০৪:০৫ পি.এম
যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডে ছুরি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে, যিনি সুদানের নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভ মঙ্গলবার বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হামলাটিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেলফাস্টের বিভিন্ন এলাকায় মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে বাড়িঘর, একটি বাস, গাড়ি এবং ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, একাধিক বাড়ি আগুনে পুড়ছে এবং জরুরি সেবার যানবাহন ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়ে ঘটনাটি ঘটেছে নিউটাউন অ্যাবি ও কিলকিলের মতো আশপাশের এলাকাতেও গাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের কিছু শহরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক দুপুর ২টায় পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন
উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল প্রকাশ করেছেন, ‘মুখোশধারী একটি দল পরিবারগুলোকে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ছুরি হামলার ঘটনায় একটি ব্যক্তি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। হামলায় একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরপরই এলাকায় বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে।
সোমবার রাতে উত্তর বেলফাস্টে ঘটে যাওয়া ছুরি হামলার একটি ভিডিও একজন প্রত্যক্ষদর্শী ধারণ করেন এবং পরে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ও ভাইরাল হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি রক্তাক্ত আরেকজনকে মাটিতে চেপে ধরে একাধিকবার আক্রমণ করছে। পরে পথচারী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে এক্সে, অভিবাসনবিরোধী ও ডানপন্থী বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ভিডিওটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেছে এবং প্রতিবাদের আহ্বান করেছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন ডানপন্থী ব্যক্তিত্বসহ বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কও বিক্ষোভের আহ্বান ও বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করেছেন। বিতর্কিত আন্দোলনকারী টমি রবিনসন দেশব্যাপী সমাবেশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কেবল বারবার এবং জোরালোভাবে প্রতিবাদ করলেই পরিবর্তন সম্ভব।’
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা জানাল মিসর ও পাকিস্তান
উত্তর আয়ারল্যান্ডে ছুরি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা ও বিক্ষোভের ঘটনাকে বিদেশিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক সহিংসতা হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতারা।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, এই হামলাটি ছিল ‘জঘন্য ও অন্যায়’, তবে এই ঘটনাকে ব্যবহার করে নিরীহ মানুষদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, যে কোন ধরনের বর্ণবাদ, ভয়ভীতি ও সহিংসতা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও সোমবার রাতের ছুরি হামলাকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘জঘন্য’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেন, দেশের রাস্তায় এমন সহিংসতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
এদিকে ব্যাংগর, গ্লাসগো ও লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরেও ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে কট্টর ডানপন্থী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের মুখোমুখি হয় এবং অভিবাসনবিরোধী স্লোগান দেয়।
আরও পড়ুন: আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন
বেলফাস্টের আইনপ্রণেতা ক্লেয়ার হানা বিবিসির নিউজনাইটকে জানান, কিছু অনলাইন কার্যক্রম ও রাজনৈতিক মন্তব্য এই ঘটনাকে উসকে দিয়ে বিভেদ ও সহিংসতা বাড়াচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ গায়ের রঙের ভিত্তিতে বিদেশিদের লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে।
অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ড জুড়ে পরিস্থিতি এখনো অস্থির এবং কিছু স্থানে গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জনগণের প্রতি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছে।
পুলিশ সার্ভিস অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রায়ান হেন্ডারসন বলেন, জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে এবং সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
বেলফাস্টের ছুরি হামলা সম্পর্কিত পুলিশের জানানো তথ্যে বলা হয়েছে যে, সোমবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে বেলফাস্টের ক্যানার্ড এভিনিউয়ে ৪০-এর কোঠায় থাকা এক ব্যক্তি ছুরিকাহত হন।
আরও পড়ুন: ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন
পুলিশ সার্ভিস অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রায়ান হেন্ডারসন জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি রান্নাঘরের ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। হামলায় ভুক্তভোগীর চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং পিঠ ও মুখেও মারাত্মক জখম হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সুদানের নাগরিক বলে মনে করা এক ব্যক্তিকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যারিস থেকে ডাবলিনে এসে উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করেন এবং সেখানে পৌঁছে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তাকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
হেন্ডারসন বলেন, এই হামলার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক আছে, এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরো জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি উত্তর আয়ারল্যান্ডে বৈধভাবে বসবাস করছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পুলিশি হেফাজতে আছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, জনসমক্ষে ধারালো অস্ত্র বহন এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ৪৭.৪২% পরিবার ঋণের চাপের মধ্যে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন