ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন ১ নভেম্বর থেকে শুরু


ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন ১ নভেম্বর থেকে শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫৪তম সমাবর্তন আগামী ২৬ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের (এসপিএফ) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. আতসুশি সুনামি। তাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’জ ডিগ্রি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ট্রাস্ট ফান্ডের অন্যতম দাতা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হারুনুর রশিদকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি দেওয়া হবে।

রোববার (১১ অক্টোবর) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একটি সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

৫৪তম সমাবর্তন সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, আজ অফিস খোলা

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশের পর সিন্ডিকেটের এক সভায় দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।

সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন কার্যক্রম আগামী ১ নভেম্বর শুরু হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলে উত্তীর্ণ গ্র্যাজুয়েট ও পদকপ্রাপ্তরা এই সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে সভায় একটি নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং কয়েকটি উপকমিটি গঠন করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সমাবর্তন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি উপকমিটিগুলোকে দ্রুত কাজ শুরু করার আহ্বান জানান।

সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সিনেট সদস্য ও সংসদ সদস্য মো. আমানউল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন এবং এ কে এম ফজলুল হক মিলনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: জবিতে এবার খেলাফত ছাত্র মজলিসের গরুভোজের ঘোষণা, থাকছে কাওয়ালি

উপাচার্য শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতির অস্তিত্ব বিলুপ্তির ঝুঁকি, সতর্ক দ্য ল্যানসেট কমিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ পি.এম


২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতির অস্তিত্ব বিলুপ্তির ঝুঁকি, সতর্ক দ্য ল্যানসেট কমিশন

পারমাণবিক যুদ্ধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষতিকর ব্যবহার একুশ শতকের শেষ নাগাদ মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য চরম হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে দ্য ল্যানসেট কমিশন অন টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি গ্লোবাল থ্রেটস টু হেলথ। কমিশনের নতুন মূল্যায়নে ২০২৫ থেকে ২১০০ সাল পর্যন্ত মানবস্বাস্থ্য ও টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক ১৭টি বৈশ্বিক হুমকি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পারমাণবিক সংঘাত ও এআইয়ের অপব্যবহারকে এমন দুটি ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোর চরম পরিণতি মানবজাতির বিলুপ্তি পর্যন্ত গড়াতে পারে।

কমিশনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পারমাণবিক সংঘাত ও এআইয়ের ক্ষতিকর ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম হলেও এর সম্ভাব্য পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। তাই বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে আগেভাগে ঝুঁকি কমানো, প্রস্তুতি নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পারমাণবিক যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে। পারমাণবিক যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি শুধু বিস্ফোরণস্থলের প্রাণহানি ও অবকাঠামো ধ্বংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ব্যাপক পারমাণবিক সংঘাতের ফলে বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া ও কণিকা ছড়িয়ে সূর্যালোক বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা কমে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়া এবং ব্যাপক দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি ‘পারমাণবিক শীত’ নামে পরিচিত।

এর প্রভাব যুদ্ধরত দেশগুলোর সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। খাদ্য উৎপাদন হ্রাস, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, স্বাস্থ্যসেবার সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা একে অন্যকে আরো তীব্র করে তুলতে পারে। কমিশনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, পারমাণবিক সংঘাত প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ২১০০ সালের মধ্যে আনুমানিক ১৩ কোটি ৩০ লাখ মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে অসুস্থতা, প্রতিবন্ধিতা ও অকালমৃত্যুর কারণে হারিয়ে যাওয়া সুস্থ জীবনের বিপুল সময়ও রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। এ সংখ্যাগুলো মডেলভিত্তিক অনুমান, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ফলাফল নয়।

এআইয়ের অপব্যবহারে নতুন ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা ও উৎপাদনব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু প্রযুক্তিটির ক্ষতিকর ব্যবহার মানবজাতির জন্য নতুন ধরনের বিপদ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিশন। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, এআইয়ের সহায়তায় বিপজ্জনক জীবাণু বা জৈব অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের সম্ভাবনা। এ ধরনের প্রযুক্তি ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়া এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া মহামারির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় এআইনির্ভর ব্যবস্থার ব্যর্থতা, নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সংকটের সময় স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশঙ্কাও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে এআইয়ের সব ব্যবহারকে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। যথাযথ নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে এ প্রযুক্তি রোগ শনাক্তকরণ, ওষুধ উদ্ভাবন, দুর্যোগের পূর্বাভাস এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। মূল চ্যালেঞ্জ হলো, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এর অপব্যবহার প্রতিরোধে কার্যকর নিয়মকানুন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা। কমিশনের হিসাবে, এআইয়ের ক্ষতিকর ব্যবহার কমানোর কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে ২১০০ সালের মধ্যে আনুমানিক ১০৪০ কোটি DALYs-এর ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে। এ সংখ্যাটিও একটি মডেলভিত্তিক হিসাব, নিশ্চিতভাবে এ পরিমাণ ক্ষতি ঘটবে—এমন পূর্বাভাস নয়।

১৭টি বড় হুমকি চিহ্নিত

কমিশনের মূল্যায়নে পারমাণবিক সংঘাত ও এআইয়ের ক্ষতিকর ব্যবহারের পাশাপাশি আরও ১৫টি বড় হুমকি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো— ১. বায়ুদূষণ ২. অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি ৩. শিশুদের অপুষ্টি ৪. জলবায়ু পরিবর্তন ৫. প্রচলিত যুদ্ধ ও সংঘাত ৬. স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা হ্রাস ৭. অতিরিক্ত মদ্যপান ৮. উচ্চ রক্তচাপ ৯. আয়বৈষম্য ১০. শিক্ষাগত অর্জনের নিম্নমান ১১. প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট মহামারি ১২. স্থূলতা ১৩. মানসিক স্বাস্থ্যসংকট ১৪. ধূমপান ১৫. অস্বাস্থ্যকর বার্ধক্য। কমিশনের মতে, এসব হুমকি শুধু স্বাস্থ্যক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনে বিপুল সুস্থ জীবনবর্ষ হারানোর আশঙ্কা। জলবায়ু পরিবর্তনকে কমিশন এমন একটি সংকট হিসেবে বিবেচনা করেছে, যা সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি অন্যান্য বিপদের প্রভাবও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাপপ্রবাহ, বন্যা, দাবানল, পানির সংকট ও কৃষি উৎপাদন হ্রাস খাদ্যনিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে। কমিশনের মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পরিবর্তে ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা গেলে ২১০০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৮৯ কোটি সুস্থ জীবনবর্ষের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে। এ হিসাবের মধ্যে তীব্র তাপ ও বায়ুদূষণের মতো পরিমাপযোগ্য প্রত্যক্ষ প্রভাব গুরুত্ব পেয়েছে। বাস্তুচ্যুতি, খরা ও মানসিক স্বাস্থ্যের মতো আরো কিছু প্রভাবের পূর্ণ হিসাব এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

এখানে ‘সুস্থ জীবনবর্ষ’ বলতে মৃত্যুর সংখ্যা বোঝায় না। অসুস্থতা, প্রতিবন্ধিতা ও অকালমৃত্যুর কারণে মানুষের যে পরিমাণ সুস্থ জীবন হারিয়ে যায়, তার সম্মিলিত পরিমাপকে DALYs বা ‘ডিজঅ্যাবিলিটি-অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ার্স’ বলা হয়।

স্বাস্থ্যসহায়তা কমলে চাপে পড়বে দরিদ্র দেশগুলো। স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়াকেও বড় বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন। দরিদ্র ও স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত সক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলো টিকাদান, মাতৃ ও শিশুসেবা, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসহায়তা ব্যাপকভাবে কমে গেলে বা ভেঙে পড়লে ২১০০ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি DALYs-এর ক্ষতি হতে পারে বলে কমিশনের মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর প্রায় ৭০ শতাংশ সাব-সাহারান আফ্রিকায় ঘটতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির হিসাব; নিশ্চিত ক্ষয়ক্ষতির পূর্বাভাস নয়।

স্বাস্থ্যসহায়তা হ্রাসের প্রভাব অপুষ্টি, সংক্রামক রোগ, চিকিৎসাসেবায় অসম প্রবেশাধিকার এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে আরও তীব্র হতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

সংকটগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত

কমিশনের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ১৭টি হুমকিকে বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে দেখলে কার্যকর সমাধান পাওয়া কঠিন। যুদ্ধ খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করতে পারে; জলবায়ু পরিবর্তন অপুষ্টি ও বাস্তুচ্যুতি বাড়াতে পারে; আবার মহামারি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এ কারণে কমিশন তিনটি প্রধান করণীয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে: সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যুগান্তকারী প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন ঝুঁকি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা শক্তিশালী করা।

মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বর্তমান সিদ্ধান্তের ওপর। কমিশনের মূল্যায়ন মানবজাতির বিলুপ্তি সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। বরং এটি সম্ভাব্য বিপর্যয়ের ঝুঁকি, তার প্রভাব এবং প্রতিরোধের সুযোগ সম্পর্কে একটি বৈশ্বিক মূল্যায়ন। পারমাণবিক সংঘাত ও এআইয়ের অপব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও সম্ভাব্য পরিণতির ব্যাপকতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ, এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মহামারির প্রস্তুতি, পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিনিয়োগ—এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভবিষ্যৎ ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। মানবজাতির সামনে তাই প্রশ্নটি শুধু ২১০০ সালে কী ঘটতে পারে, তা নয়; বরং বর্তমান প্রজন্মের রাষ্ট্রনেতা, নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য ল্যানসেট কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুবশক্তির ৫ দফা দাবিতে মতিঝিলে বিক্ষোভ, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ পি.এম


যুবশক্তির ৫ দফা দাবিতে মতিঝিলে বিক্ষোভ, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ঘেরাও করেছে যুবশক্তির নেতাকর্মীরা।

রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে এই দাবি জানায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি।

আন্দোলনকারীদের পাঁচটি দাবির মধ্যে রয়েছে—যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করা, নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা, ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি এবং ভাইভার নম্বর নিয়ে কারসাজি বন্ধ করা, এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা।

যুবশক্তির নেতাকর্মীরা তাদের দাবির সমর্থনে ‘প্রশ্নফাঁস বন্ধ করো, মেধার অধিকার নিশ্চিত করো’ স্লোগান দেন। সংগঠনটি দাবি করেছে, দাবিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরে বেলা পৌনে ১টার দিকে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে তারা ঘেরাও কর্মসূচি শেষ করেন।

জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. তরিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন, শনিবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রমাণ করে যে, বর্তমান সরকার কিংবা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যুবকদের নিয়ে চিন্তা করছে না। বরং তারা নিয়োগ বাণিজ্য করছে। এত বড় একটি ঘটনার পরও যুব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ব্যর্থতার জন্য তার পদত্যাগসহ নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমেরিকা প্রবাসী নিখোঁজ হারুনুর রশিদের সন্ধান চেয়ে ঢাকায় পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


আমেরিকা প্রবাসী নিখোঁজ হারুনুর রশিদের সন্ধান চেয়ে ঢাকায় পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের সন্ধান চেয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে।

সংবাদ সম্মেলনে হারুনুর রশিদের বড় মেয়ে রিতা আক্তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় তার মা শরিফা খানম, আবুল হোসেন ভূঁইয়া, মাওলানা ফিরোজ আশরাফী, মো. মঈন খান, ফয়জুল ইসলাম রিফাত, আবদুল্লাহ আল মামুন, এডভোকেট এমদাদ হোসেন, মো. কামরুল ইসলাম ও সোহেল মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন মাবকল্যাণ সংস্থার সভাপতি প্রিন্সিপাল শফিউল্লাহ মিয়া।

লিখিত বক্তব্যে রিতা আক্তার জানান, "আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সাথে জানাচ্ছি, আমাদের পরিবারের একমাত্র অভিভাবক আমার বাবা আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের অপেক্ষায় আছি। দীর্ঘদিন ধরে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে আমরা চরম মানসিক যন্ত্রণা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা আমাদের বাবার সন্ধান চাই। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, দয়া করে আমার বাবাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন। আমার বাবা কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত নন, তিনি একজন আমেরিকা প্রবাসী। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিলে আমরা আমাদের বাবাকে ফিরে পাবো। বিমানবন্দর থানার সিসিটিভির ফুটেজ ধরে অগ্রসর হলে তার সন্ধান অনেক সহজ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।"

তিনি আরও জানান, "২০১৫ সাল থেকে আমরা সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছি। পারিবারিক প্রয়োজন, ছুটি এবং ব্যক্তিগত কাজের কারণে আমরা নিয়মিত বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করি। গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আমার বাবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টায় এসে পৌঁছান। সে সময় আমার মা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। আমি আগে থেকেই ঢাকায় আমাদের ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলাম। বাবা দেশে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই তিনি ঢাকার বাসায় কিংবা গ্রামের বাড়িতে যাবেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি ঢাকার বাসায় কিংবা গ্রামের বাড়িতেও পৌঁছাননি। তাঁর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ পরিস্থিতিতে আমার মা গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে আসেন এবং দেশে ফিরে তিনিও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা বাবার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না পেয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।"

জিডির সূত্র ধরে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে বাবার বিমানবন্দরে অবতরণ, ইমিগ্রেশন কার্যক্রম এবং বাইরে বের হওয়ার দৃশ্য সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। ফুটেজে বিমানবন্দর থেকে বাবাকে গ্রহণ করতে আসা কয়েকজন ব্যক্তিকেও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন চাইলে প্রাপ্ত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত বিশ্লেষণ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডে মো. সাগর, শাহিদা আক্তার স্বাথী ও রুসি আক্তারের যোগাযোগের বিষয়টি ধরে অগ্রসর হলে, ১০ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার কলাবাগান ও ধানমন্ডি এলাকায় শাহ আলমের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানাচ্ছি।

আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে কয়েকটি দাবি জানাচ্ছি। ১. নিখোঁজ হারুনুর রশিদের সন্ধানে অবিলম্বে কার্যকর ও সমন্বিত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা। ২. বিমানবন্দর থানায় করা সাধারণ ডায়েরিটি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা। ৩. বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত তথ্য, প্রাসঙ্গিক মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করলে আসামিদের গ্রেপ্তার করা সহজ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেন্টাগনের হিসাব: ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহতের সংখ্যা ২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


পেন্টাগনের হিসাব: ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহতের সংখ্যা ২১

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন সামরিক সদস্যদের মৃত্যুর সংখ্যা সংশোধন করে ২১-এ উন্নীত করেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধে আহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬৫ জনে। ৯ অক্টোবর পেন্টাগনের প্রকাশ্য হতাহত-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার হালনাগাদ হওয়ার পর ১০ অক্টোবর এই তথ্য প্রকাশিত হয়।

সংশোধিত হিসাবের মধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন দুজন সামরিক সদস্য, যাদের মৃত্যু সরাসরি যুদ্ধের আঘাতে হয়নি। তাদের একজন হলেন নিউইয়র্ক আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের মেজর সরফ্লাই ডেভিয়াস, যিনি গত ৬ মার্চ কুয়েতে দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থায় মারা যান। অন্যজন হলেন নৌবাহিনীর একজন তালিকাভুক্ত সদস্য, যার মৃত্যু সেপ্টেম্বর মাসে আত্মহত্যাজনিত। তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

আগে কেন বাদ পড়েছিল মৃত্যুর তথ্য?

পেন্টাগনের হতাহত-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যভান্ডারের নাম ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম (ডিসিএএস)। এই ব্যবস্থায় ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর হিসাব সংশোধনের পর মোট সংখ্যা ২১ হয়েছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট গত মাসে জানিয়েছিল, সরকারি তথ্যভান্ডারে যতজনের মৃত্যুর কথা প্রকাশ করা হচ্ছিল, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে বেশি হতে পারে। ছয়জন মার্কিন কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমটি এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সে সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। পরে পেন্টাগনের সরকারি হিসাব সংশোধন করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ অক্টোবরের হালনাগাদের আগে ডিসিএএসের তথ্য সর্বশেষ সংশোধন করা হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। ফলে নতুন করে যুক্ত হওয়া মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে সরকারি হিসাবের যথার্থতা ও হালনাগাদের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আহত ৮৬৫ জন, হিসাবেও পরিবর্তন

পেন্টাগনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট অভিযানে আহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা ৮৬৫। তবে যুদ্ধের সময় আহত ও নিহতদের হিসাব কীভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে, তা নিয়েও আগে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শুরুর দিকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ অবস্থায় পেন্টাগন পরবর্তী সময়ের কিছু হতাহতের ঘটনা আগের অভিযানের নামের অধীনে না রেখে ‘ওভারসিজ কনটিনজেন্সি অপারেশনস’ নামে পৃথক শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে।

এতে যুদ্ধের সামগ্রিক মানবিক মূল্য নিরূপণ করা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আইনপ্রণেতাদের জন্যও কঠিন হয়ে পড়ে। শ্রেণিবিন্যাসের এই পরিবর্তন সরকারি হিসাবের পূর্ণতা বোঝার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মোট মৃত্যু ২২, তবে একটি ঘটনা ইরান যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত নয়।

পেন্টাগন আরও একজন মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য স্বীকার করেছে। সার্জেন্ট ডেভিন এ. সিবেল মে মাসে ইরাকে একটি প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনায় মারা যান। তবে তাঁর মৃত্যু ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; সরকারি হিসাবে তাঁকে ইসলামিক স্টেটবিরোধী দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই মৃত্যুসহ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সদস্যের মোট মৃত্যুসংখ্যা ২২। তবে এ সংখ্যার মধ্যে ইরান যুদ্ধসংশ্লিষ্ট ২১ জনের পাশাপাশি পৃথক প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনায় নিহত ওই সেনাসদস্যও রয়েছেন। তাই যুদ্ধসংশ্লিষ্ট মৃত্যু এবং ওই সময়কালে অঞ্চলে ঘটে যাওয়া সব সামরিক মৃত্যুকে একই হিসাব হিসেবে দেখলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের সমালোচনা

হতাহতের হিসাব সংশোধনের পর প্রতিনিধি পরিষদের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির দুই শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ ও ক্রিসি হুলাহান সংশোধনকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বলেন, এত বড় ধরনের ভুল সংশোধনের জন্য কংগ্রেসকে হস্তক্ষেপ করতে হওয়া সামরিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিব্রতকর।

অন্যদিকে, পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামরিক সদস্যদের হতাহতের তথ্য স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে প্রকাশে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দপ্তরটি আরও জানিয়েছে, হিসাবের অনিষ্পন্ন ঘটনাগুলো পর্যালোচনার জন্য ‘পেন্ডিং অ্যাডজুডিকেশন’ নামে নতুন একটি শ্রেণি যুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যেসব মৃত্যুর ঘটনা বা শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলো আলাদাভাবে পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।

যুদ্ধের প্রকৃত মূল্য নিরূপণে স্বচ্ছতার গুরুত্ব।

যুদ্ধে হতাহতের হিসাব কেবল পরিসংখ্যান নয়; এটি সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা, তাঁদের পরিবারের অধিকার, সরকারি জবাবদিহি এবং যুদ্ধের সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। মৃত্যুর কারণ, আহতের সংখ্যা এবং বিভিন্ন অভিযানের অধীনে হতাহতের শ্রেণিবিন্যাসে অসংগতি থাকলে যুদ্ধের প্রকৃত মানবিক মূল্য নিরূপণ কঠিন হয়ে পড়ে।

ইরান যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সরকারি হিসাব সংশোধনের ঘটনা তাই শুধু সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয় নয়; বরং সামরিক হতাহতের তথ্য সংগ্রহ, শ্রেণিবিন্যাস ও প্রকাশের পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। পেন্টাগন হিসাব আরও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে নতুন তথ্য যুক্ত হলে সরকারি সংখ্যায় আবারও পরিবর্তন আসতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, টাস্ক অ্যান্ড পারপাস ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%