তরিকুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধি
০৮:৪০ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৪ নম্বর ইকড়ি ইউনিয়েনের বোথলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের না জানিয়ে গোপন রেজুলেশন এবং ভুয়া আয়-ব্যয়ের হিসাব পাসের চেষ্টার অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সকালে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে আংশিক রেজুলেশনে শিক্ষকদের স্বাক্ষর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সাধারণ শিক্ষদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নিজ কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সাবেক প্রধান শিক্ষক আঃ খালেক অবসর গ্রহণ করার পর থেকে শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত ২০ মাসের বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব তিনি শিক্ষকদের দেননি। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলে ওই ২০ মাসের হিসাব বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছ থেকে অনুমোদন করানোর উদ্যোগ নেন তিনি।
এরই অংশ হিসেবে রবিবার সকালে তিনি বিদ্যালয়ে এসে বর্তমান ক্যাশিয়ার দেবাশিষ সমদ্দারের পদত্যাগ এবং নতুন ক্যাশিয়ার নিয়োগ সংক্রান্ত আংশিক লেখা রেজুলেশন নিয়ে আসেন এবং শিক্ষকদের স্বাক্ষর গ্রহণ শুরু করেন।
সহকারী শিক্ষক তাজিনুর বেগম জানান, সকালে বিদ্যালয়ে আসার পর ক্যাশিয়ার পরিবর্তনের কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে আংশিক লেখা রেজুলেশনে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। কয়েকজন শিক্ষক স্বাক্ষর করার পর দেখা যায়, রেজুলেশনের ফাঁকা অংশে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব লেখা হয়েছে। বিষয়টি অন্যান্য শিক্ষকরা দেখতে পেলে তারা সবাই মিলে ওই রেজুলেশন বাতিলের দাবি জানান। পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে অবস্থান করেন।
সহকারী শিক্ষক শিশির কুমার জানান, সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি সবাইকে জানালে শিক্ষকরা একজোট হয়ে প্রতারণামূলক ওই রেজুলেশন বাতিলের দাবি জানান। প্রতিবাদের মুখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজুলেশন বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানান এবং সকাল ১১টার দিকে নিজ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আংশিক রেজুলেশনে আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে সেখানে গোপনে আয়-ব্যয়ের হিসাব লিখে আমাদের সাথে প্রতারণা করতে চেয়েছিলেন। আমি প্রথম বিষয়টি ধরে ফেলি। তিনি আমাদের ফাঁসিয়ে নিজে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন।
বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পরও তিনি বের না হওয়ায় শিক্ষক ও স্থানীয় এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দীর্ঘ অনশন ও চাপের পর সন্ধ্যার দিকে তিনি কক্ষ থেকে বের হন।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি রেজুলেশন নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারের দপ্তরে এসেছি। ফ্রি হয়ে ১ ঘণ্টা পর বিস্তারিত কথা বলব।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ হাসিবুল হাসান বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সোমবার উভয় পক্ষকে অফিসে ডাকা হয়েছে। তাদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তিনজন নতুন পূর্ণকালীন সদস্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কমিশনের বর্তমান তিন পূর্ণকালীন সদস্যকে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন সদস্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সহকারী নাঈমা খন্দকার।
নিযুক্ত নতুন সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী খান, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. আসলাম হোসেন এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ভাস্কুলার সার্জারির অধ্যাপক প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তাদের নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর। তবে সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া যাবে। তারা অব্যবহিত পূর্ববর্তী পদে সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতন-ভাতা বহাল রাখবেন এবং কমিশনের সদস্য হিসেবে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তাদের নিয়োগ কার্যকর হবে যোগদানের তারিখ থেকেই।
অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপন জানায়, জনস্বার্থে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ইউজিসির তিন পূর্ণকালীন সদস্যকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
অব্যাহতি প্রাপ্ত সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম।
প্রজ্ঞাপন উল্লেখ করে, ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আদেশ, ১৯৭৩ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর-১০/৭৩)-এর সংশোধিত আইন, ১৯৯৮-এর ৪(১)(বি) ধারা অনুযায়ী’ নতুন তিন সদস্যকে পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলায় আজ দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন সানডে’ কর্মসূচির আওতায় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে, পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসন এই কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।
আজ রোববার নগরীর পাটগুদাম উচ্চ বিদ্যালয় এবং মহিলা সমিতি উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহের প্রতি রোববার জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
এতে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী সহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহের প্রতি রোববার ‘ক্লিন সানডে’ নামে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক জীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়াও, প্রতিটি বিদ্যালয়ে পরিবেশ ক্লাব গঠন এবং স্যানিটেশন অ্যাম্বাসেডর নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। প্রতিমাসে পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে ভালো কাজ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ‘ক্লিন আপ বাংলাদেশ’র স্বেচ্ছাসেবক দল, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি বিকৃত করার অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে একটা এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
একই সঙ্গে, বিজেপির কিছু কর্মী ও সমর্থক অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তারের দাবিও তুলেছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আনন্দপুর ও বিধাননগর সাইবার থানায় শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এই অভিযোগের সূত্রপাত শুক্রবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত নিট-সংক্রান্ত আন্দোলনের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে। ওই মিছিলে অভিনেত্রীর হাতে থাকা একটি পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিকৃত ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে শ্রীলেখাকে সরব হতে দেখা গেছে। অতীতে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কও সৃষ্টি করেছেন। তবে বর্তমানে বিদ্যমান অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, এফআইআর দায়ের হওয়ার পর শ্রীলেখা মিত্র তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দাবি করেছেন, বিতর্কিত ছবিটি নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা মূলত ভুল-বোঝাবুঝির ফল।
অভিনেত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে বিজেপির বিরোধিতা করতেই পারি, কিন্তু তাই বলে ইচ্ছাকৃত ভাবে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটা ঠিক নয়।’
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত এখনো চলছে। অভিযোগের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কমনওয়েলথ গেমসে ছেলেদের ৫৫ কেজি ব্যান্টামওয়েট বিভাগের দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াইয়ে বাংলাদেশের বক্সার রাকিব হোসেন সাফল্যের সাথে হাজির হয়েছেন।
আজ রবিবার (২৬ জুলাই) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় পাপুয়া নিউ গিনির মাইকেল ইনোইনোকে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশ করেছেন রাকিব।
এত কিছুর পর, জয়ের পর রাকিবকে অবিলম্বে পুরস্কৃত করেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা। তিনি রাকিবকে অভিনন্দন জানিয়ে আরো ভালো করার জন্য উৎসাহিত করেন।
তবে সাঁতারে বাংলাদেশের দুই প্রতিযোগী বিশেষ কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি।
নারীদের ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলের প্রতিযোগিতায় সোনিয়া আক্তার ১ মিনিট ৭.৭০ সেকেন্ড সময় নিয়ে শেষ করেন। তার আগের সেরা টাইমিং ছিল ১ মিনিট ৫.০৫ সেকেন্ড। ৭১ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি ৬১তম স্থান অর্জন করেন।
অপরদিকে, পুরুষদের ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে সুকুমার রাজবংশী ৩০.৯০ সেকেন্ড সময় নিয়েছেন। এর আগে তার সেরা টাইমিং ছিল ২৯.৯২ সেকেন্ড। সুকুমার তাঁর হিটে দ্বিতীয় স্থান পেয়ে মোট ৫৮ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ৪৪তম অবস্থান অর্জন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ