০২:৫১ পি.এম
কাশ্মিরকে ভূ-স্বর্গ বলা হয়। কিন্তু পাকিস্তান সেই স্বর্গকে নরক বানিয়ে ফেলেছে।
জম্মু-কাশ্মিরে ভারতীয় জঙ্গী গোষ্ঠিকে মদদ দেয়ার পাশাপাশি পাকিস্তান সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরেও রক্তগঙ্গা বইয়ে দিচ্ছে। গত দুই দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩২ জন নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ৫ জুন থেকে ৩৮ দফার আন্দোলন শুরু হওয়ার পর কাশ্মিরে মৃতের সংখ্যা ৯০ পার হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, মৃতের সংখ্যা এ থেকেই অনেক বেশি।
পাকিস্তান সরকার শুধু নির্লজ্জভাবে আন্দোলনকারীদের হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি। হত্যার পক্ষে প্রকাশ্যে সাফাইও গাইছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এক্স (সাবেক টুইটার)এ ভাইরাল হয়ে যাওয়া একটি ভিডিওতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, 'আমি আজাদ কাশ্মীরের বিক্ষোভকারী ও ভারতকে একই কাতারে রাখি এবং তাদেরকেও ভারতের মতোই শত্রু মনে করি।' প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে হত্যার লাইসেন্স দেবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র
৩৮ দফার দাবিতে ৫ জুন থেকে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আন্দোলন শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি হলো কাশ্মিরের বাইরে অবস্থানকারী কাশ্মিরী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের। তাদের দাবি, এই সংরক্ষিত আসনকে সরকার কাশ্মিরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং ইচ্ছামত শাসন করছেন। আন্দোলনকারীদের দমন করতে সরকার নিষ্ঠুর নীতি গ্রহণ করেছে, পাশাপাশি খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের মতো জীবনরক্ষাকারী পণ্যের প্রবেশকে সীমিত বা পুরোপুরি বন্ধ করে ফেলেছে। ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা বন্ধ হওয়ার কারণে ব্যাংকিং ও এটিএম সেবার কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে।
এছাড়া, গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও কারফিউ জারি করে সরকার কাশ্মিরকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র মানবিক সঙ্কট তৈরি করেছে।
'জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি' নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে ইসলামাবাদ এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছে এবং এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে। গত দুই দিনের হত্যাযজ্ঞে নিহতদের মধ্যে অ্যাকশন কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য উমর নাজিরের ছোট ভাই উসমান নাজিরও রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন