০৮:১১ পি.এম
প্রাচীন মন্দির, সমাধি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি বিখ্যাত ‘ওপেন-এয়ার মিউজিয়াম’ হল মিশরের লুক্সর। আগামী বছর এই ঐতিহাসিক শহরটি হতে যাচ্ছে এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার অন্যতম প্রধান দর্শনস্থল। ২০২৭ সালের ২ আগস্ট লুক্সরসহ উত্তর আফ্রিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ।
এই সূর্যগ্রহণের পূর্ণতার সর্বাধিক সময় হবে প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। নাসার তথ্যমতে, ২১১৪ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর কোথাও এর চেয়ে দীর্ঘ সময়ের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না।
আরও পড়ুন: রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালনায় সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: সড়ক পরিবহণমন্ত্রীর মন্তব্য
যেসব অঞ্চলে দেখা যাবে:
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল, জিব্রাল্টার ও মরক্কোর উত্তরাংশ পেরিয়ে আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিসর, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও সোমালিয়ার ওপর দিয়ে ভারত মহাসাগরে গিয়ে শেষ হবে।
এই পূর্ণগ্রহণের পথটি সর্বোচ্চ প্রায় ২৫৯ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রশস্ত হতে পারে। ফলে স্পেনের কাডিজ, মরক্কোর ট্যাঙ্গিয়ার, আলজেরিয়ার ওরান, লিবিয়ার বেনগাজি ও সৌদি আরবের জেদ্দার মতো শহর থেকেও দেখা যাবে এই বিরল দৃশ্য।
কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান লুক্সর। নীল নদের দুই তীরে গড়ে ওঠা শহরটির এক পাশে কিংস ভ্যালি, অন্য পাশে কুইন্স ভ্যালি। সেই প্রাচীন স্থাপনাগুলোর ওপর দুপুরের আকাশে কয়েক মিনিটের জন্য সূর্যের আলো ঢেকে দেবে চাঁদের ছায়া।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভারতের দুর্গাপূজার মধ্যে গভীর মিলের কথা বললেন ডেপুটি হাই কমিশনার
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী অধ্যাপক রজার ডেভিসের মতে, এত দীর্ঘ সময়ের পূর্ণগ্রহণ পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা হবে অসাধারণ। কয়েক মিনিটের অন্ধকারে মানুষের চোখ পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় পাবে। ফলে সাধারণত দৃশ্যমান উজ্জ্বল তারা ও গ্রহের পাশাপাশি আরও অনেক নক্ষত্রও দেখা যেতে পারে।
লুক্সরে অনুকূল আকাশ, কিন্তু চ্যালেঞ্জ তীব্র গরম।
সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য লুক্সরের অন্যতম সুবিধা হলো আগস্টে সেখানকার আকাশ সাধারণত মেঘমুক্ত থাকে। তবে সাহারা ও আরব মরুভূমি থেকে উড়ে আসা ধুলা দৃশ্যমানতায় কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে তীব্র গরম। আগস্টে লুক্সরের দিনের তাপমাত্রা প্রায়ই ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে। গ্রহণের সময় তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও অতিরিক্ত তাপে ক্যামেরা ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন
লুক্সরে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের কিছু পর আংশিক গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা। আর পূর্ণগ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় পৌঁছাবে আনুমানিক দুপুর ১টা ৫ মিনিটে।
পর্যটকের ঢল নিয়ে উদ্বেগ।
বিরল এই মহাজাগতিক ঘটনা দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক লুক্সর ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পূর্ণগ্রহণের পথ তুলনামূলক সরু হওয়ায় একই সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে হোটেল, সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হতে পারে।
ইতোমধ্যে লুক্সরের অনেক হোটেলের কক্ষ বুক হয়ে গেছে। বিভিন্ন পর্যটন প্যাকেজও দ্রুত পূর্ণ হচ্ছে। কিছু বিলাসবহুল প্যাকেজের খরচ জনপ্রতি কয়েক হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: পদত্যাগের নির্দেশের খবর গুজব, দাবি ইশরাক হোসেনের
কায়রোতেও দেখা যাবে বিরল দৃশ্য।
মিসরের রাজধানী কায়রো পূর্ণগ্রহণের মূল পথের বাইরে থাকলেও সেখানে সূর্যের প্রায় ৯৪ শতাংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে।
এই বিষয়টি নিয়ে কায়রোভিত্তিক ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড জিওফিজিকসও বড় ধরনের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কোটামিয়া অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরিতে থাকা বিশাল টেলিস্কোপ দিয়েও গ্রহণ পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ২০২৭ সালের ২ আগস্টের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ তাই শুধু পর্যটকদের জন্য নয়, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্যও একটি বিশেষ গবেষণার সুযোগ হয়ে উঠবে। কয়েক মিনিটের এই বিরল অন্ধকারের সাক্ষী হতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের নজর থাকবে মিসরের ঐতিহাসিক শহর লুক্সরের দিকে। সূত্র: সিএনএন।
আরও পড়ুন: ঢাকা রেসিডেনসিয়ালে ২৩ দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সফল ডিআরএমসি বিজনেস সামিট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন