০৮:৪৮ এম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচন আয়োজনে ব্যালট বাক্স, প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার তৈরি রয়েছে। ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে নির্বাচন আয়োজনের বাজেট কিছুটা কমানো যায় কি না, তা নিয়েও চিন্তা করছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।
ইসির স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ক এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এ আলোচনা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রবিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ বৈঠকে অংশগ্রহণকারী চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-কানুন এবং আচরণবিধির খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসময়, প্রণয়নের অপেক্ষায় থাকা আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করতে রাজনৈতিক দলসহ অংশিজনদের মতামত পাওয়ার জন্য ১৫ দিনের মতো সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকারের পৃথক পাঁচ ধরনের নির্বাচনের জন্য খসড়া আচরণ বিধিমালা ইসির ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি
জানানো হয়, ৩০ জুনের মধ্যে এসব বিষয়ে মতামত দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আলাদা চিঠিও পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার ফলে ভোটকেন্দ্র এবং কক্ষের সংখ্যা বাড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দায়িত্ব প্রাপ্তির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সবকিছুই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি হিসেবে ভোটার তালিকা, নির্বাচনী সরঞ্জাম এবং অন্যান্য পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
বৈঠকের শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে অক্টোবরকে লক্ষ্য হিসেবে নেওয়া হয়েছে। অক্টোবরে হলে এর ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। মূলত আমরা অক্টোবর ধরে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বৈঠকের আলোচনার বিষয়গুলো বলেন, সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত হয়েছে এবং ৪ হাজার ৫০০ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কোনটা আগে বা কোনটা পরে হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র প্রস্তুত আছে কি না সেটিও জানানো হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।
সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পর্কে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত নির্বাচনের তুলনায় কিছু ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের পরপর এই স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে আমাদের ব্যালট বাক্স প্রস্তুত আছে। প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার নিয়োগের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে নতুন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। এ বিষয়েও আমরা প্রাথমিক আলোচনা করেছি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এবারের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো হবে নির্দলীয়, অর্থাৎ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার থাকবে না। তবুও আমরা মনে করি, যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে, তাই ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় হোক, নির্দলীয় নির্বাচনে তারা ইনভলভ থাকবেই। এই কারণেই তাদের কাছে মতামত জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অংশীজনদের মতামত পাওয়ার পর সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়ে থাকে। এ সময়ে আমরা তা করতে সক্ষম হব। আইন-কানুন দেখা হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাংবাদিকসহ সবাই মন্তব্য দিতে পারবেন বলে জানান এ নির্বাচন কমিশনার।
আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন