শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৪ এম
জুলাই-পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার আন্দোলন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম একটি বিস্ফোরক স্ট্যাটাস প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘আজব দশা’ বলে অভিহিত করেছেন। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবির (যা পোস্টে ‘জাশি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে), বিএনপি, সেকুলার সুশীল সমাজ এবং ঐতিহ্যবাহী আলেম সমাজের ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে তিনি কড়া বিশ্লেষণ ও মন্তব্য করেছেন।
মাহফুজ আলম তাঁর পোস্টের শুরুতেই লিখেছেন, "জুলাই পরবর্তী রাজনীতির আজব দশা।" তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই সেকুলার সিভিল সোসাইটি, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর প্রতি ঝুঁকতে দেখা গেছে।
ক্ষমতার রাজনীতি ও সংস্কারের নামে বিএনপি বিরোধিতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি লেখেন, "যারা আসলে আজীবন কালচারালি লীগ ছিলেন, বিএনপি উনাদের রুচির সাথে যায় না—তাদের জাশির কোলে উঠার আপ্রাণ চেষ্টা দেখেছি। কোলে উঠার পর অনেকে নামতে পারবে না দেখে এখনো জাশির কোলবন্দী হয়ে আছেন।"
রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ডিজিটাল মব’ এবং ডানপন্থার উত্থান প্রসঙ্গে তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ডিজিটাল মবের চাপে অনেককে ডানপন্থী থেকে উগ্র-ডানপন্থী হতে দেখা যাচ্ছে। এসব ডিজিটাল মবকে তিনি ‘সিস্টেমেটিক প্রোপাগান্ডা ও ক্যারেক্টার এসাসিনেশন মেকানিজম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মাহফুজ আলমের মতে, "দেশ (উগ্র)ডানপন্থার ট্রেনে উঠে গেছে। হরেক রঙ্গের নরম-গরম ডান মিলে এটা নিশ্চিত করে ছাড়বে।"
স্ট্যাটাসে সেকুলার সমাজ এবং ঐতিহ্যবাহী আলেম সমাজের প্রতি ইঙ্গিত করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, বিএনপি বিরোধিতা করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কাছাকাছি যাওয়ার খেসারত সেকুলার সমাজ এবং ঐতিহ্যবাহী আলেম সমাজ উভয়কেই দিতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, "লাভের গুড় খাওয়ার পরে ছুড়ে ফেলা হবে দুই গোষ্ঠীকেই।"
রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দিতে গিয়ে তিনি লেখেন, "গুড টাইম ইজ কামিং ফর জাশি এন্ড ৭২ আদার্স। এ আশু ভবিষ্যত পাল্টানোর সাধ্য আপাতত কারো নেই। আর, জাশি যত গুড টাইমে যাবে, ততই লীগ ফেরা অনিবার্য হয়ে উঠবে। উই আর গোয়িং ব্যাক টু সেভেন্টি-ওয়ান। যেখানে বিএনপির একাংশ জাশির দুনিয়ায়, অন্য অংশ লীগের দুনিয়ায় বাস করবে।"
পোস্টের শেষ অংশে সাধারণ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্দেশ্যে মাহফুজ আলম একপ্রকার কটাক্ষের সুরে লেখেন, "তোমরা বাকিরা আপাতত জাশি প্রযোজিত কালচারাল ওয়ারে নিজেদের ব্যস্ত রাখো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ২৪টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সমন্বিত নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় ব্যাটালিয়ন সদরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ২টি এবং সীমান্তের ৮ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অবস্থিত ২২টি পূজামণ্ডপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বিজিবি।
এছাড়া, গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, "সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাংলাদেশের ঐতিহ্য। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।"
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য গুজবে কান না দেয়া, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী সকলের উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে দোকানপাট ও মার্কেটে যাওয়ার জন্য বের হয়। কিন্তু যদি তারা তীব্র যানজট পেরিয়ে গিয়ে দেখতে পায় যে সব দোকানপাট বন্ধ, তাহলে তাদের প্রচেষ্টা বিফলে যাবে। সুতরাং, চলুন শুক্রবার রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে তা জেনে নেওয়া যাক।
বন্ধ থাকবে যেসব শপিং সেন্টার
আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, চক বাজার, বাবু বাজার, নয়াবাজার, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শরিফ ম্যানসন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট।
যেসব দর্শনীয় স্থান বন্ধ
সামরিক জাদুঘর : বিজয় সরণিতে অবস্থিত এই জাদুঘর প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার এটি সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, আগারগাঁও : বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকে। শনিবার থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫ টাকা। এছাড়া, শনিবার ও রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১০ টাকার টিকিটের বিনিময়ে টেলিস্কোপে আকাশ পর্যবেক্ষণ করা যায়।
শিশু একাডেমি জাদুঘর : শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাহিদ রানার অস্ট্রেলিয়া সফরে অংশগ্রহণ সম্ভব হয়নি চোটের কারণে। যদিও সাইড স্ট্রেইনের আঘাত থেকে তিনি সেরে উঠেছেন, তবে নতুন আরেকটি চোটের কারণে সমস্যায় পড়েছেন তরুণ এই পেসার। নিতম্বের ব্যথার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকেও তিনি ছিটকে পড়েছেন।
বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানার নিতম্বের ব্যথা নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। চোটের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ এবং পুনর্বাসনের জন্য গতকাল রাতে তার অস্ট্রেলিয়ার পার্থে উড়াল দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ঝুঁকি এড়াতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের বাইরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে।
গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে নাহিদ সাইড স্ট্রেইনের চোটে আক্রান্ত হন। এই চোটের কারণে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্ট এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। চোট থেকে সেরে ওঠার পর অনুশীলনে ফিরে এলেও, পরে নিতম্বে ব্যথা অনুভব করেন তিনি।
ঢাকায় স্ক্যানের মাধ্যমে গুরুতর কিছু ধরা পড়েনি। তবে বিসিবি সতর্ক রয়েছে। পার্থের কোস্টাল অর্থোপেডিক হাসপাতালে চিকিৎসক পিটার দি আলেসান্দ্রোর তত্ত্বাবধানে নাহিদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পুনর্বাসন চলবে। এই জন্য বিসিবি ১০ দিনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে।
নিতম্বের সমস্যার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুই টেস্টের সিরিজে তার খেলা অনিশ্চিত। তবে নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টে তাকে পাওয়ার আশা করছে বিসিবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার সকালে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমে গেছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্র কিছু জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে, যা তেলের পরিবহন ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এসব পরিস্থিতির প্রভাব মূল্যায়ন করছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ১২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ১০৫ ডলার ৫১ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৫৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলার ৪৩ সেন্টে দাঁড়ায়।
জ্বালানি সরবরাহের চাপ কমানোর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ২ কোটি ব্যারেলের বেশি ডিজেল এবং গত মার্চে জরুরি মজুত থেকে ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া অবশিষ্ট তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। এই উদ্যোগ বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর ফলে তেলের দামে প্রভাব ফেলেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ পরিবহনের ব্যয় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহনকারী কিছু জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।
তবে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজে নতুন করে হামলা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত তীব্র হওয়ায় আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। এ অঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। ফলে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর বিনিয়োগকারীরা সতর্ক নজর রাখছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ