ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

কপ-১৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে পরিবেশমন্ত্রীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক


কপ-১৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে পরিবেশমন্ত্রীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

জাতিসংঘের মরুকরণ মোকাবিলা কনভেনশনের ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ-১৭)-এর সাইডলাইনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরে এসব বৈঠক হয়। বৈঠকে ভূমি অবক্ষয় ও খরা মোকাবিলা, জলবায়ু সহনশীলতা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য, শ্রম অভিবাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।  

আরও পড়ুন: হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের দাসত্ব করে না: মীর শাহে আলম

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমি অবক্ষয়ের মতো আন্তঃসীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা জরুরি। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সফল উদ্যোগ থেকেও বাংলাদেশ শিখতে আগ্রহী।

পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু আশা প্রকাশ করেন, কপ-১৭’র সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকের ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থার সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। পরিবেশ, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বও নতুন মাত্রা পাবে।

ভারতের সঙ্গে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা
ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শ্রী ভূপেনদার যাদবের সঙ্গে গত ২৪ আগস্ট বৈঠক করেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। এতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পানি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, খরা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ও আলোচনায় আসে। এছাড়া নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়। সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ, ভূমি-সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি এবং পরিবেশসম্মত জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয় আলোচনা হয়।

মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও শ্রমবাজার
মঙ্গোলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ.ই বাতসেতসেগ বাতমুনখেরর সঙ্গে গত ২৫ আগষ্ট মঙ্গলবার বৈঠক হয়। বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং উভয় দেশে দূতাবাস খোলার মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব শক্তিশালী করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ ও তৈরি পোশাক রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয় আলোচিত হয়।

আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা গোমেজের পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

এছাড়া মঙ্গোলিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নির্মাণ, সেবা ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের নিরাপদ ও নিয়মিত কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থা, দক্ষতার স্বীকৃতি এবং অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আইওএমের সঙ্গে জলবায়ু অভিবাসন
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে গত ২৬ আগস্ট বুধবার বৈঠক করেন পরিবেশমন্ত্রী। বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসনের আন্তঃসম্পর্ক, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। জলবায়ুজনিত মানব চলাচলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে এমওইউ প্রণয়নের আলোচনা
মঙ্গোলিয়ার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এইচ.ই সানদেগ উচির সেংদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। ভূমি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সক্ষমতা উন্নয়নকে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

মঙ্গোলিয়ার চারণভূমি ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ নিয়ন্ত্রণ ও খরা সহনশীলতার অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ। পাশাপাশি জলাভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল ও কমিউনিটিভিত্তিক বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ জানানো হয়। বৈঠকে জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, খরা পূর্বসতর্কীকরণ, বিশেষজ্ঞ বিনিময়, প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা ও পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন: ‘সারের ডিলারশিপ না, বিষের ডিলারশিপ দিন’ ছাত্রদল নেতার মন্তব্য ভাইরাল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ওয়াদা বাস্তবায়নে সব বাধা প্রতিহত করা হবে: জয়নুল আবদিন ফারুক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ওয়াদা বাস্তবায়নে সব বাধা প্রতিহত করা হবে: জয়নুল আবদিন ফারুক

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক বিরোধীদলীয় হুইপ ও নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি ওয়াদা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষকে একত্রিত করে কাজ করবেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই কাজে কোনো বাধা সহ্য করা হবে না।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সেনবাগ উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি আয়োজিত ‘মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “আমি স্বাধীনতার ঘোষক সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, আপসহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দল করি। বিএনপির আদর্শ ধারণ করেই আমি ছয়বার সংসদ সদস্য হয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “সেনবাগে অন্যায়কারীদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। যতদিন বেঁচে থাকব, অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাব।”

মাদ্রাসা শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ন্যায় ও নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। এতে সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ সমুন্নত থাকবে।

নিজ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার পথে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্ত্যক্তকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে তিনি সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মাদ্রাসা প্রধানদের কাছ থেকে উত্ত্যক্তকারীদের তালিকা নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা যারা ওই সময়ে জেল খেটেছি ও বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছি, তা আপনারা জানেন। ওই সময় মেগা প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। এর প্রভাব উন্নয়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে পড়েছে। এসব খাত সংস্কারে সরকারকে সময় দিতে হবে। ধৈর্য ধরলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন সেনবাগ উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওলানা আমিরুজ্জামান। সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইমাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে জয়নুল আবদিন ফারুক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের মধ্যে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুঃখপ্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


দুঃখপ্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় সংসদে গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হওয়া নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং কর্মসূচি প্রতিহতের হুমকির মুখে দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। তার দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন।

তার ভাষ্য, এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তবে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি; তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন।

হাসনাত বলেন, এর অর্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ সম্পর্কে ভুল বার্তা গেছে এবং তাদের ছোট করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নৌকাবাইচের প্রসঙ্গে নিজের তথ্যগত ভুল স্বীকার করে হাসনাত বলেন, সিলেটের জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন। এ ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এ জন্য দুঃখপ্রকাশ করছেন।

তবে তিনি বলেন, মূল ঘটনা কী ছিল এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে সংসদে বিস্তারিত কথা বলা উচিত ছিল। কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নের সময় সীমিত থাকায় বিস্তারিত বলার সুযোগ হয়নি।

পোস্টে হাসনাত আরও বলেন, তিনি ও তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং সব নীতি ও সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নিতে চান। তার মতে, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং কেউ কারও মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দেবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। এখানে মসজিদ, মন্দির, সংগীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব—সবই থাকবে। পাশাপাশি বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনারও সুযোগ থাকবে।

হাসনাতের ভাষ্য, যার যেটি পছন্দ, সে সেটিতে অংশ নেবে; আর যার পছন্দ নয়, সে সেখানে যাবে না। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বর্তমানে মানুষের সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। এর ফলে সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জুলাইয়ের আন্দোলনকে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবার আন্দোলন উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, এটি ছিল মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এবং সর্বজনীন সমাজ গড়ার আন্দোলন। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ পি.এম


চুয়াডাঙ্গায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার

চুয়াডাঙ্গায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় গ্রহণ করেছেন। এর আগে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার অভ্যন্তরীণ সকল রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ ছিল।

চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, পরিবহন শ্রমিকদের ওপর ইজিবাইক চালকদের হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধ করার দাবিতে বাস-মিনিবাস ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছিল। শনিবার সকাল থেকে ধর্মঘটটি চলমান ছিল। এই পরিস্থিতিতে দুপুরে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আগামী আট দিনের মধ্যে জেলার আঞ্চলিক মহাসড়কে ইজিবাইক চলাচলে শৃঙ্খলা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আবুল কালাম আজাদ আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক মহাসড়কে ইজিবাইক চালকরা যাত্রী পরিবহন করে আসছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় গত বৃহস্পতিবার ইজিবাইক চালকরা চুয়াডাঙ্গায় একটি বাসে হামলা চালায় এবং বাসের চালক ও হেলপারকে মারধর করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ ডেকে না আনার আহ্বান সমাজকল্যাণমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ পি.এম


বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ ডেকে না আনার আহ্বান সমাজকল্যাণমন্ত্রীর

বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ ডেকে না আনার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে হিলির পাউশগাড়া স্কুল মাঠে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অনেকে বিএনপিকে খুবই ছোট মনে করার চেষ্টা করেন। মনে করেন, ধাক্কা দিলেই বিএনপি চলে যাবে। অতীতে অনেকে এরকম কথা বলেছেন। কিন্তু যারা বলেছিলেন বিএনপিকে ১০ দিনও ক্ষমতায় থাকতে দেবেন না, তারা কিন্তু আজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, এখনও যারা দুঃস্বপ্ন দেখছেন, বিএনপিকে একটু নাড়া দিলেই, ইচ্ছা করলেই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে, তাদের বলি, বিএনপির শেকড় হচ্ছে জনগণের মাঝে। বিএনপি কখনো দেশ ছেড়ে যায় নাই, বিএনপি আত্মসমর্পণ করার দল না। বিএনপির নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জীবনে আত্মসমর্পণ করেন নাই, আপস করেন নাই। জনগণকে একলা ফেলে পালিয়ে যান নাই।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের দল, জনগণকে পাশে নিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার দল বিএনপি। বিএনপি জনগণের পক্ষে কথা বলার দল, গণতন্ত্র রক্ষার দল, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার দল, গণতন্ত্রকে অব্যাহত রাখার দলের নাম বিএনপি।

মন্ত্রী বলেন, যারা বিএনপিকে ভয় দেখান, চোখ রাঙানি দেখানোর চেষ্টা করেন, তাদের বলি, গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলুন। দয়া করে জনগণের কাছে আসুন। জনগণ যাদের দায়িত্ব দেবে, তারাই দায়িত্ব পালন করবে। অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ ডেকে আনবেন না। জনগণ সবাই সজাগ, জনগণ জানে এই জনদুর্ভোগের প্রতিরোধ কীভাবে করতে হয়। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%