০১:১২ পি.এম
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম নামক এক যুবককে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকা নাইমা জাহান এর বিরুদ্ধে। সোমবার (২৯ জুন) ভোরের দিকে পৌর এলাকার লক্ষ্মীপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় নাইমাসহ আরও দুজনকে পুলিশ আটক করেছে। নিহত সিয়াম ওই গ্রামের হাজী এনামুল হকের বড় ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রেমিকা নাইমা জাহান এবং নিহতের বন্ধু আরিয়ান খান মাহিদকে আটক করতে সক্ষম হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আরিফ হোছাইন।
স্থানীয় সূত্রে এবং অভিযুক্ত নাইমা জাহান জানিয়েছেন, মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সিয়ামের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা কয়েকবার ঢাকায় আবাসিক হোটেলে রাত্রীযাপন করেছেন। তবে সম্প্রতি সিয়াম নাইমার তিন মাসের গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করে দেয়। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি টালবাহানা করতে থাকেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
এর মধ্যেই সিয়াম তাকে ২০ হাজার টাকা এনে লক্ষ্মীপুর গ্রামে আসার জন্য চাপ দেন। কিন্তু টাকা জোগাড় করতে অক্ষম হলে নাইমা রবিবার (২৮ জুন) রাতে লক্ষ্মীপুরে সিয়ামের পুরনো বাড়িতে আসেন। সেখানে একটি কক্ষে সিয়াম, নাইমা এবং সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান একত্রে রাত্রীযাপন করেন।
আজ ভোরে সিয়াম নাইমাকে বাসা থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নাইমা ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে আঘাত করেন। এ সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু আরিয়ান। সিয়ামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে নাইমা ও আরিয়ানকে আটক করেন এবং পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং দুজনকে থানায় নিয়ে যায়।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপপরিদর্শক সামছুল আরেফিন বলেন, ‘নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে।’ চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আরিফ হোছাইন জানালেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত নাইমা জাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে সেলুনে ঢুকে নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী অভিযুক্ত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন