শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৪৬ এম
মাদারীপুরের শিবচরে নামাজ শেষ করে বাজারে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন শহিদুল ইসলাম শহীদ নামের এক বিএনপি নেতা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিবচর পৌরসভার কলেজ মোড়ের ফার্নিচারপট্টি সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
শহিদুল ইসলাম ছিলেন শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বাঁশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নামাজ শেষে পায়ে হেঁটে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম শহীদ। এ সময় একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মোটরসাইকেলটি জব্দ করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, মোটরসাইকেল চালক পালিয়ে গেলেও মোটরসাইকেলটি জব্দ করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। মালয়েশিয়া ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এছাড়া, দেশটির কর্তৃপক্ষ ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে রাজি হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী সেখানে কাজ করছেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বৈদেশিক শ্রমবাজারগুলোকে পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) নামে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি, ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। মোট এজেন্সির সংখ্যা ৩৩৮।
মন্ত্রণালয় জানায়, তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেদের উদ্যোগে মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে এবং বাংলাদেশ থেকে কর্মী নির্বাচন করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
এছাড়া, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারে আরো উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ার সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেন এবং সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন।
মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়ার অনুমোদিত এজেন্সিগুলো চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ ও কর্মী নির্বাচন করবে। এরপর কলিং ভিসা, ই-ভিসাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বোয়েসেল এবং তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি সহায়তা করবে। মালয়েশিয়ায় নিয়োগের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
প্রতিটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে কর্মীদের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বোয়েসেল ও ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এ তালিকা চূড়ান্ত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশের।
মন্ত্রণালয় জানায়, শ্রমবাজার দ্রুত চালুর স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিক্যাল সেন্টার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধিদলের সরেজমিন পরিদর্শনের পর নতুন তালিকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।
মন্ত্রণালয় আরো জানায়, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিক্যাল সেন্টারগুলো বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যাচাই করবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করা হবে। পর্যায়ক্রমে নতুন মেডিক্যাল সেন্টার তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং সংশোধিত তালিকা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে আজ শুক্রবার শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। দেশের পূজামণ্ডপগুলো ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি এবং উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা ঘটে। এরপর থেকে দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তরা। রাজধানীসহ সারা দেশের মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বেশির ভাগ মণ্ডপে প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কিছু স্থানে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের ব্যবস্থা তৈরির কাজ।
আজ মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সকালে ষষ্ঠীপূজা এবং সন্ধ্যায় দেবী দুর্গার বোধন অনুষ্ঠিত হবে। বোধন অর্থ হচ্ছে জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্তি। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, শরৎকালের দুর্গাপূজায় দেবীর বোধন করা হয়। প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, রাবণবধের উদ্দেশ্যে ভগবান রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন। অসময়ে এই পূজা করা হয়েছিল বলে এটি অকালবোধন নামে পরিচিত। বসন্তকালের পূজায় বোধনের বিধান নেই।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবারের দেবী দুর্গা স্বর্গ থেকে ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন এবং নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন। প্রতিবছর পাঁচ দিন পূজা হলেও এবারে ছয় দিন হবে। তিথির কারণে মহাসপ্তমীর পূজা শনিবার ও রবিবার দুদিন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সোমবার মহা অষ্টমী, মঙ্গলবার মহানবমী এবং বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীদর্শন, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।
দুর্গাপূজার প্রস্তুতির মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও প্রতিমায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পূজার প্রস্তুতির পাশাপাশি এসংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও কাজল দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পূজার আগে দেশের ৩৪টি স্থানে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় করা ১১টি মামলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় দুর্গাপ্রতিমা ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফরিদপুরে ঐতিহ্যবাহী কালীমন্দিরে চুরি এবং সুনামগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও মন্দিরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। নওগাঁয় ডাকাতির খবর পাওয়ার কথাও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বলা হয়, সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে— এটাই তাদের প্রত্যাশা। ঈদ, পূজা, বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিমাসহ সব ধর্মীয় উৎসব যেন ভয়ভীতি ছাড়াই উদযাপন করা যায়, এমন অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তোলার ওপরও তাঁরা গুরুত্ব দেন।
এদিকে পূজা ঘিরে বিপণিবিতান ও স্থানীয় বাজারগুলোতেও বেড়েছে মানুষের আনাগোনা। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছেন ক্রেতারা। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরে উৎসব উদযাপনের পরিকল্পনা করছেন অনেকে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দুর্গোৎসব বাঙালির সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক মিলনমেলার উপলক্ষ হিসেবেও পরিচিত। এবারের দীর্ঘ ছুটির কারণে উৎসবে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৩৫৫টি। সেই হিসাবে এবারে মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৪৯৬টি। ঢাকা মহানগরে এবারে ২৫৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৬১টি।
পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন, সম্ভব হলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম রাখা এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসন্ন জলবায়ু সম্মেলন কপ ৩১-এ বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের উদ্দেশ্যে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, বাংলাদেশের বিশিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, গবেষক, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে কপ ৩১-এর কর্মপরিকল্পনা, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার এবং সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, কপ জলবায়ু কূটনীতির একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন, অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়।
তিনি ক্লাইমেট জাস্টিস এবং অ্যাকাউন্টিবিলিটি, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড, জাস্ট ট্রান্সজিশন এবং গ্রিন গ্রোথ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক আর্থিক তহবিলগুলো থেকে অনুমেয়, পর্যাপ্ত ও স্বচ্ছ অর্থছাড় নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া, সার্কুলার ইকোনমি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন। বিশেষভাবে, বাংলাদেশের টেকসই ও প্রাকৃতিক পচনশীল তন্তু পাটের সম্ভাবনা কপ ৩১-এ তুলে ধরা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনায় জলবায়ু বিশেষজ্ঞগণ কপ ৩১-এর বিভিন্ন আলোচ্যসূচিতে তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে মতামত দেন।
উল্লেখ্য, আগামী ৯-২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ-৩১ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসন্ন এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল উচ্চপর্যায়ের সেগমেন্ট এবং বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা অংশগ্রহণ করবে।
এছাড়া, সম্মেলনে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক, পচনশীল ও টেকসই প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ পাটকে তুলে ধরতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পাটজাত পণ্য, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি এবং এর বিপুল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার জন্য এ সম্মেলনে একটি বিশেষ প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে। পূর্বে এই পরীক্ষা ১০ অক্টোবর হওয়ার কথা ছিল।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কারণে তখন পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়েছিল। এর ফলে হাজারো চাকরিপ্রত্যাশীকে ঢাকায় এসে ফিরে যেতে হয়েছিল।
শুক্রবার অনুষ্ঠেয় পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য মন্ত্রণালয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক রাতের বেলায় সচিবালয়ে থেকে সার্বিক প্রস্তুতি তদারকি করছেন।
প্রশ্নপত্র যাতে কোনোভাবেই ফাঁস না হয়, সেজন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর আগপর্যন্ত সচিবালয়ে অবস্থান করছেন তিনি।
এছাড়া, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মুদ্রণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি, মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আশপাশের কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন।
গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের স্থগিত সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং পরীক্ষার তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ১০ অক্টোবর ১১টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগের লক্ষ্যে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষা গ্রহণের পূর্বে প্রশ্নপত্র বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁসের বিষয়টি নজরে আসায় এই নিয়োগ পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়েছে।
স্থগিতকৃত এই নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ও সময় ১৬ অক্টোবর বিকেল ৩টায় প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের এসএমএসের মাধ্যমে বিষয়টি পুনরায় অবহিত করা হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয় তদন্তের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ