০১:১৬ পি.এম
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রোববার থেকে চীন থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ছোট পার্সেলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন হ্যান্ডলিং ফি কার্যকর করেছে।
জোটের বাইরের দেশগুলো থেকে আসা প্রতিটি পার্সেলের ওপর দুই ইউরো (২ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার) ফি আরোপ করা হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
আরও পড়ুন: শেনজেন ভিসার আবেদন বন্ধ করেছে সুইডিশ দূতাবাস
ব্ল্যাক ফ্রাইডে, সাইবার মানডে ও বড়দিনের কেনাকাটার মৌসুম শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে এই নতুন ফি কার্যকর হলো। এর ফলে ছোট পার্সেলের ওপর আগে থেকে আরোপিত তিন ইউরো শুল্কের পাশাপাশি নতুন করে দুই ইউরো হ্যান্ডলিং ফি দিতে হবে।
কীভাবে কার্যকর হবে নতুন ফি?
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কোনো দেশ থেকে সরাসরি ক্রেতার কাছে পাঠানো পার্সেলে থাকা প্রতিটি ধরনের পণ্যের ওপর এ ফি প্রযোজ্য হবে। পার্সেলের মূল্য যতই হোক, এ নিয়ম কার্যকর থাকবে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো পার্সেলে ১০টি টি-শার্ট থাকে, তাহলে তার জন্য দুই ইউরো হ্যান্ডলিং ফি দিতে হবে। কিন্তু একই পার্সেলে যদি দুটি টুপি ও ১০টি টি-শার্ট থাকে, তাহলে দুটি ভিন্ন ধরনের পণ্য থাকায় ফি দিতে হবে চার ইউরো।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্য-ডানপন্থীদের প্রাইমারিতে অংশ নেবেন না এদুয়ার ফিলিপ
গত জুলাইয়ে ১৫০ ইউরোর কম মূল্যের ছোট পার্সেলের ওপর তিন ইউরো শুল্ক আরোপ করেছিল ইইউ। নতুন দুই ইউরো ফি ওই শুল্কের অতিরিক্ত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাবি, নতুন হ্যান্ডলিং ফি সরাসরি ভোক্তাদের দিতে হবে না। তবে অনলাইন খুচরা বিক্রেতারা বিক্রির আগে পণ্যের দামের সঙ্গে দুই ইউরো যুক্ত করতে পারবেন।
ইউরোপীয় ভোক্তা অধিকার সংস্থা (বিইইউসি) এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কেনাকাটার শেষ পর্যায়ে ক্রেতাদের ওপর নতুন এ খরচ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, এমনটি করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী বেআইনি। কারণ, আইন অনুসারে কেনাকাটার শুরুতেই ক্রেতাকে পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য জানাতে হবে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ইরান যুদ্ধে প্রভাব ফেলতে পারে
কেন নতুন ফি চালু করছে ইইউ?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ৬০০ কোটি ছোট পার্সেল প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ পার্সেলই এসেছে চীন থেকে। এসব পণ্য সাধারণত আলিএক্সপ্রেস ও টেমুর মতো জনপ্রিয় এশীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইউরোপে পৌঁছায়।
ব্রাসেলসের মতে, বিপুলসংখ্যক পার্সেল আসার কারণে শুল্ক কর্তৃপক্ষের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হচ্ছে।
এতে তাদের পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে। নতুন হ্যান্ডলিং ফি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে শুল্ক বিভাগের এ অতিরিক্ত কাজের ব্যয় মেটানো হবে।
আরও পড়ুন: আইআরজিসির দাবি: হরমুজে মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ
গত জুলাইয়ে ছোট পার্সেলের ওপর তিন ইউরো শুল্ক আরোপের পর ইউরোপে এ ধরনের পণ্য আমদানি প্রায় ৬৪ শতাংশ কমেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এখনই সময় হয়নি বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া চীনের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনকারী খেলনাসহ বিভিন্ন অনিরাপদ পণ্য প্রবেশের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপ।
বিইইউসির কর্মকর্তা অগাস্টিন রেইনা বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে সীমিত জনবল ও সম্পদ নিয়ে শুল্ক বিভাগকে অবৈধ পণ্য আমদানি ঠেকানোর দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। অথচ ছোট পার্সেলের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়েছে।’
এরপর কী হবে?
আরও পড়ুন: দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রথম দিনে ৬৮ লাখ রুপি জরিমানা, ১ হাজার ৫৩৯ গাড়ি ফেরত
নতুন দুই ইউরো হ্যান্ডলিং ফি স্থায়ীভাবে কার্যকর থাকবে। তবে কম মূল্যের পার্সেলের ওপর আরোপিত তিন ইউরো শুল্ক আপাতত অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে চালু রয়েছে, যা ২০২৮ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ওই তারিখ থেকে পণ্যের ধরন অনুযায়ী প্রচলিত নিয়মে নির্ধারিত শুল্ক কার্যকর হবে।
এ ছাড়া নতুন হ্যান্ডলিং ফির পরিমাণ প্রতি দুই বছর পরপর পর্যালোচনা করতে হবে। শুল্ক কার্যক্রম পরিচালনার প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে ফির পরিমাণ সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এ পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শেষ হচ্ছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন