বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৪ পি.এম
নরসিংদীর মাধবদীতে নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধা জাহানারা বেগমকে (৭৩) হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, স্বর্ণের চেইনের লোভে ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাধবদী থানা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান এ তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্ণনিগৈড় গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৭), একই গ্রামের ছায়েদের ছেলে কাদির মিয়া (২৭) ও আকমান মিয়ার ছেলে আবু মিয়া (২৯)।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, গত ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্ণনিগৈড় গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় নামাজরত অবস্থায় জাহানারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হৃদয় মিয়াকে ৯ আগস্ট, কাদির মিয়াকে ৩০ আগস্ট এবং আবু মিয়াকে ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, নিহত জহুরা খাতুনের গলার সোনার চেইন চুরির উদ্দেশ্যে প্রায় ৭-৮ মাস আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় বসে পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন, ৩০ জুলাই বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে তারা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে আসামিরা জহুরা খাতুনের বাড়িতে প্রবেশ করে। তিনি নামাজরত অবস্থায় থাকাকালে তাদের হামলার শিকার হন। বিদ্যুৎ ফিরে আসলে আসামিরা চিনে ফেলে এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠ ও মাথায় আঘাত করা হয়। এরপর তারা তার গলার সোনার চেইন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, লুণ্ঠিত সোনার চেইন উদ্ধার ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন এবং মাধবদী থানার ওসি মো. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারে আজিজুল মিয়া হত্যা মামলায় আদালত দুই সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। এ মামলায় চার আসামিকে খালাসও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক ফাহমিদা খাতুন এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সহোদররা হলেন রাজনগর উপজেলার মুনিয়ারপাড় গ্রামের রুবেল মিয়া ও রুমান মিয়া।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিতদের মধ্যে রয়েছেন একই গ্রামের জয়নাল আবেদীন ও রিপন মিয়া।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত আজিজুল মিয়া (৪৫) স্থানীয় পঞ্চায়েতের সালিশ বিচারক ছিলেন। ২০১৩ সালে একটি বিচার-সালিশকে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর ফলস্বরূপ, আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে আজিজুল মিয়ার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাবেয়া বেগম রাজনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের পর আদালত রুবেল মিয়া ও রুমান মিয়াকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। হত্যাকাণ্ডে সহায়তার দায়ে জয়নাল আবেদীন ও রিপন মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত স্বপন মিয়া, জহির মিয়া, কমরু মিয়া ও ফয়ছল মিয়াকে খালাস দেয়।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির মধ্যে রুবেল মিয়া ও রিপন মিয়া ছাড়া অন্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন।
অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী ও স্বজনরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মৌলভীবাজার জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ মন্তব্য করেছেন, "এ রায়ের মাধ্যমে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। অপরাধ করে কেউ আইনি সাজা থেকে রেহাই পাবে না—এ রায় তারই দৃষ্টান্ত।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স মন্তব্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বাংলাদেশে তরুণরা নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ সৃষ্টি করবে, যেখানে রাষ্ট্র জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে এবং রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হবে মানুষের কল্যাণ।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজির ভিটা ইউনিয়নের বুরাঘাট চৌরাস্তায় অনুষ্ঠিত ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রিন্স আরও বলেন, নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এখন সরকারের প্রধান রাজনৈতিক দায়িত্ব। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দেশে ও বিদেশে ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, যুবকদের উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ব্যবসার সম্প্রসারণ, এবং নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা, নতুন কল কারখানা স্থাপন, বন্ধ কারখানা চালু, দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের দ্রুত বিকাশ, কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রবৃদ্ধি, আমদানি বিকল্প পণ্য তৈরি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় নারী উদ্যোক্তা, কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে নতুন উদ্যোক্তা, এবং পল্লী অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
তরুণ সমাজকে তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রিন্স বলেন, তিনি তরুণদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের রাজনীতি করছেন। তার লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং কর্মসংস্থান, উৎপাদন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক মর্যাদার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা।
অনুষ্ঠানের আয়োজক ক্লাবের সভাপতি রাসেল মিয়ার সভাপতিত্বে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব সুরুজ্জামান সাগর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান উদ্দিন, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব তাজবীর হোসেন অন্তর, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল গনি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এদিকে, ফ্রেন্ডস জোন ক্লাব আয়োজিত মাদক বিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টে বোয়ালমারা গ্রাম বনাম মন্ডল বাজার গ্রামের মধ্যে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় মন্ডল বাজার গ্রাম চ্যাম্পিয়ন হয়। খেলা শেষে এমরান সালেহ প্রিন্স চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ টিমসহ অন্যান্যদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত এসআই (নিরস্ত্র) মো. আলতাফ হোসেনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি ৫ সেপ্টেম্বর সাভারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন।
মরহুমের পরিবারের সদস্যরা আজ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে আইজিপি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তাদেরকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
আইজিপি এ সময় মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, "দায়িত্ব পালনকালে এসআই (নিরস্ত্র) মো. আলতাফ হোসেনের আত্মত্যাগ পেশাগত কর্তব্যনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা তার অসামান্য অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
এছাড়া, তিনি পরিবারটিকে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার নিশ্চয়তা প্রদান করেন এবং আলতাফের আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক প্রাপ্তির যোগ্য বলে উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামীকাল আইন কর্মকর্তাদের জন্য নৈতিকতা বিষয়ক উচ্চতর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত আইন কর্মকর্তাদের জন্য নৈতিকতা সংক্রান্ত একটি উচ্চতর প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে জাতিসংঘ ও ইউএনডিপি’র সহায়তায়, যার শিরোনাম হলো 'বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের জন্য প্রসিকিউটরিয়াল এথিক্সের নীতি ও অনুশীলনকে শক্তিশালী করা'।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত সততা, স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করা। প্রশিক্ষণে দুর্নীতি, ঘুষ, দায়িত্বে অবহেলা, নথি গোপন করা অথবা বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে সর্বদা শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লেখ করেন, এই প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, ঘুষ, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ায় অনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য কোনো স্থান থাকবে না। তিনি বলেন, "আমাদের অঙ্গীকার—সততা, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।"
ঢাকাস্থ হোটেল হলিডে ইন-এ প্রধান অতিথি হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এই দু’দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করবেন অ্যাটর্নি-জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত ১৬০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ