০৫:৪১ পি.এম
আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্ণ করল। ইতিহাসের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদযাপনের মধ্যেই দেশটি তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। আর এই উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছেন।
এবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এমন এক সময় ঘটছে, যখন ভয়াবহ তাপপ্রবাহ থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৬ কোটি মানুষ বড় ধরনের বা চরম তাপ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশের বিভিন্ন শহর ও জনপদে আয়োজিত প্যারেড, ব্লক পার্টি এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলো ব্যাহত হচ্ছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
আরও পড়ুন: পারস্য উপসাগরে মাইনের আঘাতে দ্বিতীয় সুপারট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন
তবে প্রচ- গরমও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিরুৎসাহিত করতে পারেনি। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে তিনি নির্বাচনী প্রচারণার আদলে একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ করার পরিকল্পনা করেছেন।
এ ছাড়া, এ উপলক্ষে অন্যান্য বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে সামরিক যুদ্ধবিমানের প্রদর্শনী থাকবে এবং ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতশবাজির আয়োজন হবে।
এই বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ তাপমাত্রা প্রায় ১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) হবে। এরপরেও আমি সেখানে যাব এবং অনেক দীর্ঘ সময় ধরে ভাষণ দেবÑশুধু এটা দেখানোর জন্য যে, আমি সবকিছুই করতে পারি।’
এর আগে শুক্রবার রাতে তিনি সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোর জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভাষণ দেন। সেখানে চারজন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশাল ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, নেতৃত্ব এবং ব্যতিক্রমী অর্জনের প্রশংসা করেন।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে তেলের দাম বেড়ে ১১০ ডলারে পৌঁছেছে
ট্রাম্প ভাষণে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয় আবারও আক্রমণের মুখে পড়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ ‘উগ্রপন্থি’ ও ‘চরমপন্থিদের’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আবারও কমিউনিস্ট হুমকির পুনরুত্থান ঘটছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থানে থাকা প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রাইমারি নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প এ ধরনের বক্তব্য জোরালোভাবে তুলে ধরছেন।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বামপন্থীদের উত্থানকে ‘কমিউনিস্টদের অগ্রযাত্রা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় একটি হুমকি বলে দাবি করেন।
শুক্রবারের ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমাদের ভেতর থেকে আমেরিকান চেতনাকে দুর্বল করে দেওয়ার এবং আমাদের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য
যদিও এ ভাষণে অতীতের কিছু বক্তব্যের মতো তীব্র অভিবাসীবিরোধী ভাষা তিনি ব্যবহার করেননি, তবে তার মূল বার্তা ছিল একই। তিনি বলেন, ‘আপনার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে না-ও হতে পারে, কিন্তু আমরা যা গড়ে তুলেছি, সেটিকে অবশ্যই ভালোবাসতে হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন