০৬:৪২ পি.এম
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযানে রাজধানীর বনানীর একটি নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্টদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (২৬ জুন) বনানীর ১৮, ২১ ও ২৪ নম্বর সড়ক এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। অভিযান শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, টানা তিন দিনের অভিযানে বনানীর সরকারি কোয়ার্টার ও আশপাশের প্রায় ৫০ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন পরিচ্ছন্নতা ও লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘন্টায় ডিএমপি’তে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২১১১টি মামলা
অভিযান চলাকালে বনানীর ২৪ নম্বর সড়কের একটি নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হলে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলী দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২৬৯ ধারায় সংশ্লিষ্টদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযান শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে জরিমানা করা বা জেলে পাঠানো নয়; আমাদের উদ্দেশ্য মানুষের জীবন বাঁচানো এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা।’
তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর জন্য নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি নাগরিকদের বাড়ির ছাদ, আঙিনা, বেসমেন্ট, ফুলের টব, ডাবের খোসা, টায়ারসহ যেকোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমে না রাখতে এবং নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলারও অনুরোধ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ডিএনসিসির আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে নাগরিকরা বিনা মূল্যে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ট্যাবলেট সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া সরকারি কোয়ার্টারগুলোতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবকে নির্মাণাধীন ভবনে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ভূমি খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
অভিযানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আজিজুন নেছা, বনানী সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইরফান ইসলামসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন