শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৬ পি.এম
রাশিয়ার ক্রেমলিন নেসলে এবং ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অশাঁনের সম্পদ জব্দ করেছে। এই পদক্ষেপটি দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মন্তব্য করেন যে, অশাঁন এবং নেসলে ‘বন্ধুত্বহীন দেশের ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান’। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের জারি করা এক ডিক্রিতে এক দিন আগে এই দুই প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ডিক্রির আওতায়, নেসলে এবং অশাঁনের রাশিয়ায় অবস্থিত সম্পদ দেশটির স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এলইভি ম্যানেজমেন্টের সাময়িক নিয়ন্ত্রণে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
কিটক্যাট চকলেট এবং নেসক্যাফে কফির উৎপাদক নেসলে জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য ও পানীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটির রাশিয়ায় বর্তমানে ছয়টি স্থাপনা রয়েছে, যেখানে ৭ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করেন।
২০২১ সালে, নেসলের রাশিয়ার বাজার থেকে মোট বিক্রির প্রায় ২ শতাংশ এসেছে। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটির বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ কোটি সুইস ফ্রাঁ, যা প্রায় ২৪০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।
এক বিবৃতিতে নেসলে জানায়, তারা নিজেদের অধিকার রক্ষা এবং ব্যবসার কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। বিশেষ করে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। এদিকে, রাশিয়ায় সম্পদ জব্দের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর জুরিখের শেয়ারবাজারে নেসলের শেয়ারের দাম ২ শতাংশ কমে গেছে।
অশাঁন রাশিয়ায় খাবার, পোশাক, গৃহস্থালি পণ্য এবং ইলেকট্রনিকস বিক্রি করে। প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কোনো উত্তর দেয়নি। তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় অশাঁনের ২৩০টি দোকান রয়েছে এবং তারা অনলাইন ব্যবসাও পরিচালনা করে। দেশটিতে তাদের প্রায় ৩০ হাজার কর্মী রয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে মস্কো। পরবর্তী বছর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি ডিক্রিতে সই করেন, যার মাধ্যমে ‘বন্ধুত্বহীন’ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ সাময়িকভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়।
এর কিছুদিন পর ফ্রান্সের দই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দানোন এবং ডেনমার্কের বিয়ার উৎপাদক কার্লসবার্গের রাশিয়ার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেয় মস্কো।
ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নেসলে রাশিয়ায় নিজেদের পণ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। তবে দেশটিতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি সহ বিভিন্ন পক্ষ নেসলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছে।
নেসলে তাদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করতেই তারা সীমিত আকারে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, রাশিয়ায় তাদের উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা কার্যক্রম থেকে কোনো মুনাফা হচ্ছে না।
তবে রাশিয়ার বেসরকারি খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর এমন বড় পরিসরে সম্পদ পুনর্বণ্টনের ঘটনা আর দেখা যায়নি।
বার্লিনভিত্তিক কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক আলেক্সান্দ্রা প্রোকোপেঙ্কো শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসে লেখেন, রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেল কার্যালয় ধারাবাহিকভাবে জাতীয়করণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯০-এর দশকে বেসরকারীকরণের সময় করা বিভিন্ন চুক্তিও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগে সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি বড় ব্যবধানে জয় পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর এটি হবে দেশটির প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লন্ডনের ২০টি প্রশাসনিক এলাকায় গত এক বছরে বাড়ির দাম কমার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চারটি এলাকায় গড় বাড়ির দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে ওয়েস্টমিনস্টারে, যেখানে এক বছরে গড় বাড়ির দাম ২০ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ওয়েস্টমিনস্টারে একটি বাড়ির গড় দাম ছিল ১১ লাখ ৬ হাজার পাউন্ড। চলতি বছরের জুলাই মাসে তা কমে ৮ লাখ ৭৭ হাজার পাউন্ডে পৌঁছেছে।
লন্ডনের কেন্দ্রীয় এই প্রশাসনিক এলাকায় বাড়ির দামের পতন আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে। জুন পর্যন্ত এক বছরের হিসাবে সেখানে বাড়ির দাম কমেছিল প্রায় ২৫ শতাংশ।
১০ শতাংশের বেশি পতন হয়েছে অন্য তিনটি এলাকায়ও। টাওয়ার হ্যামলেটসে চলতি বছরের জুলাই মাসে বাড়ির গড় দাম ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার পাউন্ড। এক বছর আগে একই সময়ে তা ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার পাউন্ড, অর্থাৎ এক বছরে দাম কমেছে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
কেনসিংটন অ্যান্ড চেলসিতে বাড়ির গড় দাম ১৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। সেখানে দাম ১৪ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড থেকে কমে ১২ লাখ ৩৩ হাজার পাউন্ড হয়েছে। ক্যামডেনে কমেছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ—৯ লাখ ৭ হাজার পাউন্ড থেকে ৮ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ডে।
এছাড়া, হ্যামারস্মিথ অ্যান্ড ফুলহ্যামে বাড়ির দাম ৯ শতাংশ কমেছে। ল্যামবেথে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, ওয়ান্ডসওয়ার্থে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, নিউহ্যামে ৫ শতাংশ এবং বার্নেটে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।
তবে লন্ডনের সব প্রশাসনিক এলাকায় বাড়ির দাম কমেনি। ১১টি এলাকায় গড় বাড়ির দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহ্যামে-৫ দশমিক ৩ শতাংশ। সেখানে বাড়ির গড় দাম ৩ লাখ ৫৭ হাজার পাউন্ড থেকে বেড়ে ৩ লাখ ৭৬ হাজার পাউন্ড হয়েছে।
বাড়ির দাম কমলেও বেড়েছে ভাড়া
বাড়ির দাম কমলেও লন্ডনের প্রায় সব প্রশাসনিক এলাকায় ভাড়া বেড়েছে। আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে ভাড়া সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ইস্লিংটনে-৬ দশমিক ২ শতাংশ। গ্রিনউইচে বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। সাউথওয়ার্ক ও মার্টনে বেড়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ করে। এনফিল্ডে ভাড়া বেড়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ।
পুরো লন্ডনের হিসাবে, জুলাই পর্যন্ত এক বছরে বাড়ির গড় দাম কমেছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে আগস্ট পর্যন্ত ১২ মাসে গড় ভাড়া বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
ভাড়া বাড়ার পেছনে বাড়িওয়ালাদের কেউ কেউ রেন্টার্স রাইটস অ্যাক্টের কারণে বাড়তি ব্যয়কে দায়ী করছেন।
সুদের হার অপরিবর্তিত, বাড়ছে বন্ধকি ঋণের খরচ
বাড়ির দামে এই পতনের মধ্যে অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বেড়েছে- এমন পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি কমিটি সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নির্দিষ্ট সুদের হারের বন্ধকি ঋণের হার বেড়েছে। লন্ডনের বাড়ির মালিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, চলতি বছর ও ২০২৭ সালে সুদের হার চারবার বাড়লে তাঁদের বার্ষিক বন্ধকি ঋণের খরচ ২ হাজার ৬০০ পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এলঅ্যান্ডসি মর্টগেজেসের সহযোগী পরিচালক ডেভিড হলিংওর্থ বলেন, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—এমন ইঙ্গিতের প্রতি বাজার এখন আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি দামও এতে প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, এর ফলে বাড়ির মালিকদের কয়েক মাস আগের তুলনায় বেশি বন্ধকি ঋণের সুদ এবং তুলনামূলক প্রতিকূল ঋণবাজারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে লন্ডনভিত্তিক আবাসন প্রতিষ্ঠান অ্যান্টনি রবার্টসের বিক্রয় বিভাগের প্রধান অ্যামি রেনল্ডস বলেন, ভাড়ার বাজারে বাড়ির সরবরাহ এখনো সীমিত। বাড়িওয়ালারা বাজার ছাড়তে থাকায় ভালো বাসার জন্য ভাড়াটিয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। তাঁর মতে, শরৎকালেও পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে লন্ডনের ১০ লাখের বেশি বাসিন্দার কাউন্সিল ট্যাক্সও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ওয়েস্টমিনস্টার ও ওয়ান্ডসওয়ার্থসহ কয়েকটি প্রশাসনিক এলাকার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়ন কমে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএসএন অবলম্বনে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউড বা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে সহকর্মীদের প্রতি অকপটে প্রশংসা করা কিংবা নিজের মনের ঈর্ষা প্রকাশ করা খুব কম অভিনেতার পক্ষেই সম্ভব। তবে অভিনেত্রী সোনালী কুলকার্নি এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি খুব সহজ ও মজার ছলে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের অনুভূতির কথা শেয়ার করেছেন, যিনি ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ছবির জন্য পরিচিত।
সোনালী জানান, ১৯৯৭ সালে যখন অভিনেত্রী টাবু ১৯৯৬ সালের ‘মাচিস’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন, তখন তিনি বেশ ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছিলেন। এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার সেই অনুভূতিটা পুরোপুরি ঈর্ষা থেকেই এসেছিল। আমি সত্যিই একটি জাতীয় পুরস্কার পেতে চেয়েছিলাম, কারণ সেখান থেকেই প্রকৃত সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়।”
পরবর্তীতে ২০০২ সালে ৪৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মারাঠি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘চৈত্র’-র জন্য বিশেষ জুরি পুরস্কার লাভ করেন সোনালী। তবে তিনি জানান, তার আসল লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা আরো অনেক উঁচুতে। তিনি বলেন, “আমার এখনো অনেক পথ চলা বাকি। দেশকে নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে গর্বিত করতে চাই। আর সে কারণেই তখন টাবুর অভিনয় দেখতে গিয়েছিলাম।”
টাবুর সঙ্গে নিজের প্রথম দেখার একটি বিরল স্মৃতি শেয়ার করেন সোনালী। সোনালী তখন ‘মিশন কাশ্মীর’ ছবির শুটিং করছিলেন এবং টাবু শুটিং করছিলেন ‘চাঁদনি বার’-এর। মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটির সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে টাবুর জন্য অপেক্ষা করার কথা স্মরণ করে সোনালী বলেন, “তাকে দেখতে রাজহাঁসের মতো লাগছিল। আমি একজন ভক্ত হিসেবে গিয়ে নিজের পরিচয় দিই এবং তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হই। টাবু খুব ধৈর্য ধরে আমার কথা শোনেন এবং ধন্যবাদ জানান। ওই ঘটনাটি আমাকে উপলব্ধি করিয়েছিল যে এত বড় তারকারাও আসলে কত সাধারণ ও মানবিক।”
শুধু টাবু নন, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের সঙ্গে কাটানো একটি মিষ্টি মুহূর্তের কথাও জানান সোনালী। এক দীপাবলির দিনে ঐশ্বরিয়ার পোশাকের প্রশংসা করতেই ঐশ্বরিয়া অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানান যে পোশাকটি তার নিজেরই ডিজাইন করা। সহকর্মীদের এই ধরনের আচরণ সোনালীকে বারবার মুগ্ধ করেছে।
উল্লেখ্য, বহু ভাষায় নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রাখা সোনালী কুলকার্নিকে খুব শিগগিরই দেখা যাবে তেলেগু সিনেমা ‘দ্য প্যারাডাইস’-এ, যেখানে তার সঙ্গে রয়েছেন অভিনেতা নানি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসে, তখন নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি জানান, নারীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিএনপি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবীর রিজভী উল্লেখ করেন, নারীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হলে এর সুফল শুধুমাত্র পরিবারেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রও এর সুফল লাভ করে। নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি পরিবারকে যেমন উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখা যায়।
তিনি বলেন, বিএনপি নারীদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের জন্য স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রিজভী আরও বলেন, একটি জাতির অগ্রগতির জন্য শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষাকে অবহেলা করা হলে কোনো জাতি প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে পারে না। অথচ গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে।
তিনি জানান, একসময় শিক্ষার গুরুত্বকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পুরো জাতির ওপর পড়েছে।
রিজভী অভিযোগ করেন, অনেক সময় প্রশ্নপত্রে শুধু প্রশ্ন লেখা হয়েছে। শিক্ষার মান নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি ক্ষমতাশালী জায়গা থেকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের পাস করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলার ফলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় প্রতিযোগিতা করতে হলে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়। ‘আমাদের নিষ্ক্রিয় করার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কোনো জাতি শিক্ষার যথাযথ সুযোগ ও প্রণোদনা ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষায় বিনিয়োগ ও প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের জন্য বিনিয়োগ ও প্রণোদনা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ থেকে ২০ গ্রেডের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। মোট ১১টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। অনলাইনে আবেদন করার শেষ তারিখ ১ অক্টোবর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। হার্ডকপি জমা দেওয়ার জন্য শেষ সময় ৫ অক্টোবর ২০২৬।
চাকরির বিবরণ
১. পদের নাম: রেজিস্ট্রার
পদসংখ্যা: ১
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-৩) ৫৬,৫০০-৭৪,৪০০ টাকা।
২. পদের নাম: পরিচালক
পদসংখ্যা: ১
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-৩) ৫৬,৫০০-৭৪,৪০০ টাকা।
৩. পদের নাম: পরিচালক
পদসংখ্যা: ১
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-৩) ৫৬,৫০০-৭৪,৪০০ টাকা।
৪. পদের নাম: পিএস টু ভিসি (সহকারী রেজিস্ট্রার)
পদসংখ্যা: ১
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-৭) ২৯,০০০-৬৩,৪১০ টাকা
৫. পদের নাম: ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট
পদসংখ্যা: ২
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৩) ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা।
৬. পদের নাম: গাড়িচালক
পদসংখ্যা: ১
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৬) ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা
৭. পদের নাম: অফিস সহায়ক
পদসংখ্যা: ৪
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-২০) ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা
আবেদনের নিয়ম
আবেদন করতে হবে jobs.cstu.ac.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার পর আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করে দুই কপি সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের হার্ড কপি জমা দিতে হবে। ১ থেকে ৪ নম্বর পদের জন্য ৭ সেট এবং ৫ থেকে ৭ নম্বর পদের জন্য ৫ সেট আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
আবেদনের শেষ তারিখ
অনলাইনে আবেদনের শেষ সময় ১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট।
হার্ড কপি ৫ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৪টার মধ্যে সরাসরি, ডাকযোগে বা কুরিয়ারের মাধ্যমে রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পৌঁছাতে হবে।
ঠিকানা: রেজিস্ট্রার, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, অস্থায়ী ক্যাম্পাস, হোল্ডিং নং-০৯৩৭-০২, খলিশাডুলি, ওয়াপদা গেইট, কুমিল্লা রোড, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর-৩৬০০।
আবেদন ফি
১ থেকে ৪ নম্বর পদের জন্য আবেদন ফি ২০০ টাকা; ৫ ও ৬ নম্বর পদের জন্য ১০০ টাকা এবং ৭ নম্বর পদের জন্য ৫০ টাকা। অনগ্রসর নাগরিক, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য সব গ্রেডে আবেদন ফি ৫০ টাকা। সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য।
নির্দেশনা
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের পূর্বের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যেসব প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়েছিল, তাদের পুনরায় আবেদন করতে হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ