০৬:১৪ পি.এম
দেশের বৃহত্তম নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় শারদীয় দুর্গোৎসবে যাত্রীসেবা প্রদানের জন্য ৩৬টি রেলকোচ প্রস্তুত করা হয়েছে। মাত্র ১৩ কর্মদিবসের মধ্যে কারখানায় কোচগুলোর ভারী মেরামত (ওভারহোলিং) সম্পন্ন করা হয়।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, ঈদের মতো পূজার ছুটির সময়েও যাত্রীসেবা দিতে পরিবহন খাতে চরম চাপের সম্মুখীন হতে হয়। এবারের পূজার ছুটিও অনেক বেশি। ফলে, পরিবারগুলোর সঙ্গে ছুটির দিনগুলোতে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়বেন অনেক যাত্রী। যাত্রীচাপ মোকাবেলার বিষয়টি মাথায় রেখে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সৈয়দপুর কারখানায় ব্রডগেজ (বড়) লাইনের ৩১টি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।
মেরামতকৃত কোচগুলোর মধ্যে ১৪টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ (স্নিগ্ধা), দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিন কোচ এবং ১৫টি শোভন চেয়ার কোচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ছয়টি মিটারগেজ কোচও কারখানায় মেরামত করা হয়েছে। রাজস্ব খাত থেকে পূজার কোচ মেরামতের জন্য অর্থের সংস্থান করা হয় বলে জানায় সূত্রটি।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে দুই মাসে ১ হাজার ৫৯ জন গ্রেপ্তার
সূত্রটি আরও জানায়, কারখানাটিতে তীব্র জনবলসংকট বিদ্যমান। এখানে ২৯টি উপকারখানায় (শপ) ২ হাজার ৮৫৯ জন জনবলের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৬৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী। এর বাইরে ৪৯২ জন অস্থায়ী শ্রমিকও কারখানাটিতে কাজ করছেন। বাজেটস্বল্পতা ও লোকবলসংকটের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছুটির দিনেও শ্রমিকরা কোচ মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কারখানার ক্যারেজ শপে চলছিল কোচ মেরামতের কার্যক্রম।
শপের ইনচার্জ, ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (এসএসএই) মোমিনুল ইসলাম জানান, পূজায় যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে তারা ৪ অক্টোবর থেকে উৎপাদন শুরু করেছেন। আগামী ১৮ অক্টোবর তাদের কাজ শেষ হবে। এর মধ্যে অধিকাংশ কোচ পশ্চিমাঞ্চল রেলের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব কোচের মাধ্যমে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। ফলে প্রতিদিন স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ২৫ হাজার যাত্রী রেলসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: ভালুকায় ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী
রোববার (১৮ অক্টোবর) সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পূজার ছুটিতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে রেলসেবা পাবেন, এটি তাদের কাছে আনন্দের বিষয়। কাজেই যাত্রীসেবার কথা মাথায় রেখে শ্রমিক-কর্মচারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে কোচ হস্তান্তর করতে পারা, এটিই তাদের বড় অর্জন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন