ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মতিহার থানার ইন্সপেক্টর পরিচয়ে প্রতারণা, বিকাশে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ


মতিহার থানার ইন্সপেক্টর পরিচয়ে প্রতারণা, বিকাশে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

রাজশাহীর মতিহার থানার একজন ইন্সপেক্টরের পরিচয় দিয়ে অভিযোগকারীদের ফোন করে আসামি ধরার খরচের কথায় টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর তাদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে প্রতারকের কাছে পৌঁছালো, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুসারে, সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটের দিকে ০১৭৯৮-৯৫৫৯৯৩ নম্বর থেকে নগরীর মতিহার থানার বাজে কাজলা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আকবর আলী (৭০)-এর মোবাইলে ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানার একজন ইন্সপেক্টর পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি ১২ জুলাই থানায় একটি অভিযোগ করেছেন এবং আসামি ধরতে ২ হাজার ৫০০ টাকা তেল খরচ হিসেবে প্রয়োজন।

আকবর আলী জানান, ফোনকারী তার নাম এবং অভিযোগের তারিখ সঠিকভাবে বলায়, তিনি সন্দেহ করেননি। পরে, একটি বিকাশ এজেন্ট নম্বর (০১৭৮০-৫০৪০৮৪) থেকে প্রতারকের দেওয়া ০১৮৩৯-১৬২২৯৪ নম্বরে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাঠান। কিছু সময় পর, একই ব্যক্তি আবার ফোন করে আরও ১ হাজার টাকা দাবি করেন। তখন, আকবর আলী টাকা দিতে অপারগতার কথা জানান।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

একই সময়ে, মোছাঃ লিজা বেগমের কাছেও একই নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে মতিহার থানার ইন্সপেক্টর হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসামি ধরার জন্য ১ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তার নাম, ঠিকানা ও অভিযোগের তথ্য সঠিকভাবে বলায়, তিনি সরল বিশ্বাসে ০১৭৭০-০৪৫৯৩১৪ নম্বরের একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে প্রতারকের দেওয়া ০১৮৩৯-১৬২২৯৪ নম্বরে ১ হাজার টাকা পাঠান। লিজা বেগমের দাবি, পরে মামলা রুজুর কথা বলে আরও ৭ হাজার টাকা দাবি করা হলে তিনি সন্দেহ করেন এবং প্রতারকের সঙ্গে কথোপকথন ভিডিও করে রাখেন।

ভুক্তভোগী দুইজন জানান, তারা রবিবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) ও সেকেন্ড অফিসারের কাছে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাদের প্রশ্ন ছিল, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরপরই প্রতারক কীভাবে তাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করল।

এ বিষয়ে মতিহার থানার সেকেন্ড অফিসার রিপন সরকার বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের থানার ইন্সপেক্টর পরিচয়ে টাকা নিয়েছে, ওই নাম বা মোবাইল নম্বরে কোনো কর্মকর্তা আমাদের থানায় নেই। মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আমি অভিযোগকারীদের তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়েছি। তবে অভিযোগকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রতারকের কাছে কীভাবে পৌঁছেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কীভাবে বলব? এ ঘটনায় থানায় তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানে পাচারের আগেই ৭৭৯ টুকরা কাঠ জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ পি.এম


বান্দরবানে পাচারের আগেই ৭৭৯ টুকরা কাঠ জব্দ

বান্দরবানে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করে রাখা মোট ৭৭৯ টুকরা কাঠ জব্দ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বন বিভাগ। এ সময় কাঠ বহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপও জব্দ করা হয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) বান্দরবান সদর সেনা জোনের পক্ষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১০ জুলাই বান্দরবান সদর উপজেলার বাঁকিছড়ামুখ এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী একটি অভিযান চালায়। অভিযানের সময় রাস্তার পাশে মজুদ রাখা বিপুল পরিমাণ কাঠের বিষয়ে বন বিভাগকে অবহিত করা হয়।

পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা কাঠের মালিক মিলন বড়ুয়ার কাছে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র চান। কিন্তু তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি, তাই সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় কাঠগুলো জব্দ করা হয়।

অভিযানে মোট ৭৭৯ টুকরা কাঠ ও কাঠ বোঝাই একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। সেনা জোন সূত্রের দাবি, জব্দ করা কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৮০ হাজার ২০ টাকা।

এই ঘটনায় বন আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির হয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন সুস্মিতা-সুখেন্দু-প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির হয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন সুস্মিতা-সুখেন্দু-প্রকাশ

বিজেপির মনোনীত তিন প্রার্থী পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার উপ-নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার উপ-নির্বাচনের জন্য সোমবার বিধানসভায় গিয়ে সুস্মিতা দেব, সুখেন্দু শেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইক তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তিন প্রার্থীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সংসদীয় মন্ত্রী শঙ্খর ঘোষ এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ছিলেন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর এভাবেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংসদ পদ ও দল ত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব, সুখেন্দু শেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইক। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার তিন আসনে উপ-নির্বাচন অনিবার্য হয়ে ওঠে।

গবেষণায় দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাসীন দল বিজেপিতে যোগদান করে সাবেক এই তিন তৃণমূল সাংসদ। তাদের হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন শমীক ভট্টাচার্য। গেরুয়া দলটিতে যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে বিজেপি।

আগামী ২৪ জুলাই তিন আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকালে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজ্য বিধানসভা ভবনে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকেল ৫টা থেকে গণনা শুরু হবে।

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সুস্মিতা দেব বলেন, আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে আমাদের নিয়ে যে বৈঠক হয়েছে, সেটা একদম ঘরোয়া বৈঠক। সম্প্রতি আমরা বিজেপিতে যোগদান করেছি। এরপরেই প্রার্থী হয়ে দাঁড়ানো। আমরা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বার্থেই কাজ করব।

তবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যসভার টিকিট পাওয়া নিয়ে দলের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যসভার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ব্যক্তি পরিচয় কী বড় হয়ে ওঠে? এ প্রশ্নের জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ব্যক্তিত্ব পরিচয় বড় নয়। কারণ তাদের তিনজনের রাজ্যসভার মেয়াদ এখনও বাকি ছিল। তারা পূর্বের দল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। সেক্ষেত্রে দলেরও একটি দায়িত্ব থাকে।

অন্যদিকে, মমতাপন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুনাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেছেন, মমতা ব্যানার্জি এখন ক্ষমতায় না থাকায় অনেকের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, বুকে ব্যথা উঠছে এবং অনেকে দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতায় থাকলে এরাই চারপাশে থাকতো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর ‘গুন্ডা দমন আইন’, সমর্থন সরকারের, বিরোধীদের আপত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ পি.এম


পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর ‘গুন্ডা দমন আইন’, সমর্থন সরকারের, বিরোধীদের আপত্তি

পশ্চিমবঙ্গে সোমবার থেকে 'গুন্ডা দমন আইন' কার্যকর করা হলো। গত ২৯ জুন রাজ্য বিধানসভায় গুন্ডা দমন সম্পর্কিত জোড়া বিল পাস হয়। এদের মধ্যে আছে 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল-২০২৬', এবং 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইন্টেনেন্স অ্যান্ড পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-২০২৬'।

এই আইন অনুযায়ী, কোনো নাশকতা ঘটার আগে, অর্থাৎ অশান্তির আঁচ পেলেই অভিযুক্তকে আগে থেকেই গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ। এছাড়া, যেকোনো সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের ক্ষেত্রে এবার থেকে গুন্ডাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করতে পারবে সরকার।

এই আইন মোতাবেক সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে অথবা মানুষ নিরাপত্তাহীনতা ভুগতে পারেন, এমন কর্মকাণ্ডগুলোকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর আওতায় রয়েছে- জনগণের মধ্যে আতঙ্ক, বিপদ, ভয় বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করাসহ জনশৃঙ্খলা বা জনশান্তি বিঘ্নিত করা, মানুষের জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করা, আইনসম্মত ব্যবসা-বাণিজ্য বা পেশায় বাধা দেওয়া, বেআইনিভাবে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দখল করা, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা, খনি, বালি, পাথর অথবা প্রাকৃতিক সম্পদ বেআইনিভাবে উত্তোলন করা, বন্যপ্রাণী বা বনজ সম্পদের ক্ষতি করা।

কোন কোন কাজকে সমাজবিরোধী তা ব্যাখ্যার পর আইনে গুন্ডার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজে, অথবা কোনো দল (গ্যাং) বা সিন্ডিকেটের সদস্য বা নেতা হিসেবে অভ্যাসগতভাবে সমাজবিরোধী কাজ করেন, তাহলে তাকে 'গুন্ডা' হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

নতুন এই আইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এই আইন হওয়ারই ছিল, এটি প্রয়োজন ছিল। গত ১৫ বছর গুন্ডাদের সরকার ছিল এবং তার আগে ৩৪ বছরের হার্মাদদের সরকার ছিল। গত ১৫ বছরের তৃণমূলের গুন্ডাদের জব্দ করার জন্য এই আইনের প্রয়োজন ছিল। বিধানসভায় আমরা আইন পেশ করেছি এবং রাজ্যপাল তাতে সম্মতি দিয়েছেন।

রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছেন, অবশ্যই আইনটি আনা উচিত ছিল। কারণ, সবচেয়ে বেশি অপরাধমূলক কাজকর্ম এই রাজ্যেই হয়ে থাকে এবং এখানে কোনো আইন ব্যবস্থা নেই। অপরাধীদের সোজা করতে কঠোর আইন আনা দরকার।

দেশটির সাবেক কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী এবং কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, এটা একটি দমনকারী আইন। এটি আমি আগে বলেছি। এই আইন কার্যকর করার অর্থই হলো বিরোধীদের নাস্তানাবুদ করা এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার হরণ করা। এটি একটি কালো কালো আইন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাঝরাতে ঘরের মেঝেতে মিলল গার্মেন্টস শ্রমিকের রক্তাক্ত মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ পি.এম


মাঝরাতে ঘরের মেঝেতে মিলল গার্মেন্টস শ্রমিকের রক্তাক্ত মরদেহ

গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর রাতের মধ্যে দুই সন্তানের চিৎকারে একটি বসতঘরের ভেতর থেকে এক নারী গার্মেন্টস শ্রমিককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন প্রতিবেশীরা। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়েছে। পরে, স্বজনরা তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় মজনু মিয়ার ভাড়া বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

নিহত নাছিমা আক্তার স্বামী ও দুই সন্তানসহ ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং স্থানীয় ওয়ানটেক্স লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তিনি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার কৈলশাপুর বনপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। প্রায় ১২ বছর আগে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার গিদাপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাইদুর রহমানের (৪২) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। প্রায় এক মাস ধরে সাইদুর স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে একই বাসায় থেকে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।

নিহতের স্বজন ও পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া নার্গিস আক্তার জানিয়েছেন, দাম্পত্য কলহ প্রায়শই লেগে থাকত। সামান্য বিষয় নিয়ে সাইদুর সাধারণত স্ত্রী নাছিমাকে নির্যাতন করতেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কয়েক মাস আগে নাছিমা দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরে এসে বাসা ভাড়া নেন এবং গার্মেন্টসে চাকরি খোঁজেন। কিছুদিন আগে সাইদুরও সেখানে এসে তাদের সঙ্গে বাস করতে শুরু করেন।

তিনি আরও জানান, রবিবার রাতে খাবার খেয়ে নাছима, তার স্বামী ও দুই সন্তান ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে শিশুদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দেখেন, ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন নাছিমা। পাশে দুই সন্তান কান্নাকাটি করছিল। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকে স্বামী সাইদুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শাহীনূর আলম জানান, নিহতের শিশু সন্তানরা জানিয়েছে, তাদের বাবা সাইদুর রহমানই তাদের মাকে হত্যা করেছেন। সাইদুরকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে রয়েছে।

ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%