০৯:২৫ এম
সুইডেনের মধ্যাঞ্চলের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে দুই কিশোর।
আরো একজন সামান্য আহত হয়েছে। দেশটির পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার কিছু পর ফাগেরস্তা শহরের ব্রিনেল স্কুলে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের আগে কর্মকর্তারা তার দিকে গুলি ছোড়েন। পরে তাকে আটক করা হয়। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। হামলার পরে নিরাপত্তার কারণে আশপাশের আরও আটটি স্কুলের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের কিছু সময়ের জন্য ভবনের ভেতরে রাখা হয়।
পরে তাদের ওপর আরোপ করা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে ভেস্টম্যানল্যান্ড অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
সুইডেনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার সময় সন্দেহভাজনের মাথায় হেলমেট ছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই তরুণ ব্রিনেল স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী। হামলার কারণ কী, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তবে এখন সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হামলাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, হামলার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে পুলিশ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
সুইডেনের রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তাফও ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, খবরটি তিনি ‘হতাশা ও দুঃখের সঙ্গে’ পেয়েছেন। হামলায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের পরিবার ও স্বজনদের কথাও তিনি মনে রেখেছেন বলে জানান। গ্রীষ্মের ছুটির পর শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি ব্রিনেল স্কুলে ফিরেছিল। নতুন শিক্ষাবর্ষ এ সপ্তাহের সোমবার বা বুধবার শুরু হয়েছিল বলে জানা গেছে। সুইডেনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিনেল স্কুলে ৫০০ জনেরও কম শিক্ষার্থী রয়েছে। রাজধানী স্টকহোম থেকে স্কুলটির দূরত্ব প্রায় ১৭০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুইডেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেশ কয়েকটি সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে।
২০২৫ সালে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। ওরেব্রোর একটি প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রে বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ ১১ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর সুইডেন সরকার দেশটির অস্ত্র আইন আরও কঠোর করে। তদন্তে জানা যায়, হামলার সন্দেহভাজনের নামে বৈধভাবে চারটি রাইফেল ছিল। এর মধ্যে তিনটি রাইফেল ঘটনাস্থল ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায়। এর আগে ২০২২ সালে মালমোর একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহিংস হামলায় দুই শিক্ষক নিহত হন। পরে ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ওই হামলার দায় স্বীকার করেন। ২০১৫ সালে ত্রোলহেত্তানের একটি স্কুলে তলোয়ার নিয়ে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী নিহত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন