বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৫০ পি.এম
ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, সরকার প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যদি প্রান্তিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার দৌলতপুরে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই সকল খামারিকে কৃষক কার্ডের আওতায় নিয়ে এসেছেন। তাদের কীভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে উন্নত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা যায়, সে লক্ষ্যেই ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই ফুটানো বা হ্যাচিং ডিম নাইজেরিয়ায় রপ্তানি করেছি। আমরা এর উৎপাদন আরও বাড়াতে চাই। এই খাতটিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি এবং প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সার্বিক নজরদারি রাখছেন। আশা করছি, প্রান্তিক পর্যায়ে খামারির সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়বে এবং নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে।’
তরুণদের এই খাতে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজ যাতে এ খাতে এগিয়ে আসে, সে জন্য তাদের অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক তরুণ খামার তৈরি করে সফলতা পেয়েছেন। সরকার তাদের ঋণ সুবিধাসহ সার্বিক সহায়তা প্রদান করছে। এই খাতের সার্বিক অগ্রযাত্রায় তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
খুলনার দৌলতপুর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই খামারের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে খুলনার মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন।’
এ সময় খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমানসহ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম প্রায় তিন বছর ধরে থমকে রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন যে, চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে। তবে অক্টোবর মাসেও এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সহকারী প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা আগামী ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) প্রথমবারের মতো এই নিয়োগ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। এই কারণে বর্তমানে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা নেই।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নতুন শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শ রয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হলে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন বা ৯ম শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া এই নিবন্ধনে কিছু পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সম্পন্ন করতে সময় লাগবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘১৯তম বা ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। ভাইভার নম্বর বাড়াতে হলে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। তাই নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে কিছুটা সময় লাগবে।’
চলতি মাসে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সম্ভাবনা নেই। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা আসলে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মধ্য তাহিরপুর, বীরনগর, জয়নগর ও ধূতরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান কামরুল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উভয় পক্ষের লোকজন আবারও লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিলে এমপি কামরুজ্জামান কামরুল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজেও লাঠি হাতে নিয়ে উত্তেজিত লোকজনকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি দুই পক্ষের মানুষের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন এবং শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) শিশুদের ক্রিকেট খেলার সময় একটি বল অটোরিকশায় পড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং চার গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের সময় বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। একটি বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে আবারও উত্তেজনা দেখা দিলে এমপি কামরুজ্জামান কামরুল ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলার পর দুই পক্ষের লোকজন নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও দোকানপাটও পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন।
তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে “Bridging Academia and Industry for Sustainable Development: Research Excellence, Innovation and Industrialization” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (IQAC)-এর উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শওকাত আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যকার সেতুবন্ধন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দক্ষতা ও জ্ঞান বৃদ্ধি করা, যাতে ক্লাসরুমের শিক্ষার সাথে শিল্পের চাহিদার মেলবন্ধন ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা যায়। গত ১৭ বছর ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে নানা দুর্নীতি ও দুঃশাসন দেখা গেলেও মানবসম্পদ উন্নয়নে তেমন কোনো অর্থপূর্ণ পরিবর্তন হয়নি।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা করালেই হবে না, শিক্ষার্থীদের শিল্পের কাছাকাছি বা ইন্ডাস্ট্রির চাহিদার সাথে যুক্ত করতে হবে, অন্যথায় দক্ষ মানবসম্পদ ও কর্মসংস্থান তৈরি অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারে আরও দক্ষ করে তুলতে তিনটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্স চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। এ লক্ষ্যেই আগামী জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ICT (Information and Communication Technology & AI (Artificial intelligence), Employability Skill এবং Ethics and Professionalism—এই তিনটি বিশেষ কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কোর্স শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে।
সভাপতির বক্তব্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, একটি আধুনিক ও টেকসই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট জ্ঞান ও উদ্ভাবন যেন দেশের মানুষের কল্যাণে এবং জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বেরোবি গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। সেমিনারে বেরোবি আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ তাজুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সেমিনারে আলোচনা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর সাথে ৭টি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলি হলো- রংপুর গ্রুপের তিস্তা ইউনিভার্সিটি ও রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ (RCMC), সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন (SAF), করুপণ্য রংপুর লিমিটেড, ওডু মিডল ইস্ট ডিএমসিসি লিমিটেড, জবলেটিক বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস, ঢাকা। এছাড়া বেরোবি'র সাথে ইতোপূর্বে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ১৬ টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে করা বিভিন্ন কার্যক্রমের বর্ণনা দেন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও কর্মক্ষতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। যার মধ্যে প্রিমিয়াম ফ্রুটস, আলফাটেক, মিডিয়া রিসোর্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই), ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ, জনতা ব্যাংক, রংপুর লালবাগ শাখা, রুপালি ব্যাংক রংপুর তেতুলতলা শাখা উল্লেখযোগ্য। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উৎসবমুখর, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপনের লক্ষ্যে ঝালকাঠিতে এক উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিন উদ্দিন। আসন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপপ্রচার রোধ এবং মাঠপর্যায়ে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে বহুমাত্রিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়।
উৎসবে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সভায় বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে:
* সমন্বিত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা: পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি সরকারের শীর্ষ তিন গোয়েন্দা সংস্থা—এনএসআই (NSI), ডিজিএফআই (DGFI) এবং এসআরবি (SRB)-এর মাঠপর্যায়ের নজরদারি ও গোয়েন্দা সমন্বয় জোরদার করা হবে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
* সাইবার সিকিউরিটি ও গুজব প্রতিরোধ: উৎসবের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উস্কানি, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সব ধরনের অপপ্রচার কঠোরভাবে প্রতিহত করতে বিশেষ সাইবার মনিটরিং সেল সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
* ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ: সভায় ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নামাজের সময় পূজামণ্ডপগুলোতে বাদ্যযন্ত্র ও উচ্চ শব্দ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
* অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি সাড়াদান: প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফায়ার সেফটি বা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে লজিস্টিকস টিম প্রস্তুত থাকবে।
* নারী ও শিশুদের সুরক্ষা: পূজার সময় দর্শনার্থী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মণ্ডপ প্রাঙ্গণে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কড়া নজরদারি থাকবে।
* পরিষেবা ও যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ: পূজার দিনগুলোতে জেলাজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসন ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, চলতি বছর ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলায় সর্বমোট ১৬০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। উপজেলা ভিত্তিক মণ্ডপের সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো: সদর উপজেলা: ৭২টি, কাঠালিয়া উপজেলা: ৪৭টি,
নলছিটি উপজেলা: ২২টি, রাজাপুর উপজেলা: ১৯টি।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তাবৃন্দ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সমন্বয় নিশ্চিত করতে সভায় জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজ মেরিন সুলতানা, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব মোঃ কাওছার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. বশির গাজী, এসআরবি, এনএসআই, ডিজিএফআই-এর প্রতিনিধিবৃন্দ; জেলা কমান্ড্যান্ট (আনসার ও ভিডিপি); বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দপ্তরপ্রধান এবং জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, "বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবেই বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। সকলের সম্মিলিত ও সচেতন প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও শান্তির বন্ধনে একটি আনন্দময় ও উৎসবমুখর আয়োজনে পরিণত হবে।
সভায় উপস্থিত সকল অংশীজন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রশাসনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও স্থানীয় জনগণের সম্প্রীতির মেলবন্ধনে এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ