে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ে ছাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ছাত্রীদের সঙ্গে উসকানি মূলক কথা বলেন। এ সময় ছাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভাণ্ডারিয়া থানায় যায়। পরে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ছাত্রীদের শান্তভাবে বুঝিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।
এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রীরা আবার বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে লিয়াকত মার্কেট ও নতুন হাইওয়ে রাস্তা প্রদক্ষিণ করে ভাণ্ডারিয়া ওভারব্রিজের পশ্চিম পাড়ে বরিশাল- ভাণ্ডারিয়া- মঠবাড়িয়া মহা সড়কে অবস্থান নেয় এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় এক দফা এক দাবী প্রধান শিক্ষকের অপসারন চাই বলে তারা শ্লোগান দেয়। এতে সড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান সরকারি কাজে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। তিনি মোবাইল ফোনে তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তাঁর অনুরোধে ছাত্রীরা অবরোধ তুলে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে যায়।
বিকেল ৪ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি ছাত্রীদের রোববার থেকে ক্লাসে ফেরার অনুরোধ করেন এবং অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমি তাদের রোববার থেকে নিয়মিত ক্লাসে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে তদন্তের করে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। শোকজের জবাবের পরে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ছাত্রীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে এক নারীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটার পর দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতীমারা ও নাঙ্গলকোট উপজেলার পুজকরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষের ফলে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া স্টেশন বাজারে পুজকরা গ্রামের রিকশাচালক জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৫) হাতীমারা গ্রামের এক নারীকে উত্ত্যক্ত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ওই নারীর স্বামী জাহাঙ্গীরকে মারধর করেন। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে হাতীমারা ও পুজকরা গ্রামের লোকজন কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের দিকে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এই সংঘর্ষে হাতীমারা গ্রামের পারভেজ, শামীম, রাজু ও খলিল এবং পুজকরা গ্রামের রাকীবসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ সময় উত্তেজিত জনতা বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়, যার ফলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে বিকেল ৩টার দিকে লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম সার্কেল, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহাম্মদ এ বিষয়ে বলেন, ‘দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ এবং সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার খবর পেয়ে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম সার্কেল, সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর পুলিশ এবং কুমিল্লা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।’
তিনি আরও জানান, ‘এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এশিয়ান গেমসে নারীদের ১০হাজার মিটার রেসে পদকের জন্য ভারতের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সীমা কুমারী দুর্দান্ত দৌড়ের মাধ্যমে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন, ফলে ১৬ বছরের খরা শেষ হলো। এই ভারতীয় অ্যাথলেট ৩২ মিনিট ৫০.০৫ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।
ভারতের জন্য এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই ইভেন্টে এটি তৃতীয় পদক। ২০১০ সালের পর নারীদের ১০হাজার মিটার রেসে পদক পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি ভারতের প্রথম সাফল্য। তাছাড়া, আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত চলতি এশিয়ান গেমসে অ্যাথলেটিক্সে এটি ভারতের প্রথম পদক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ