বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:২১ এম
"গরুকে রক্ষা করার জন্য একজন মানুষকে হত্যা করা হিন্দু ধর্ম এবং অহিংসার স্পষ্ট লঙ্ঘন।" — মহাত্মা গান্ধীর এই ঐতিহাসিক উক্তি দিয়ে কলামিস্ট মণি শংকর আইয়ার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর ফ্রন্টলাইন ম্যাগাজিনে নিবন্ধটি শুরু করেছেন। নিবন্ধে ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের একটি ভয়াবহ সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর দুটি নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত রিপোর্ট অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।
প্রথম প্রতিবেদনটি জাফরুল-ইসলাম খান সংকলিত ৭৫০ পৃষ্ঠার একটি সুবৃহৎ প্রতিবেদন। এতে ২০১৪ সালের মে মাসে নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত এক দশকে ঘটে যাওয়া ১ হাজার ৭৪৩টি ‘মব লিঞ্চিং’ বা গণপিটুনির ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ ও সূত্র তুলে ধরা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, এই ১০ বছরের সময়ে গড়ে প্রতিবছর ১৭৪টি এবং প্রতি দুই দিনে অন্তত একটি করে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। তবে অপরাধীরা আইনি শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ফলে এই হার দিন দিন আরও বেড়েছে এবং শেষের দিকে তা প্রায় প্রতিদিন একটি করে গণপিটুনিতে গিয়ে ঠেকেছে।
ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গণপিটুনির সিংহভাগ ঘটনাই ঘটেছে উত্তর ভারতের গঙ্গা অববাহিকা ও পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে, যেখানে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত প্রবল। বিপরীতে, দক্ষিণ ভারতের অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে এই রেকর্ড তুলনামূলক অনেক কম।
দ্বিতীয় রিপোর্টটি বিশিষ্ট সমাজকর্মী হর্ষ মান্দারের লেখা ২৬০ পৃষ্ঠার বই—‘ইট স্টার্টেড উইথ ওয়ার্ডস’ (শুরুটা হয়েছিল শব্দ দিয়ে)। এতে তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে ‘নয়া ভারতে ঘৃণা ভাষণের (হেইট স্পিচ) মহামারি’ ছড়িয়ে পড়েছে। হর্ষ মান্দারের মতে, প্রথমে ‘শব্দ’ বা বক্তব্যের মাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে সেই উসকানিতে ঘটে যাওয়া সহিংসতাকে সঠিক বলে বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।
রাজনৈতিক হিন্দুত্বের প্রসারই এই সামাজিক ব্যাধির সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে, সংঘবদ্ধ দলগুলোকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালের ২ জুন পুনেতে মহসিন শেখ নামের এক তরুণকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র সেনা’-র কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করে। সেটিই ছিল এই ধারার সূচনা। পরবর্তীতে বিচার বিভাগীয় নানা জটিলতা ও জামিনের পর দীর্ঘ ৯ বছর পর সব আসামি খালাস পেয়ে যায়।
একইভাবে ২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশের দাদরির বিসাদা গ্রামে মোহাম্মদ আখলাককে ফ্রিজে গরুর মাংস রাখার গুজবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় তা গরুর মাংস প্রমাণিত না হলেও আখলাকের জীবন আর ফিরে আসেনি। এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অন্যতম অভিযুক্ত রবি সিসোদিয়া ২০১৬ সালে মারা গেলে তার কফিনে জাতীয় পতাকা জড়িয়ে সম্মান জানানো হয়েছিল এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় এক মন্ত্রী তার শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছিলেন। ১০ বছর পর সম্প্রতি রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং সমস্ত আসামিকে মুক্তি দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই সহিংসতার শিকার কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ই নয়; হিন্দু, দলিত, আদিবাসী, খ্রিস্টান ও শিখদের ওপরেও আক্রমণ চালানো হয়েছে। সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে নিহত ও আহত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক হিন্দু ধর্মের নাগরিকও রয়েছেন (৭৮৭ জন নিহত ও ৩২৭ জন আহত)। তবে আহতদের সংখ্যার বিচারে মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ (৬৩৪ জন আহত)।
এর একটি নিকৃষ্টতম উদাহরণ হলো রাজস্থানের উদয়পুরে কলাইয়ের কাজ করা হিন্দু দর্জি কানহাইয়া লাল তেলির নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ‘দাওয়াত-ই-ইসলামি’র দুই সদস্য একটি ১২ বছরের শিশুকে দিয়ে পুরো হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছিল। অপরাধ করে ছাড় পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি এবং শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘৃণা ভাষণ কিভাবে সমাজে নির্মমতাকে সাধারণ বিষয় বানিয়ে দিয়েছে, এই ঘটনা তারই সাক্ষ্য দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরু রক্ষার নামে যে নজরদারি বা ‘ভিজিল্যান্টিজম’ শুরু হয়েছিল, তা এখন যেকোনো তুচ্ছ ঘটনাতেই সহিংস রূপ নিচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বুলডোজার সংস্কৃতি, ভুয়া এনকাউন্টার এবং গণমাধ্যমের একাংশের পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন।
বর্তমানে শুধু গবাদিপশু পরিবহনই নয়, কেবল ‘মুসলিম চেহারার’ হওয়ার কারণেও অনেকে হামলার শিকার হচ্ছেন। দেশটিতে গণপিটুনিবিরোধী কঠোর আইনের অভাব এই অপরাধীদের আরো বেপরোয়া করে তুলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্টের করা দাবি যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে তেল ও জাহাজ চলাচল করছে, তা সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসি নৌবাহিনীর উপ-রাজনৈতিক কমান্ডার আলী মোহাম্মদী যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে তেলের বাজারের পরিস্থিতিকে তাদের দাবির মিথ্যাচারের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
আলী মোহাম্মদী ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে তেল ও জাহাজ চলাচল করে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না কেন? বিশ্ববাজার খুব ভালো করেই বোঝে যে মার্কিন দাবিগুলো বাস্তবে মিথ্যা।”
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি যে আইআরজিসি নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে, তা চ্যালেঞ্জ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আইআরজিসি নৌবাহিনী যদি ধ্বংসই হয়ে গিয়ে থাকে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী কেন হরমুজ প্রণালির দিকে না এসে ৬০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার (প্রায় ৩৭০ থেকে ৪৩৫ মাইল) নিরাপদে দূরে অবস্থান করছে?”
আলী মোহাম্মদী জোর দিয়ে জানান, পারস্য উপসাগর, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরের আকাশ ও জলসীমায় নৌযান চলাচলের ওপর আইআরজিসি নৌবাহিনীর পূর্ণ সামরিক নজরদারি এবং শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি চাকরিজীবীরা আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন। আগামী ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ছুটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) অফিস খোলা থাকবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুর্গাপূজার ছুটি ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত থাকবে। এর পরের দুই দিন, অর্থাৎ শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। তবে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) অফিস খোলা থাকবে। এছাড়া, ছুটি শুরুর আগের দুই দিন, রবি ও সোমবার এবং মঙ্গলবার (১৮ ও ১৯ অক্টোবর) ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে। এইভাবে, ছুটি নিলে মোট সাত দিন পাওয়া যাবে।
৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার ২৩তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে সাধারণ ছুটি থাকবে।
এছাড়া, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন সংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এদিন ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল শীতের আগমনী বার্তা জানিয়ে দিচ্ছে। ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটে ভোর থেকেই চারপাশ কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে। ফসলের মাঠ, গাছপালা এবং গ্রামীণ জনপদ কুয়াশার আবরণে আবছা ও মনোরম হয়ে উঠেছে।
কুয়াশার ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে উঁকি দিচ্ছে সকালের সূর্য। শিশিরভেজা সবুজ ফসলের মাঠে সূর্যের মৃদু আলো পড়ার ফলে প্রকৃতিতে স্নিগ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দূরের গাছপালা ও ঘরবাড়িও কুয়াশার কারণে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না।
ভোরে কাজে বের হওয়া মানুষের মধ্যেও শীতের হালকা আমেজ অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশায় ঢাকা মাঠ-ঘাট, শিশিরভেজা ফসল এবং নীরব গ্রামীণ পরিবেশ যেন জানান দিচ্ছে- শীতের আগমন আর বেশি দূরে নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের অন্যতম প্রাচীন ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার প্রিন্সিপাল, প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও আরবি ভাষাবিশেষজ্ঞ মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্ন ইলাইহি রজিউন। বুধবার (৮ অক্টোবর) ৯২ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।
দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসক ও গবেষক—বিভিন্ন ভূমিকায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই বরেণ্য আলেম।
নাদওয়াতুল উলামার পাশাপাশি, লখনৌর ইন্টিগ্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে একজন এবং প্রথম চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আরবি সাহিত্যে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।
১৯৩৪ সালে ভারতের মৌতে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভি। উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৫২ সালে লখনৌর দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন। প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ আলেমদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর সেখানেই শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে আরবি বিভাগের প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরবি ভাষা, সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। নাদওয়াতুল উলামা থেকে প্রকাশিত আরবি মাসিক ‘আল-বাসুল ইসলামি’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৭৯ সাল থেকে পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তা ছাড়া ‘আর-রায়িদ’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে দীর্ঘ সময় যুক্ত ছিলেন তিনি।
শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি। ২০১৩ সালে নিউ দিল্লির ইনস্টিটিউট অব অবজেক্টিভ স্টাডিজ তাকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। ২০১৯ সালে লখনৌর খাজা মইনুদ্দিন চিশতি ল্যাঙ্গুয়েজ ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি সম্মানসূচক ডকটর অব লেটার্স (ডি. লিট) ডিগ্রি লাভ করেন।
ভারতে বসবাসকারী মুসলমানদের ধর্মীয় আইন নিয়ে কাজ করা প্রাচীনত সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন ছিলেন সাঈদুর রহমান আজমি নদভি। তিনি এই সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।
মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমী নাদভী ছিলেন একজন বহুমাত্রিক লেখক। আরবি ও উর্দু ভাষায় তিনি বহু গ্রন্থ ও গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে— আরবি শব্দরূপতত্ত্ব বা সরফ বিষয়ে লেখা ‘ইলমুত তাসরিফ’, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ নিয়ে গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘উসওয়ায়ে হাসানা কে আইনে মে’, ইসলামী সংস্কৃতি ও নাদওয়াতুল উলামার অবদান নিয়ে লেখা গ্রন্থ ‘ইসলামী সাকাফাত আওর নাদওয়াতুল উলামা’, ইসলাম ও পাশ্চাত্য নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ ‘ইসলাম আওর মাগরিব’ এবং জীবনীমূলক স্মারকগ্রন্থ ‘তাজকেরা মাওলানা হাকিম আজিজুর রহমান আজমী’।
জ্ঞানচর্চা, ইসলামী শিক্ষা, আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং সাংবাদিকতায় দীর্ঘ কর্মজীবনে মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভি যে অবদান রেখে গেছেন, তা ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামী বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ