কাঠালিয়া সংবাদদাতা ফাতিমা আক্তার মিম
০২:৫৪ পি.এম
আসন্ন ৪নং কাঠালিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমুয়া ও কাঠালিয়ার স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা। "মাটি ও মানুষের জন্য পথচলা—সেবা, স্বচ্ছতা, উন্নয়ন" এই অঙ্গীকার নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ মোঃ আনোয়ার হোসাইন সাগর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী (বিএ অনার্স, এমএ) মোঃ আনোয়ার হোসাইন সাগর এলাকার সুশিক্ষিত, তরুণ ও সুপরিচিত মুখ। তিনি কাঠালিয়া উপজেলা বিএনপি-র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং প্রাক্তন সভাপতি, ঢাকাস্থ কাঠালিয়া উপজেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। এছাড়া তিনি হযরত আব্দুল জব্বার মিয়াজী (রহ.) ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করছেন।
পারিবারিক সূত্রেও তিনি এলাকায় সমাদৃত। তিনি চিংড়াখালী সিনিয়র মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এবং মিয়াজী দরবার শরীফের সাবেক সভাপতি মরহুম হাফেজ মোঃ মাইনউদ্দিন (রহ.)-এর সুযোগ্য সন্তান।
নির্বাচনী মতবিনিময় ও প্রচারণায় মোঃ আনোয়ার হোসাইন সাগর বলেন, "কাঠালিয়া সদর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও সেবামূলক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। এলাকার অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।"
তিনি কাঠালিয়া সদর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন। এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষার আলোকপ্রাপ্ত ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারের এই সন্তান চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার শেরপুরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার চার দিন পর পুলিশ আঁখি মনি (১৬) নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত রিয়াদ হোসেনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) উপজেলার চকপোতা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে রিয়াদ হোসেনের বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আঁখি মনি শেরপুর মজিবর রহমান মজনু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগের ভিত্তিতে, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে চকপোতা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেন (২০) দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ছাত্রীর পরিবার বিষয়টি রিয়াদের পরিবারকে জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়, যা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে আঁখি মনি বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বের হন। চকপোতা গ্রামের জামাদারের দোকানের সামনে পৌঁছালে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা রিয়াদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে মেয়ে বিদ্যালয়ে কিংবা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে শনিবার রাতে ছাত্রীর মা শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন, চকপোতা গ্রামের রিয়াদ হোসেন (২০), তার মা ফরিদা বেগম (৪০), একই এলাকার হাফিজার রহমান (৫৫), রিয়াদের ভাই জিহাদ হোসেন (২৫) এবং কহিনুর বেগম ওরফে জেসমিন (৪০)।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রিয়াদ হোসেনের বাড়ি থেকে আঁখি মনিকে উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, বাদীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নির্মাতা সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও আর নেই। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় কিছুদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই বর্ষীয়ান নির্মাতা। তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
১৯৩১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের গুডুরে তার জন্ম। ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি তেলুগু, তামিল, কন্নড়, মালয়ালম ও হিন্দি ভাষার একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। প্রচলিত গল্প বলার ধরন থেকে বেরিয়ে এসে নতুন ভাবনা, ভিন্নধর্মী নির্মাণশৈলী এবং বিভিন্ন ঘরানার পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমায় তিনি একটি আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন।
চলচ্চিত্রে তার পথচলা শুরু হয়েছিল নির্মাতা এলভি প্রসাদের সহকারী হিসেবে। ১৯৭২ সালে ‘নীতি নিজায়িতি’ সিনেমা দিয়ে তিনি পরিচালক হিসেবে অভিষেক করেন। এরপর একে একে বহু প্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তার সবচেয়ে আলোচিত কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘পুষ্পক বিমানম’।
১৯৮৭ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমায় কমল হাসান অভিনয় করেছেন এবং এতে কোনো সংলাপ ছাড়াই কালো হাস্যরসের গল্প বলা হয়েছিল। ব্যতিক্রমী নির্মাণের জন্য সিনেমাটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি অর্জন করে। নব্বইয়ের দশকেও চলচ্চিত্র নির্মাণের আগ্রহ হারাননি সিঙ্গীতম। তার সর্বশেষ সিনেমা ‘সিং গীতম’, যা নাগ অশ্বিন প্রযোজনা করেছেন। চলতি বছর সিনেমাটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। জুনিয়র এনটিআর তাকে সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা একজন দূরদর্শী নির্মাতা হিসেবে স্মরণ করেছেন।
চিরঞ্জীবী মন্তব্য করেছেন, "তার কল্পনা ও নতুন কিছু করার সাহস ভারতীয় সিনেমাকে দিয়েছে বহু স্মরণীয় চলচ্চিত্র।" ভেঙ্কটেশ দাগ্গুবতী, সুধীর বাবু, কিরণ আব্বাভারাম এবং সংগীত পরিচালক দেবী শ্রী প্রসাদও শোক জানিয়েছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার দিঘলিয়াতে মো. নাসিমুল গনি নামে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (জনযুদ্ধ) একজন নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় নাসিম বাড়ির সামনে চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ করে একটি মোটরসাইকেলে করে দুইজন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়। তারা দোকানে ঢুকে নাসিমকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, নিহত নাসিমের বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যাসল্টসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে। এছাড়া, প্রাথমিক পর্যালোচনায় তার পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (জনযুদ্ধ)-এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ৭০ মিটার গভীর একটি সরু কূপে পড়ে যাওয়া পাঁচ বছরের একটি শিশুকে দুই দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির নাম জাইনুল্লাহ এবং তাকে উদ্ধারে ১১ বছর বয়সী হাজরত ওমর বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।
জাইনুল্লাহ বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে একটি শুকিয়ে যাওয়া কূপে পড়ে যায়। কূপটির গভীরতা ছিল প্রায় ৭০ মিটার এবং এর ব্যাস মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার। কূপটি এতটাই সরু ছিল যে সেখানে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পক্ষে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না।
উদ্ধারকারীরা কূপের ভেতরে একটি ক্যামেরা নামিয়ে শিশুটির অবস্থান পর্যবেক্ষণ করেন। ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা যায়, জাইনুল্লাহ কূপের নিচে একটি কোণে বসে আছে। তার পায়ের কাছে পানি জমে ছিল এবং মাথার ওপর দিয়ে পানি ঝরছিল। ঠান্ডা ও ভয়ের কারণে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।
শিশুটিকে উদ্ধার করার জন্য প্রথমে দড়ি নামানো হয়। কিন্তু তার বয়স কম হওয়ায় দড়ির সঙ্গে কীভাবে নিজেকে বাঁধতে হবে, তা বুঝতে পারছিল না জাইনুল্লাহ। তিনজন শিশুকে কূপের ভেতরে নামানোর চেষ্টা করা হলেও, কূপটি এতটাই সরু ছিল যে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় তারা ওপরে উঠে আসতে বাধ্য হয়।
পরে উদ্ধারকারীরা ১১ বছর বয়সী হাজরত ওমরের সাহায্য নেন। জানা যায়, এর আগেও সে একই ধরনের উদ্ধার অভিযানে কূপের ভেতরে নেমেছিল। পরিবারের সম্মতি নিয়ে হাজরত এবারও কূপে নামতে রাজি হয়।
প্রথমবার দড়িতে বেঁধে নামানোর সময় কূপের ভেতরে তার কাঁধ ও উরু আটকে যায়। ব্যথা পাওয়ায় সে চিৎকার করলে উদ্ধারকারীরা তাকে ওপরে তুলে আনেন। পরে দ্বিতীয়বার চেষ্টা করে হাজরত কূপের তলদেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
হাজরত জাইনুল্লাহর কাছে পৌঁছে তাকে দড়ির সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়তা করে। ওপরে থাকা উদ্ধারকারীরা ধীরে ধীরে দড়ি টেনে প্রথমে হাজরতকে এবং পরে জাইনুল্লাহকে কূপ থেকে বের করে আনেন। এ সময় ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ অপেক্ষা করছিলেন।
আফগানিস্তানে পানির সংকটের কারণে কৃষিজমিতে বিপুলসংখ্যক গভীর ও সরু কূপ খনন করা হয়েছে। এসব কূপের অনেকগুলো পরে শুকিয়ে গেলেও সেগুলোর মুখ যথাযথভাবে বন্ধ করা হয়নি। ফলে সেগুলো শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
জাইনুল্লাহ যে কূপে পড়ে গিয়েছিল, সেটি দুই বছর আগে শুকিয়ে যায়। স্থানীয় কৃষকেরা কূপটির মুখ কাঠ ও মাটি দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। সময়ের সঙ্গে কাঠ পচে যায় এবং মাটি আলগা হয়ে যাওয়ার পর কূপটি আবার বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে। খেলতে গিয়ে সেখানেই পড়ে যায় শিশুটি।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানে পানির সন্ধানে এ ধরনের গভীর কূপ খননের সংখ্যা বাড়তে থাকায় শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ