১২:১৩ পি.এম
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যা পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে, এর অবসান ঘটাতে ভারত তিন দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করা, কৃষ্ণসাগরের বন্দর দিয়ে শস্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখা এবং কৌশলগত জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করার বিষয়টি। গত মাসে ইউক্রেনের কিয়েভ সফরের সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। বুধবার এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা নিশ্চিত করেছেন যে, ভারত তাদের কাছে প্রস্তাবটি পাঠিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেন যে চারটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ভারতের উদ্যোগটি সবচেয়ে ব্যাপক। অন্য তিনটি প্রস্তাব এসেছে তুরস্ক, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। কিয়েভ জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত; তবে কার্যকর চুক্তির জন্য সম্মুখযুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামো এবং কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
ভারতের তিন দফা পরিকল্পনার প্রথম অংশে জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো দিয়ে শস্য ও জ্বালানি পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। তৃতীয় অংশে কৃষ্ণসাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা পুরোপুরি বন্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। দিল্লির ধারণা, এই ক্ষেত্রে সমন্বিত যুদ্ধবিরতি হলে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বৃহত্তর যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: সারের অতিরিক্ত দাম নিয়ে প্রতিবাদ করায় বিহারের সাংবাদিক মোঈদ আলম গ্রেপ্তার
সিবিহার বক্তব্য অনুযায়ী, তুরস্ক ও মিসরের উদ্যোগ মূলত কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধবিরতি এবং ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের কেন্দ্রবিন্দু জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করা। ভারতের পরিকল্পনায় এই দুই ক্ষেত্রকে একত্রিত করার পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইউক্রেনের এই অবস্থানের মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেছেন। পুতিন মন্তব্য করেছেন, যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে পেতে মোদির ‘ভালো চিন্তাভাবনা’ রয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং মস্কো ও কিয়েভ—দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
জয়শঙ্করও জানিয়েছেন, ভারত কেবল যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বসে নেই; বরং মস্কো ও কিয়েভ—দুই পক্ষের সঙ্গেই বাস্তব ও কার্যকর আলোচনা চালাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে কিয়েভ সফরের সময় তিনি বলেন, ভারত মনে করে যুদ্ধক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান হবে না এবং আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
আরও পড়ুন: আজারবাইজানে হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে রাস্তায় স্কুল শিক্ষার্থীরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন