ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

কুমিল্লায় ১৯৭ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ১২৬টির লাইসেন্স নেই


কুমিল্লায় ১৯৭ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ১২৬টির লাইসেন্স নেই

কুমিল্লায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাসেবার নামে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে রক্ত সংগ্রহের সময় বারবার ভুলভাবে সুই প্রবেশ করানোর অভিযোগ রয়েছে, আবার কোথাও সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত চিকিৎসকের অভাব দেখা গেছে। কিছু হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, কুমিল্লা সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার ১৯৭টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ১২৬টির লাইসেন্সের মেয়াদ নেই। এই পরিস্থিতিতে রোগী ও তাদের স্বজনরা এসব প্রতিষ্ঠানের তদারকি এবং জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

রক্তদানে আসা ব্যক্তিরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রক্ত সংগ্রহের সময় বারবার ভুল জায়গায় সুই প্রবেশ করানোর অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন রক্তদাতা। তাঁদের মতে, এই অভিজ্ঞতা শুধু অস্বস্তিকর নয়, চিকিৎসাসেবার মান ও দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

আরও পড়ুন: কৃষিজমির কাজ ও গবাদিপশুর চারণভূমি রক্ষায় মানববন্ধন

কুমিল্লার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দায়িত্বরত চিকিৎসকের অনুপস্থিতির অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রোগী আসার পর অনকল চিকিৎসককে ডেকে আনা হয়, যা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।

রক্ত দিতে আসা যোবায়ের নামে এক যুবক সময় সংবাদকে বলেন, "অদক্ষ লোক দিয়ে রক্ত নেয়া হচ্ছে। আমার হাতে তিন জায়গায় সুই দিয়ে ঢুকিয়ে রক্ত নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে তারপর পারেনি। পরে আরেকজন মহিলা এসে রক্ত সংগ্রহ করেছে। অথচ আমি অসংখ্য বার বিভিন্ন রোগীকে হাসপাতালে রক্তদান করেছি। এমন পরিস্থিতি পড়তে হয়।"

মাহফুজ নান্টু নামে একজন বলেন, "কুমিল্লা বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকের অবস্থা খুব খারাপ। এইসব হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকে এতে করে সেবা নিতে আসা রোগীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে এসে বরং স্বজনদের মাঝে তৈরি হয় স্বাস্থ্য ঝুঁকির ভয়।"

জহিরুল ইসলাম আজিম নামে এক রোগীর স্বজন জানান, "কুমিল্লা আসছি ভালো সেবা পেতে। অথচ এসে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। রোগীর হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসককে কল করা হয়। চিকিৎসক আসতে আসতে সময় লাগে এক থেকে দুই ঘণ্টা। এতে করে ভোগান্তি পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের। অনেক সময় রোগীর অবস্থাও খারাপ হয়ে যায় অপেক্ষা করতে করতে।"

আরও পড়ুন: কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪ জনই না ফেরার দেশে

কুমিল্লা সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার ১৯৭ প্রতিষ্ঠানের ১২৬টির লাইসেন্সের মেয়াদ নেই।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নথিতে কুমিল্লা জেলার তালিকাভুক্ত ১৯৭টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১২৬টির লাইসেন্সের মেয়াদ নেই বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশের লাইসেন্সের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এই বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. জহিরুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, "কুমিল্লায় অনেক হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের মেয়াদ নাই আবার কিছু কিছু হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সও নাই। আমরা তাদের চিঠি ইস্যু করেছি তাছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকার বিষয়টাও অনেকের কাজ থেকে জেনেছি। আমরা এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"

রোগী ও স্বজনদের প্রত্যাশা, চিকিৎসাসেবার নামে অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি জোরদার করবে এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬০ বছরের বৃদ্ধা ভিক্ষুককে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি

রক্ত দিতে এসে ভোগান্তিতে রক্তদাতারা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় ইজিবাইক চালক ও বাস শ্রমিকদের বিরোধে সড়কে গাড়ি ব্যারিকেড, চলাচল বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


চুয়াডাঙ্গায় ইজিবাইক চালক ও বাস শ্রমিকদের বিরোধে সড়কে গাড়ি ব্যারিকেড, চলাচল বন্ধ

চুয়াডাঙ্গায় ইজিবাইক চালক এবং বাস শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধের কারণে বাস চলাচল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কে সকল প্রকার যানবাহনের চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন না চলায় সড়কের দুই পাশে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।

শনিবার বিকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা দৌলতদিয়ার এলাকায় সড়কে গাড়ির ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছুদিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় ইজি বাইক চালকদের এবং পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের মধ্যে সড়কে চলাচল নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। শনিবার সকালে ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর ফলস্বরূপ, শনিবার বিকেলে আলোকদিয়া বাজারে ইজিবাইক চালকরা বাস চলাচলের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

এরপর বাস চালকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। সড়কে গাড়ি আড়াআড়ি রেখে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, মেহেরপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য আমরা কাজ করছি। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লক্ষ্মীপুরে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় যুবলীগ নেতা শাহজাহান মেম্বার গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


লক্ষ্মীপুরে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় যুবলীগ নেতা শাহজাহান মেম্বার গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরের বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং স্থানীয় যুবলীগ নেতা শাহজাহান মেম্বারকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। শনিবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুর রহমান।

এর আগে শুক্রবার রাতে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানার পুলিশ তাকে আটক করে এবং পরে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

সূত্রে জানা গেছে, হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে শাহজাহান মেম্বার আত্মগোপনে ছিলেন। সোনাইমুড়ীতে তার এক নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে সেখানে যাওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এই বিষয়টি লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করলে, লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে।

সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুর রহমান এ বিষয়ে জানান, শাহজাহান মেম্বারকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধে আরও ৯টি মামলা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাকসুর আয়োজনে সাংবাদিকতায় নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


রাকসুর আয়োজনে সাংবাদিকতায় নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকতায় আগ্রহী নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। কর্মশালার সমাপ্তির পর ২৮ জন শিক্ষার্থীকে সাংবাদিক ফেলোশিপ ও সনদ প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সের কনফারেন্স কক্ষে রাকসুর মিডিয়া ও প্রকাশনা বিভাগের উদ্যোগে কর্মশালার সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁরা সমাজে সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সাংবাদিকতা পেশায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চার সম্পর্ক তুলে ধরেন রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক বড় সাংবাদিকের পাশাপাশি অসংখ্য লেখক ও সাহিত্যিকও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের সাহিত্যকর্ম ও চিন্তাচর্চায় সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সক্রেটিসের ‘Know Thyself’ বা ‘নিজেকে জানো’ উক্তির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের একজন লেখক ছিলেন, যিনি মাত্র দুটি শব্দ বলেছিলেন—‘Know Thyself’, অর্থাৎ ‘নিজেকে জানো’। জানেন, তিনি কে? তিনি সক্রেটিস। তাঁর চেহারা প্রচলিত সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে আকর্ষণীয় ছিল না। কথিত আছে, তাঁর স্ত্রী প্রায়ই তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। কিন্তু সারা দেশের তরুণেরা তাঁর কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করতেন। তিনি এত সুন্দর কথা বলতেন যে, ‘নিজেকে জানো’—এই দুটি শব্দই যথেষ্ট ছিল। সেই প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত এই কথাটি মানুষের মনে গেঁথে আছে। আমরা বিভিন্ন বক্তৃতায়ও এর উদাহরণ দিই।”

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?’-এর প্রসঙ্গ তুলে মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “এটি লিখেছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। আমরা তাঁকে একজন সাহিত্যিক হিসেবে জানি। কিন্তু পাশাপাশি এটাও জানতে হবে, তিনি ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এমন একটি কালজয়ী পঙ্‌ক্তি রচনার পেছনে শুধু তাঁর সাহিত্যিক সত্তাই নয়, সাংবাদিকসত্তারও ভূমিকা ছিল।”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তাঁকে একজন বড় কবি ও লেখক হিসেবে জানি। সাংবাদিকদের আমরা প্রায়ই বলি, ‘আপনারা সহজ করে লেখেন না কেন? এত ঘুরিয়ে বলেন কেন? সহজভাবে বলে দেন।’ অথচ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই বলেছিলেন, ‘সহজ কথা বলতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে।’ তিনি শুধু কবি ছিলেন না, ‘সাধনা’ পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন। কিন্তু তাঁর এই পরিচয়টি আমরা অনেক সময় ভুলে যাই। তাঁর সাহিত্যিক সত্তার বিকাশে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।”

তিনি আরও বলেন, অনেক বড় কবি ও লেখক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য ও ভাষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান যুক্ত হয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলামের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাকসুর ভিপি বলেন, “তিনি ‘নবযুগ’, ‘লাঙল’ ও ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি কীভাবে এমন অসাধারণ কবিতা লিখলেন, তা বুঝতে হলে তাঁর সাহিত্যিক সত্তার পাশাপাশি সাংবাদিকসত্তাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর লেখায় যে বিদ্রোহী চেতনা, সাহস ও শক্তিশালী ভাষার প্রকাশ ঘটেছে, তার পেছনে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাও ভূমিকা রেখেছে। শুধু কবিসত্তা দিয়ে তাঁর সৃষ্টিকে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।”

বাংলা ভাষার বিকাশে প্রমথ চৌধুরীর অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলা সাহিত্যে যখন সাধুভাষার প্রচলন বেশি ছিল, তখন অনেকের কাছে সেই ভাষায় লেখা সাহিত্য পড়া কঠিন মনে হতো। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা পাঠকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথের অনেক লেখার ভাষা সাধারণ পাঠকের কাছে কঠিন মনে হতো। সেই সময়ে প্রমথ চৌধুরী চলিত ভাষার প্রচলন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।”

তিনি আরও বলেন, “তিনি বলেছিলেন, ‘জীবনে লেখামি আর সাহিত্যে নেকামি আমি পছন্দ করি না।’ তাঁর ভাষাচর্চা শুধু সাহিত্যিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন। বাংলা ভাষার বিকাশে তাঁর সাংবাদিকসত্তারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।”

বিশ্বসাহিত্যে সাংবাদিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “বাংলা সাহিত্য ও ভাষার ইতিহাসে সাংবাদিকেরা এভাবেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। শুধু বাংলা সাহিত্য নয়, বিশ্বসাহিত্যে সাংবাদিকতার অবদান অনেক। আপনারা দেখবেন, অনেক নোবেলজয়ী সাহিত্যিক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা তাঁদের লেখায় সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরেছেন এবং ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করেছেন। আর্নেস্ট হেমিংওয়ের কথাই ধরুন। তাঁর ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়। তাঁর সাহিত্যকর্মের পেছনে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।”

সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চার পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমরা যাঁদের ব্যঙ্গাত্মক লেখক বলি, যাঁরা সরকারের সমালোচনা করেন কিংবা সমাজের অসংগতি তুলে ধরেন, তাঁদের অনেকেই সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের সাহিত্যকর্মে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা ও সমাজ পর্যবেক্ষণের প্রভাব দেখা যায়। তাঁদের সাহিত্যিক ও সাংবাদিকসত্তা একসঙ্গে মিলে এমন সব রচনা সৃষ্টি করেছে, যা সারা বিশ্বের অসংখ্য পাঠককে প্রভাবিত করেছে।”

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাকসুর ভিপি বলেন, “এ জন্যই আমি বলি, আপনারা সাংবাদিকতাকে প্যাশন হিসেবে নেবেন। আগামী দিনে সাংবাদিকতা পেশার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে আপনারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে আপনাদের অবদান ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই প্রত্যাশা।”

সাংবাদিকতায় ছাত্রীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত সাবেক জনসংযোগ প্রশাসক

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক আখতার হোসেন মজুমদার নবীন শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতায় আগ্রহ ও বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “এখানে যারা নতুন করে সাংবাদিকতা শুরু করেছে, তাদের মধ্যে বিশেষ করে ছাত্রীদের দেখে আমি খুবই উৎসাহিত হয়েছি। আমি যখন সাংবাদিকতায় ছিলাম, তখন যাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, তাদের মধ্যে মাত্র একজন ছাত্রীকে দেখেছিলাম। পরে আরও দুজন ছাত্রী নতুন করে শুরু করেছিল। এখন এখানে নতুনদের মধ্যে ছয়জনকে দেখা যাচ্ছে। এটি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। আশা করি, সবাই ভালো করবে। সবার জন্য শুভকামনা রইল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ নিয়ে বাকৃবিতে সেমিনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৪ পি.এম


জাপানে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ নিয়ে বাকৃবিতে সেমিনার
 

 

 

 

জাপানে উচ্চশিক্ষা, সরকারি বৃত্তি ও গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জাপান এডুকেশন সেমিনার ২০২৬’। এতে জাপানের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা, মনবুকাগাকুশো (মেক্সট) বৃত্তি, আবেদন প্রক্রিয়া, গবেষণা ও ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
 
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে জাপানিজ ইউনিভার্সিটিজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (জুয়াব) ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাস।
 
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপান দূতাবাসের জনসংযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান ইউ আওয়াগি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুয়াবের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আজম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম জুলফিকার রহমান।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, বর্তমানে জাপানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হওয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটিতে উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ হচ্ছে।
 
তিনি বলেন, মাস্টার্স, পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল পর্যায়ে জাপানে বৃত্তিসহ পড়াশোনা ও গবেষণার বহুমুখী সুযোগ রয়েছে। উন্নত গবেষণা অবকাঠামো, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যের কারণে দেশটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তৃতীয় ভাষা চালুর নীতিমালার আওতায় জাপানি ভাষা শেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
 
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আজম বলেন, জাপানে সরকারি বৃত্তির কোটা কিছুটা কমায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তবে বেসরকারি বৃত্তি ও গবেষণা তহবিলের সুযোগও বাড়ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতার আওতায় শিক্ষার্থীরা টিউশন ফিতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপান দূতাবাসের জনসংযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান ইউ আওয়াগি বলেন, দূতাবাসের সুপারিশে বৃত্তির আসনসংখ্যা সাধারণত দশটি বা তার কম হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকে। গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মাস্টার্স পর্যায়ে বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত গবেষণার সঙ্গে সম্ভাব্য তত্ত্বাবধায়কের গবেষণার সামঞ্জস্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপকের গবেষণার ক্ষেত্র ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্স ও উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজতে ‘নাভি জাপান’-এর মতো তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 
সেমিনারে জাপানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ইমদাদুল হক এবং বাকৃবির কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম. মাসুদ রানা।
 
এ সময় জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা, বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া, গবেষণা প্রস্তাব প্রস্তুত, তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন ও উচ্চশিক্ষা-পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর দেন আলোচকেরা।
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%