ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গোপন তৎপরতায় জড়িত ঢাবির শিক্ষকদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন


গোপন তৎপরতায় জড়িত ঢাবির শিক্ষকদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর এ বিষয়ে খতিয়ে দেখে করণীয় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং আইন অনুষদের ডিন।

এই কমিটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিষয়ে সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে। ইতোমধ্যে কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: ইউপি নির্বাচনে বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ, দুজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের গোপন তৎপরতা-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

প্রতিবেদনটিতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে ওই শিক্ষকদের গোপন তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ জন শিক্ষকের গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার কথা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জন শিক্ষকের নাম ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে, এমনটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তীতে যদি আরও কোনো শিক্ষকের নাম শনাক্ত করা যায়, তবে কমিটি তাদের বিষয়েও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের একটি বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এই সভার আয়োজন করা হয় ধনবাড়ী উপজেলা কার্যালয়ে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সভাপতি ও চ্যানেল এস-এর ধনবাড়ী প্রতিনিধি কবি ইমাম হাসান সোহান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি এম. মাছুদुर রহমান মিলন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি ও আনন্দ টিভির টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি আল আমিন শোভন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক মো. ইউসুফ আলী।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা এলেঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ শিকদার, ঘাটাইল উপজেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সোহেল, ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মো. রমজান আলী, সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করা এবং সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

পরে দ্বিতীয় অধিবেশনে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর কবি ইমাম হাসান সোহানকে সভাপতি এবং রাকিব হাসানকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সাত সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের কার্যক্রমের বেগবান করার এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তালাশ বিডি ডটকমে সংবাদ প্রকাশ: স্ট্যান্ডরিলিজ আদেশের পরও বহাল তবিয়তে থাকা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারের খুটির জোর কোথায়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


তালাশ বিডি ডটকমে সংবাদ প্রকাশ: স্ট্যান্ডরিলিজ আদেশের পরও বহাল তবিয়তে থাকা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারের খুটির জোর কোথায়?

তালাশ বিডি ডটকমে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি বদলি আদেশের তোয়াক্কা না করে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে ক্ষমতার দাপটে কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার।

সরকারি খাসজমি ব্যক্তি নামে নামজারি (খারিজ), অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে জালিয়াতি, প্রকাশ্যে সরকারি সম্পদ মূল্যবান গাছ বিক্রি, ঘুষ দাবী ও নেওয়ার একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্যের অভিযোগে তালাশ বিডি ডটকমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি স্ট্যান্ডরিলিজ (তাৎক্ষণিক অবমুক্ত) আদেশের পরেও অফিস ত্যাগ না করে তিনি অনিয়মের রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয়রা বলছেন তাঁর খুটির জোর কোথায়? কে বা কারা তাঁকে সেল্টার দিচ্ছেন এ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দেদারসে অফিস করছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার।

জানা যায়, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুর বাজারের সরকারি খাসজমি (এসএ দাগ-৯১৯২, বিআরএস দাগ-২৭২৫৬) অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই মো. এনামুল হক নামে এক ব্যক্তির নামে নামজারির প্রস্তাব প্রেরণ করেন নাছিমা আক্তার, যা পরবর্তীতে অনুমোদিত হয়। এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে গত ১২ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
বাজারের পক্ষ থেকে দু'জনের স্বাক্ষরিত আবেদনে একমাত্র ইজারাকৃত লক্ষ্মীপুর বাজারের সরকারি খাসজমির নামজারি বাতিল করার জন্য ইউএনও'র হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্পন্ন হওয়া নামজারিটি অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবিও জানানো হয় ওই আবেদনে। এরপর তদন্ত সাপেক্ষে ওই খারিজ বাতিল করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার। তবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও খাসজমি দখলের চক্রান্তে জড়িত থাকা এই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কিংবা কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

শুধু খাসজমিই নয়, সাধারণ গ্রহীতাদের জমিও জালিয়াতির মাধ্যমে নামজারি (খারিজ) করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মো. বকুল মিয়ার অভিযোগ, সম্প্রতি তার ভাগের ৪ শতাংশ জমি নিজ নামে খারিজ করতে গেলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। তিনি ও তার ভাই জালাল মিয়া বিগত ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কুলিয়ারচর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ২৭৭৫ নং দলিল মূলে গোবরিয়া আব্দুল্লাপুর মৌজার ৮ শতাংশ জমি যৌথভাবে ক্রয় করেন। দলিল অনুযায়ী দুই ভাই সমহারে অর্থাৎ ৪ শতাংশ করে জমির মালিক হয়ে ভোগদখলে আছেন। কিন্তু অসাধু উপায়ে আর্থিক সুবিধা নিয়ে নাছিমা আক্তার পুরো ৮ শতাংশ জমিই জালাল মিয়ার ছেলেদের নামে খারিজ করে দেন। এতে নিজের ৪ শতাংশ জমির অধিকার হারিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বকুল মিয়া। এ নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী বকুল মিয়া জানান, "উক্ত কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে তার বৈধ জমি বিবাদীদের নামে খারিজ করে দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি তাঁর প্রাপ্য ৪ শতাংশ জমির নামজারি ফেরত পেতে প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।"

অপর দিকে, ২০০৯ সালের ২৯ মার্চ কুলিয়ারচর সাব-রেজিস্টার অফিস কর্তৃক ৮৮৯ নং দলিলমূলে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর মৌজার ৫৭০৫ নং খতিয়ানের ১৮০১ নং দাগের শ্রেণি কান্দা থেকে ৮ শতাংশ ভূমির মালিক ও দখলদার হন কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোবরিয়া গ্রামের মো. জালাল উদ্দিন ও মোছা. সুফিয়া খাতুন দম্পত্তির ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি ওই দলিল দাতা মো. হানিছ মিঞার নিকট থেকে একই দলিলে ৩৬৪৫, ৩৬৪৭ ও ১৩৭৮ নং (খতিয়ান নং ৫৭০৫/১৫৪) দাগ থেকে আরো ৮ শতাংশ জমির মালিক ও দখলদার হন।

বিগত ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই মো. সাইফুল ইসলাম ১৮০১ দাগে ক্রয়কৃত ৮ শতাংশ ভূমি খারিজের জন্য আবেদন করেন। তৎকালীন গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বিগত ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট নামজারির প্রস্তাব পাঠান এবং একই সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসানের স্বাক্ষরে নামজারি (খারিজ) সম্পন্ন হয়। যাহার খতিয়ান নং ২৫-১৩৬৯০।

এ বিষয়টি অবগত হওয়ার পরও বর্তমান দ্বায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে ৪ মাসের ব্যবধানে একই দলিলের একই দাগে (১৮০১) প্রাপ্ত ৮ শতাংশ ভূমি মো. সাইফুল ইসলামের নামে নামজারি (খারিজ) প্রস্তাব পাঠান। যাহা চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসানের স্বাক্ষরে অনুমোদিত হয়। যাহার খতিয়ান নং ২০২৬-১০০০৬৭। এই নিয়ে একই দাগে দুইবার নামজারি (খারিজ) করা হয় জমির মালিক মো. সাইফুল ইসলামের নামে। যাহ সম্পূর্ণ অবৈধ। কেননা মো. ছাইফুল ইসলাম ১৮০১ দাগে শুধু মাত্র ৮ শতাংশের ক্রয়কৃত মালিক। ১৮০১ দাগে ১৬ শতাংশের মালিক নয়।

অনিয়মের এখানেই শেষ নয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন সরকারি হালট ও রাস্তার পাশ থেকে প্রায় ২০-২৫টি মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠে নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকা। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে একটি অভিযোগ দাখিল করা হলেও অনুসন্ধানে জানা যায়, সেটি এজাহার বা এফআইআর হিসেবে নথিভুক্তই হয়নি।

পরবর্তীতে জুলাই মাসে পুনরায় দুই দফা গাছ কাটা হয়। যার ভিডিও প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নাছিমা আক্তার সুকৌশলে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে আবারও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় দায়সারা একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

ভূমি অফিসে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ২৩ জুলাই কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নাছিমা আক্তারকে তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর স্বাক্ষরিত আদেশে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ এবং অমান্য করলে তা ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ (Stand Release) হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি এখনও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মস্থল আঁকড়ে ধরে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

অপর দিকে গণমাধ্যমে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় এ প্রতিনিধিকে খুন করার জন্য সন্ত্রাসী ভাড়া করেন এই কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও তাঁর সহযোগীরা। সন্ত্রাসীরা এ প্রতিনিধিকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।

জানা যায়, সরকারি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় কিংবা মিডিয়াতে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত বা এককভাবে ওই সংবাদের প্রতিবাদ বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যায় না; এটি সরকারি নিয়ম ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এর ফলে মূলত সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিবিধান লঙ্ঘন হয়। দুর্নীতির খবরের প্রতিবাদ জানানো বা মিডিয়াতে কথা বলার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। এই ধরনের আচরণ শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা disciplinary action গ্রহণ করা হতে পারে।

এমন আইন থাকা সত্ত্বেও ওই কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই যৌথ স্বাক্ষরে গত ২৪ জুলাই জাতীয় দৈনিক রুপালী বাংলাদেশ ও গত ২৬ জুলাই সাপ্তাহিক সোনালী ধারা পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করিয়েছে। যা সরকারি নিয়ম ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে তিন দফা গাছ কাটার বিষয়ে থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অভিযোগে অপরাধীদের নাম কেন দেওয়া হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি নীরব থাকেন।

অভিযুক্ত অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিন বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। গাছ কাটার বিষয়ে কুলিয়ারচর থানায় দুটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।"

কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগপত্রে কারও নাম না থাকায় বাদীকে সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি। তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এদিকে প্রশাসনিক এই রহস্যজনক নীরবতা ও বদলীর আদেশের অমান্যতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্নীতিবাজ এই চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ভূমি কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার যোগদানের পর থেকেই সাধারণ মানুষকে খাজনা ও খারিজের নামে হয়রানি করে আসছেন। সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করে তিনি সরকারের স্বার্থ ও স্বায়ত্তশাসিত সম্পত্তি চরম ক্ষতির মুখে ফেলছেন।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, অচিরেই বদলীকৃত গোবরিয়া আব্দুল্লাহ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারকে রিলিজ দেয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনআইডির জন্মতারিখ ও নাম সংশোধনে নতুন সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


এনআইডির জন্মতারিখ ও নাম সংশোধনে নতুন সিদ্ধান্ত

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিষ্পত্তি করবেন, যা অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ সংক্রান্ত একটি নতুন পরিপত্র জারি করেছে।

এই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে জন্মতারিখ সংশোধনের বিষয়টি জানানো হয়। এখন থেকে, যেকোনো অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষা সনদের বিপরীতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্বারা নিষ্পত্তি হবে।

তবে, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধন এবং নিজের ও পিতা-মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের আবেদন নিষ্পত্তি করবেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি)। এক্ষেত্রে, জন্মতারিখ, নিজের নাম এবং পিতা-মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তন একবার সম্পন্ন হলে দ্বিতীয়বার তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এনআইডির তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের আবেদন মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে তা স্পষ্ট করা হলো এবং কোনগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি হবে তাও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতি পদে ইসিতে জমা পড়েছে ৩ মনোনয়নপত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


রাষ্ট্রপতি পদে ইসিতে জমা পড়েছে ৩ মনোনয়নপত্র

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা পড়েছে তিনটি মনোনয়নপত্র। এর মধ্যে আছে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি মনোনয়নপত্র এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের দুটি মনোনয়নপত্র।

বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্তা এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে এই মনোনয়নপত্রগুলো জমা দেওয়া হয়।

মনোনয়নপত্র জমার সময় বিকাল ৪টা পার হয়ে যাওয়ার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে একটি ব্রিফিংয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, “নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আমরা তিনটি মনোনয়নপত্র পেয়েছি। এর মধ্যে অলি আহমদের দুটি এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি মনোনয়নপত্র পেয়েছি।” রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলো দুইজন।

তিনি জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট নির্বাচন কর্তার কার্যালয় নির্বাচন ভবনে সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য সংসদ সচিবালয় থেকে একজন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে, আজ বেলা পৌনে ১২টায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীর একটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। বিকালে জমা দেওয়া হয় আরেকটি মনোনয়নপত্র। এই অবস্থায় অলি আহমদের দুটি মনোনয়নপত্র জমার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, “কেন তারা দুটি মনোনয়নপত্র জমা দিলেন, সেটা তারাই বলতে পারবেন।” তবে আইন অনুযায়ী, যাচাই-বাছাইয়ে প্রথমটা বৈধ হয়ে গেলে দ্বিতীয়টা বাছাইয়ের আর দরকার পড়বে না।

আগামী ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় রয়েছে। আর জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোট হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%