০১:৩১ পি.এম
লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ট্রলারে ইউরোপ (গ্রিস) যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চার যুবকসহ ৭ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ৩ আগস্ট থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
নিখোঁজ যুবকরা হলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি গ্রামের কৃষক রাজ মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া (১৯), একই গ্রামের হযরত খানের ছেলে মামুন খান (২১), ইকরাম উদ্দিনের ছেলে এনামুল হক খান (১৮) এবং রনসী গ্রামের একলাছ উদ্দিনের ছেলে তালহা আহমদ (২৪)। বাকিদের নাম জানা যায়নি।
ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট রাতে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে ৩৮ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৪২ জন অভিবাসী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে ট্রলারটি প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে, এতে তাদের পানীয় জল ও খাবার সাগরে ভেসে যায়। একপর্যায়ে গ্রিস উপকূলের কাছে পৌঁছে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। অনাহার ও পিপাসায় এবং দীর্ঘ নয় দিন সাগরে ভেসে থাকার সময় বেশ কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীতে বাতাসের তোড়ে ভাসতে ভাসতে মিশর সীমানায় পৌঁছালে সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬০০ পিস ইয়াবাসহ বিজিবি সদস্য আটক
মিশরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল করিম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী আকুতি জানিয়ে বলেন, 'আমাদের ট্রলারের ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে সাগরে ভাসছিল। খাবার ও পানি ছিল না। চোখের সামনেই অনাহারে ৯ জন বাংলাদেশি মারা যান। পচন ধরায় মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। আমরা এখন মিশরের মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আমরা দেশে ফিরতে চাই।'
নিখোঁজ রিপন মিয়ার বাবা রাজ মিয়া জানান, চিকারকান্দি ও রনসী গ্রামের এই চার যুবককে গ্রিস পাঠানোর জন্য লিবিয়া প্রবাসী মানবপাচারকারী দালাল আল-আমিনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি হয়। অগ্রিম ৬ লাখ টাকা পরিশোধের পর গত জুন মাসে তারা দেশ ছাড়েন। গত ৩ আগস্ট রাতে ট্রলারে ওঠার ঠিক আগে পরিবারের সঙ্গে তাদের শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ এবং দালাল চক্রও নানা তালবাহানা করছে।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়ালী উল্লাহ জানান, লিবিয়া বা সাগরে নিখোঁজের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে জেনেছেন তারা। তবে নিখোঁজ যুবকদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ না দেওয়ায় বিষয়টি দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: আদালতের নির্দেশের পরও সিলেটের বিরোধপূর্ণ বাড়িতে দখল অব্যাহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন