ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিমাগো র‍্যাঙ্কিংয়ে ভেটেরিনারি সায়েন্সে দেশের সেরা বাকৃবি


সিমাগো র‍্যাঙ্কিংয়ে ভেটেরিনারি সায়েন্সে দেশের সেরা বাকৃবি
স্পেনভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা মূল্যায়ন সংস্থা সিমাগো ইনস্টিটিউশনস র‍্যাঙ্কিংস ২০২৬-এ ভেটেরিনারি সায়েন্স ক্যাটাগরিতে দেশের শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। একই সঙ্গে এশিয়ার ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ৯২তম এবং বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে ৪৩২তম।

রোববার (৭ জুন) বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। এ সময় ভেটেরিনারি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেন, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং ভেটেরিনারি টিচিং হসপিটালের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, সিমাগো ইনস্টিটিউশনস র‍্যাঙ্কিং শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক প্রভাবের ভিত্তিতে বৈশ্বিক মূল্যায়ন করে থাকে। ২০২৬ সালের তালিকায় বিশ্বের ১০ হাজার ৮২৭টি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৯১টি।

তিনি জানান, ভেটেরিনারি সায়েন্স ক্যাটাগরির ১ হাজার ৩০৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৭৮টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ। এশিয়ার ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাকৃবির অবস্থান ৯২তম এবং বৈশ্বিকভাবে ৯৭৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৩২তম।

তিনি আরও জানান, ভেটেরিনারি সায়েন্সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যার বৈশ্বিক অবস্থান ৫৯৩তম। তৃতীয় স্থানে রয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১১০৪তম), চতুর্থ স্থানে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১১৬২তম) এবং পঞ্চম স্থানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১২৮৫তম)।

এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আরও উন্নতির লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে অধ্যাপক বাহানুর রহমান বলেন, এ অর্জন পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য গর্বের। শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য এসেছে। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে এ ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি জানান, র‍্যাঙ্কিং-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের সমন্বয়ে ১৫ সদস্যের একটি ‘র‍্যাঙ্কিং সেল’ গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. কে এইচ এম নাজমুল হুসাইন নাজির বলেন, ভেটেরিনারি সায়েন্স ক্যাটাগরিতে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সামাজিক প্রভাব—এই তিনটি সূচককে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখানে কেবল স্কোপাস-ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ বিবেচনায় নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, গবেষণা প্রকাশনার ব্যয় বহন করা বর্তমানে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিল থেকে কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। গবেষণায় সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হলে শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায় থেকেই গবেষণায় আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ত্র ও টাকাসহ ডাকাত আজিম ও তার ২ সহযোগী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


অস্ত্র ও টাকাসহ ডাকাত আজিম ও তার ২ সহযোগী আটক

লক্ষ্ণীপুরের রামগতি উপজেলার জনতা বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গুলি ও নগদ ৮ লাখ টাকাসহ কুখ্যাত ডাকাত মো. আজিম ব্যাপারী (৩২) এবং তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

শুক্রবার (৬ জুন) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন রামগতি জনতা বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় কুখ্যাত ডাকাত আজিম ব্যাপারী ও তার দুই সহযোগী মো. বশির (৪০) এবং রাব্বী (১৬)-কে আটক করা হয়। তারা সবাই রামগতি উপজেলার বাসিন্দা। পরে আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় একনলা বন্দুক, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং নগদ ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, এর আগে ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরও অস্ত্রসহ আজিম ব্যাপারীকে আটক করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও জব্দকৃত টাকা জিম্মায় নিয়ে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, আটক তিনজনকে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে মনোরেল প্রকল্প নিয়ে চউক-ডিটিসিএ মতবিনিময়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


চট্টগ্রামে মনোরেল প্রকল্প নিয়ে চউক-ডিটিসিএ মতবিনিময়

চট্টগ্রাম মহানগরীতে মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)-এর মধ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার অনুষ্ঠিত এই সভাটি চউকের সম্মেলন কক্ষে হয়েছে। সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে, বিশেষ করে সম্ভাবনা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় চট্টগ্রাম শহরের জন্য একটি সমন্বিত ট্রাফিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ডিটিসিএ কর্তৃপক্ষ চউকের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি সহযোগিতা কামনা করে। এ সময় বক্তারা নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, 'চট্টগ্রাম ভৌগোলিকভাবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী। সুতরাং যেকোনো অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পর্যটন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য সংরক্ষণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। নগরবাসীর কল্যাণে কার্যকর, টেকসই ও জনবান্ধব প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।'

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, মনোরেল প্রকল্পকে অর্থনৈতিকভাবে টেকসই এবং লাভজনক করতে উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) ব্যবস্থার সঙ্গে রিয়েল এস্টেট উন্নয়নের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এতে করদাতাদের অর্থ থেকে ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

সভায় ডিটিসিএ-এর পক্ষে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মশিউর রহমান, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (ম্যাস ট্রানজিট) ও যুগ্মসচিব আবদুল লতিফ খান, সিএমএ প্রকল্প পরিচালক ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার মীর মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ সংস্থার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়াও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন চউকের সদস্য প্রকৌশলী মো. জামিলুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুব উল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ.এ.এম. হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পবিত্র গাদিরে খুম ঈমানী ঘোষণার শোকরিয়া সমাবেশ ও সালাতু সালাম মাহফিল আয়োজিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ পি.এম


পবিত্র গাদিরে খুম ঈমানী ঘোষণার শোকরিয়া সমাবেশ ও সালাতু সালাম মাহফিল আয়োজিত

পবিত্র আহলে রাসুল বিরোধী এবং ইসলামের খেলাফত উৎখাতকারি মোয়াবিয়া এজিদ চক্রের অনুসারী খারেজি কুফরি ধারা ও বাতিল শিয়াবাদি কুফরি ধারা থেকে ঈমানী অস্তিত্বের সুরক্ষা ও ইসলামের আসল ধারা রক্ষার জন্য, হকের অবলম্বন ও দিকনির্দেশনা প্রদানের শোকরিয়া উদযাপন উপলক্ষে ঐতিহাসিক গাদিরে খুম ঈমানী ঘোষণার শোকরিয়া দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ, হাজীপাড়ায় শোকরিয়া সমাবেশ এবং সালাতু সালাম মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাবেশে প্রধান মেহমান এবং বিশেষ মোনাজাত করেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের উপদেষ্টা, শায়খুল হাদিস আল্লামা সৈয়দ সাইফুর রহমান নিজামী শাহ। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াত।

এতে বক্তব্য রাখেন আল্লামা এমদাদুল হক সায়ীফ, আল্লামা হাফেজ ইলিয়াস শাহ, আল্লামা শেখ নঈম উদ্দিন, আল্লামা মুফতি রেজাউল কাওছার এবং সাবিনা সাদাত সাফাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, পবিত্র গাদিরে খুম মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, দশম হিজরির ১৮ জিলহজে বিদায় হজ থেকে ফেরার পথে গাদিরে খুম নামক স্থানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) লক্ষাধিক সাহাবায়ে কেরামের সমাবেশে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদান করেন, যা ইসলামের নেতৃত্ব, হেদায়েত এবং ঈমানি আদর্শের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, গাদিরে খুমের ঘোষণার মাধ্যমে হযরত আলী (আ.)-কে ‘মাওলা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং আহলে রাসূল (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসা, অনুসরণ ও আনুগত্যকে ঈমানি দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তিনি আরো বলেন, আহলে বাইতের আদর্শ মানবজাতির জন্য ন্যায়, সত্য এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পথনির্দেশনা প্রদান করে। আল্লামা ইমাম হায়াত উল্লেখ করেন, আল্লাহতাআলার হাবীব, প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহ্যিক শেষ বিশেষ হজ্ব থেকে মক্কাতুল মুকাররামা হতে পবিত্র মদীনাতুল মুনাওয়ারার পথে গাদিরে খুম নামক স্থানে দশম হিজরী ১৮ জিলহজ্ব কোরআনুল করীমের শেষ আয়াত শরীফ নাজিলের পূর্বক্ষণে লক্ষাধিক সাহাবায়ে কেরামের ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে আল্লাহতাআলার ইচ্ছাক্রমে কেয়ামত পর্যন্ত সকল মুমিনের ঈমান রক্ষা ও ইসলাম সুরক্ষায় এবং সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য অনুসরণীয় দিকনির্দেশনায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।

সে ঈমানী নীতিনির্ধারনী ঘোষণা মোবারক হলো, মাওলা আলী আলাইহিস সালামকে সর্বোচ্চ খলিফাতুর রাসুল ও তাওহীদ রেসালাতের পর ইসলামের সর্বোচ্চ অথরিটি সকল মুমিনের প্রধান মাওলা মাওলায়ে আলা ঘোষণার মাধ্যমে নুরে রেসালাত পবিত্র আহলে রাসুল আলাইহিমুস সালামকে সকল মুমিনের জন্য ঈমানের কেন্দ্র ও হকের মাপকাঠি এবং ইসলামের সর্বোচ্চ অনুসরনীয় আদর্শ হিসেবে ঘোষণা দেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ঈমানি চেতনা ও নৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য গাদিরে খুমের শিক্ষা ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।

গাদিরে খুমে মাওলায়ে আলাকে খলিফাতুর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সমগ্র উম্মতের মধ্যে সর্বোচ্চ মাওলা ঘোষণার শোকরিয়া দিবসে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, বাতেল শিয়াবাদি চক্রান্ত ও মোয়াবিয়াবাদি খারেজি কুফরীয়াত এবং সব বাতিলের মুলুকিয়ত থেকে ঈমান দ্বীন মিল্লাত রক্ষায় নুরে রেসালাত প্রাণপ্রিয় আহলে রাসুল কেন্দ্রীক আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পূণরুজ্জীবনে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্ট ও খেলাফতে ইনসানিয়াত বিপ্লবে শরিক থাকার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও সালাতু সালাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৯ বছর বয়সে হয়েছিলেন ফার্স্ট লেডি, এখন লড়ছেন পেরুর প্রেসিডেন্ট পদে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ পি.এম


১৯ বছর বয়সে হয়েছিলেন ফার্স্ট লেডি, এখন লড়ছেন পেরুর প্রেসিডেন্ট পদে

 

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে কেইকো ফুজিমোরি আবারো দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পদে পৌঁছানোর বিকল্পে দাঁড়িয়ে আছেন। ১৯ বছর বয়সে দেশের ফার্স্ট লেডি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেন কেইকো, এবং তিনি বর্তমানে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রোববার অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ৫১ বছর বয়সী কেইকো ফুজিমোরির প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী নেতা রবার্তো সানচেজ। সাম্প্রতিক কিছু জরিপে কেইকোকে সামান্য এগিয়ে রাখা হয়েছে। ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে পরপর তিনবার পরাজয়ের পর এবার তাঁর সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আয়োজিত সামিট অব দ্য আমেরিকাসে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে প্রথমবার আন্তর্জাতিক নজরে আসেন কেইকো। দুর্নীতির অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার পর, তাঁর মা সুসানা হিগুচি আলবার্তো ফুজিমোরি থেকে আলাদা হয়ে গেলে কেইকো ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখান থেকেই তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার শুরু।

বর্তমান নির্বাচনি প্রচারণায় কেইকো ফুজিমোরি আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে পেরুকে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। গত এক দশকে দেশটিতে আটজন প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের ঘটনা রাজনৈতিক সংকটকে আরো গভীর করেছে। দুর্নীতি, সংগঠিত অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতা এখন দেশের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচনি বিতর্কে কেইকো বলেন, "আমাদের প্রয়োজন শৃঙ্খলা বাঁচার জন্য শৃঙ্খলা, বিনিয়োগের জন্য শৃঙ্খলা, কাজের জন্য শৃঙ্খলা।" তিনি আরো বলেন, "এই নির্বাচন আমাকে নিয়ে নয়; আগামী পাঁচ বছরে দেশ কোন পথে যাবে, সেটি নির্ধারণের নির্বাচন।"

ফুজিমোরিবাদের উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত কেইকো ২০০০ সালে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে ‘ফুয়ের্সা পপুলার’ (পপুলার ফোর্স) দল প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রাজিলীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওদেব্রেখটের কাছ থেকে নির্বাচনি তহবিল গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি তদন্তের সময় তিনি ১৩ মাস কারাভোগ করেন। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আদালত তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি বাতিল ঘোষণা করে। কেইকোর দাবি, তিনি এক দশক ধরে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি ও তাঁর মেয়ে কেইকো ফুজিমোরি।

তবে এবারের প্রচারণায় তাঁর অবস্থান আগের তুলনায় অনেকটা সংযত। ২০২১ সালের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিয়োর বিরুদ্ধে প্রচারণায় অতিরিক্ত মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেইকো এবার নিজেকে আরো পরিমিত ও বাস্তববাদী নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে রয়েছে বাবার উত্তরাধিকার। আলবার্তো ফুজিমোরি ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সফল অভিযানের জন্য তিনি প্রশংসিত হলেও মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগে পরবর্তীতে দোষী সাব্যস্ত হন। ২০০৯ সালে তাঁকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এই উত্তরাধিকারকে সামনে রেখে কেইকোর বিরোধীরা এখনও তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলিয়ে যাচ্ছেন। ‘কেইকো নো ভা’ (কেইকো জিতবে না) স্লোগানে সম্প্রতি রাজধানী লিমায় বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে আগের মতো তীব্র ‘অ্যান্টি-ফুজিমোরি’ মনোভাব আর নেই।

পেরুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও দুর্নীতির কারণে ভোটারদের একটি 큰 অংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন। বাধ্যতামূলক ভোটের এই দেশে অনেকেই ‘কম ক্ষতিকর’ প্রার্থী বেছে নেওয়ার কথা বলছেন, আবার কেউ কেউ ভোট বাতিলের আহ্বান জানাচ্ছেন।

তবে কেইকোর সমর্থকদের বিশ্বাস, অতীতের অভিজ্ঞতা তাকে আরো পরিণত করেছে এবং এবার তিনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে সক্ষম হবেন।

তিন দশকেরও বেশি সময় আগে ফার্স্ট লেডি হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করা কেইকো ফুজিমোরি, যদি সফল হন তবে গত এক দশকে পেরুর নবম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস গড়বেন।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%