বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩০ এম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের সময় বাংলাদেশ ও হাইতির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এছাড়াও, দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছেলের ফেরার অপেক্ষায় প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন মা। বাবার পথ চেয়ে আছে চার বছরের মেয়ে। কোলে ১১ মাসের শিশুকে নিয়ে স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় স্ত্রী। অন্যদিকে, বিদেশ যাওয়ার আশায় জমিজমা বিক্রি ও ধারদেনা করে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা খরচ করেও এখন নিঃস্ব পরিবারটি।
মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর দত্তের হাট এলাকার সাইদুল বেপারী (৩২) ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি দিয়ে গত দুই মাস ধরে লিবিয়ায় নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের অভিযোগ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের অপেক্ষায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে মা সূর্যবান বেগমের।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সূর্যবান বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কোথায় আছে, কেমন আছে—কিছুই জানি না। প্রতিদিন মনে হয়, এই বুঝি দরজা খুলে ছেলে ফিরে আসবে। আমি আমার ছেলেকে বুকের মধ্যে ফিরে পেতে চাই।’
পরিবারের দাবি, ইতালি পাঠানোর কথা বলে স্থানীয় দালাল আনোয়ার ফরাজী ২৩ লাখ টাকার চুক্তিতে সাইদুলকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। ২০২৫ সালের ৬ মে অগ্রিম ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে ৯ জুন শ্রীলঙ্কা ও দুবাই হয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে নেওয়া হলেও তাঁকে লিবিয়ায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
স্বজনদের অভিযোগ, লিবিয়ায় নেওয়ার পর সাইদুলকে একটি চক্রের কাছে জিম্মি করা হয়। নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ নানা মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা দেওয়ার পর গত দুই মাস ধরে সাইদুলের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ নেই।
সাইদুলের স্ত্রী মেরি আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়েটা প্রতিদিন আব্বুর সঙ্গে কথা বলতে চায়। মোবাইল হাতে নিয়ে বলে, আব্বুর সঙ্গে কথা বলবে। কিন্তু আব্বু তো আর ফোনের ওপাশে নেই। দুই সন্তানকে কীভাবে মানুষ করব, সংসার কীভাবে চালাব—বুঝতে পারছি না।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, সাইদুল নিখোঁজ হওয়ার পর সংসারে নেমে এসেছে চরম আর্থিক সংকট। জমিজমা ও ঘরবাড়ির অনেক কিছু বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার টাকা জোগাড় করা হয়েছে। এখন সন্তানদের খাবার জোগাড় করতেও স্থানীয়দের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
সাইদুলের ভাই মাহিদুল বেপারীর অভিযোগ, ‘ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে আমার ভাইকে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে মাফিয়ার কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আমরা সবকিছু হারিয়েছি। আমরা দালালদের বিচার ও আমার ভাইয়ের সন্ধান চাই।’
এ ঘটনায় গত ১১ সেপ্টেম্বর সাইদুলের বড় ভাই সামাদ হোসেন বাদী হয়ে আনোয়ার ফরাজী, শিল্পী আক্তার, বাদল জমাদ্দার, সাহেব আলী জমাদ্দার, মামুন বেপারী, ইভা বেগম ও ছলে বেগমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মাদারীপুরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু। তাঁর দাবি, ‘আমি তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেইনি।’ তাঁর স্ত্রী শিল্পী আক্তার অবশ্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার না করে বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।’
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাইদুল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবার আদালতে মামলা করেছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। আদালতের নির্দেশনা থানায় পৌঁছালে বিষয়টি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, পরিবারের দাবি—নিখোঁজ সাইদুলের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বম্ভরপুর থানার পুলিশ আটক করেছে আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ মানিককে, যিনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা থেকে গ্রেফতার হন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে তার নিজ বাড়ি, যা ধনপুর ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামে অবস্থিত, সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ জানায়, বেনজির আহমেদ মানিককে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, মিছিল এবং অপরাধ সংঘটনের চেষ্টার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মদ উল্লাহ ভূঁইয়া এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেনজির আহমেদ মানিককে ভোর রাতে আটক করা হয়েছে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভিযোগে এবং পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চট্টগ্রামে এগিয়ে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এপ্রিল-২০২৭ সেমিস্টারের প্রথম সপ্তাহ থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্নাতক শ্রেণির সকল ক্লাস এবং নতুন ভর্তি হওয়া মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে।
এদিকে, এপ্রিল-২০২৭ সেমিস্টারে মাস্টার্স প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ক্লাস ঢাকার মিরপুর-১২-এর অস্থায়ী ক্যাম্পাসে চলতে থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থানান্তর সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কিত একটি নোটিশে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার অস্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে চট্টগ্রামের স্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে স্থানান্তরের জন্য ‘ক্যাম্পাস স্থানান্তর সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে কমিটি স্থানান্তর কার্যক্রমের ‘Pre-Transition Phase’-এর আওতায় সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করছে।
নোটিশ অনুযায়ী, স্থায়ী ক্যাম্পাসে এপ্রিল-২০২৭ সেমিস্টারের একাডেমিক কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে শুরু করতে শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষে ব্যবহৃত সামগ্রী, জনবল এবং স্থায়ী সম্পদ স্থানান্তরের কাজ ১৫ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৭-এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। তবে ল্যাবরেটরির মতো তুলনামূলক বেশি সময়সাপেক্ষ স্থায়ী সম্পদ স্থানান্তরের কাজ ১ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৭-এর মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরুর পূর্বে অগ্রগামী দল হিসেবে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ও আবশ্যিক জনবল পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঢাকা ক্যাম্পাসে ব্যবহৃত শ্রেণিকক্ষের সামগ্রী, ল্যাবরেটরি ও অফিস সরঞ্জাম এবং সংশ্লিষ্ট জনবল স্থানান্তরের পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া, কোন সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র স্থায়ী ক্যাম্পাসে নেওয়া হবে এবং কোনগুলো অপ্রয়োজনীয় বা অচল হিসেবে বিবেচিত হবে, তার একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অস্থায়ী ক্যাম্পাসে খণ্ডকালীন বা চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক এবং বহিরাগত সুবিধা, যেমন ল্যাবরেটরি, ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থায়ী ক্যাম্পাসে প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাবও চাওয়া হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে, স্থানান্তর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি অনুষদকে তাদের ফোকাল পয়েন্টের নাম ও মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। সংশ্লিষ্ট অনুষদ ও দপ্তরগুলোকে আগামী ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে তাদের বিস্তারিত পরিকল্পনা ও মতামত ক্যাম্পাস স্থানান্তর সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের ডিনকে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।
নতুন স্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম স্থানান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির দীর্ঘদিনের অস্থায়ী ক্যাম্পাসনির্ভর কার্যক্রমে একটি পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, এমপিদের প্রতিশ্রুতি বিশেষ কর্মসূচি, পরিবেশ উন্নয়ন এবং লেক দূষণ রোধের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা এবং জনভোগান্তি দূরীকরণ, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কেন্দ্রীয় সেলের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কেন্দ্রীয় সেলের জরুরী সভাটি প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তা, পুলিশের মহা-পরিদর্শক আলি হোসেন ফকির, ঢাকা ও গাজীপুর জেলা প্রশাসক এবং বাংলাদেশের সহকারী এটর্নি জেনারেল যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আইন সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাগণ।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কাজ তদারকি বা সমন্বয়ের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিশেষ সেল বা অনুবিভাগ কাজ করে থাকে। এর মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় ও ত্রাণ তৎপরতা মনিটরিং সেল রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে জরুরি দুর্যোগ ও ত্রাণ কার্যক্রমের সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য কাজ করে। সভায় দেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প, এমপিদের প্রতিশ্রুতি বিশেষ কর্মসূচি, পরিবেশ উন্নয়ন, লেক দূষণ রোধ, আইন-শৃঙ্খলা ও জনভোগান্তি দূরীকরণ, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ