১২:০৩ পি.এম
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলার মাঝেই ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন ফিরিয়ে আনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। ৩৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের এই আহ্বানকে ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বরখাস্তের শিকার হওয়ার পর থেকে জেলেনস্কির নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ফেদোরভ বলেছেন, গণতন্ত্রকে রাশিয়ার হাতে জিম্মি করে রাখা যায় না। তিনি উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেন একটি স্বাধীন এবং ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে দেশটিতে সামরিক আইন জারি রয়েছে। তাই সংবিধান অনুযায়ী সকল ধরনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ১২৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রযুক্তিভিত্তিক সামরিক সংস্কারের জন্য পরিচিত ফেদোরভকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাস পর, গত জুলাইয়ে আচমকা বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মূলত সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কির সঙ্গে তীব্র মতবিরোধের কারণে পদত্যাগ করতে হন। এই ঘটনাটি ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভের জন্ম দেয়। এর পরেই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সেনাপ্রধান সিরস্কিকেও তার পদ থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হন।
ভিডিও বার্তায় ফেদোরভ তার ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিকল্পনার কোনো ইঙ্গিত না দিলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনে বর্তমানে শাসনব্যবস্থার একটি পদ্ধতিগত সংকট চলছে, তাই দেশটিকে পরিবর্তনের ভয় পাওয়া বন্ধ করতে হবে।
এছাড়া তিনি অভিযোগ তুলেছেন, প্রশাসনের ভেতরের দুর্নীতি ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাতে সরাসরি ক্ষতি সাধন করছে। ফেদোরভ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মাঝেও একটি আইনি, নিরাপদ এবং বাস্তবসম্মত ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ফেদোরভ বরখাস্ত হওয়ার পর জেলেনস্কি পেশাদার গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইয়েভজেনি খমারাকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তবে ফেদোরভকে সরকারের অন্যান্য পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, তিনি কেবল প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেই সরকারে ফিরতে চান। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময়ে ফেদোরভ ইউক্রেনীয় বাহিনীতে ড্রোন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিপ্লব আনেন।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
তিনি ‘আর্মি অফ ড্রোনস’ গঠন করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে উন্নত কর্মক্ষমতার জন্য সেনাদলগুলোকে বিশেষ পয়েন্ট ও ক্রেডিট দেওয়ার মতো ‘গেমফিকেশন’ পদ্ধতি চালু করেন। এ ছাড়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে রুশ বাহিনীকে স্পেসএক্সের ‘স্টারলিঙ্ক’ স্যাটেলাইট পরিষেবা ব্যবহারে বাধা দেন ফেদোরভ, যা রণক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রযাত্রায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি দেশটির রাজধানী মস্কোসহ বিভিন্ন তেলের শোধনাগারে প্রায় ৬০০টি ড্রোন হামলা পরিচালিত হয়েছে, যা মস্কো কর্তৃপক্ষের মতে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে মারাত্মক ড্রোন হামলা। এই হামলায় রাশিয়ার সাধারণ নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। যদিও সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে, তবুও মিত্রদেশ যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের প্রতি তাদের পূর্ণ সামরিক সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন